Inqilab Logo

বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ০২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৮ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

ফের বন্যার পদধ্বনি

উজানে উত্তর-পূর্ব ভারতে ও দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টিপাত : বাড়ছে অধিকাংশ নদ-নদীর পানি সিলেট-সুনামগঞ্জে আবারো বন্যার অবনতির আশঙ্কা : তিস্তায় গজলডোবা বাঁধের পানি ছেড়ে দিয়েছে ভারত

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ৩০ জুন, ২০২২, ১২:০২ এএম

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি পুরোপুরি না নামতেই আবারও বন্যার পদধ্বনি দেখা দিয়েছে। এলাকাভেদে এক থেকে তিন দফা বন্যা কবলিত হচ্ছে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা। উজানে উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম, মেঘালয়, হিমালয় পাদদেশের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিমে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উজান থেকে অবিরাম আসছে ঢল। তিস্তা নদীর উজানে আবারো গজলডোবা বাঁধের পানি ছেড়ে দিয়েছে ভারত। গতকাল বিকাল নাগাদ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। দ্বিমুখী ভারী বর্ষণের ফলে অধিকাংশ প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আবারো অবনতির আশঙ্কার কথা জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তাছাড়া নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

গতকাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, প্রধান নদ-নদীসমূহের ১০৯টি পানির সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৩৯টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি, ৬৬টিতে হ্রাস পায়। ৪টি স্থানে পানি অপরিবর্তিত ছিল। এরমধ্যে তিস্তাসহ ৮টি নদ-নদী ৯টি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অথচ এর আগেরদিন মঙ্গলবার নদ-নদীসমূহের ২১টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি, ৮৩টিতে হ্রাস ও ৫টি স্থানে পানি অপরিবর্তিত ছিল। ৫টি নদ-নদী ৬টি স্থানে বিপদসীমার ঊর্ধ্বে ছিল।

বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর অবস্থা সম্পর্কে পাউবো’র উক্ত কেন্দ্র জানায়, পদ্মা ও কুশিয়ারা ব্যতীত দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহের পানির সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং এর সংলগ্ন ভারতের আসাম, মেঘালয়, হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ (জলপাইগুড়ি), সিকিমের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদীসমূহের (তিস্তা, আপার আত্রাই, ধরলা, দুধকুমার, আপার করতোয়া, ট্যাঙ্গন, পুনর্ভবা, কুলিখ) পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

গতকাল বিকাল নাগাদ তিস্তা নদী ডালিয়া পয়েন্টে এবং দুধকুমার নদীর পাটেশ^রী পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করে। তাছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদী কুড়িগ্রাম পয়েন্টে এবং করতোয়া নদী পঞ্চগড় পয়েন্টে বিপদসীমার উপরে অথবা কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে।

গতকাল ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের প্রধান নদ-নদী অববাহিকার উজানে উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরমধ্যেÑ পাসিঘাট (অরুণাচল) ১৮৩ মিলিমিটার, জলপাইগুড়ি (পশ্চিমবঙ্গ) ৯৭ মি.মি., চেরাপুঞ্জি (মেঘালয়) ৯৬ মি.মি., দিব্রুগড় (আসাম) ৮২ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর আগেরদিন মঙ্গলবার পাসিঘাটে ২১১ মি.মি., জলপাইগুড়িতে ২০৮ মি.মি., চেরাপুঞ্জিতে ২শ’ মি.মি., গ্যাংটকে (সিকিম) ১২৭ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে।

গতকাল ২৪ ঘণ্টায় দেশের নদ-নদী এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছেÑ সুনামগঞ্জে ১৯৬ মি.মি., সিলেটের লালাখালে ১৯৫ মি.মি., জাফলংয়ে ১৭৭ মি.মি., ছাতকে ১৭৫ মি.মি., নীলফামারী জেলার ডালিয়ায় ১৪৮ মি.মি., কুড়িগ্রাম জেলার পাটেশ^রীতে ১৩৭ মি.মি., পঞ্চগড়ে ১২৯ মি.মি., সিলেটে ১২৮ মি.মি., সিলেটের কানাইঘাটে ১১৫ মি.মি.।

গতকাল বিকাল পর্যন্ত বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীসমূহ হচ্ছে- তিস্তা নদী ডালিয়া পয়েন্টে, পাটেশ^রী পয়েন্টে দুধকুমার নদী, সুরমা নদী সিলেটের কানাইঘাটে, কুশিয়ারা নদী অমলশীদ ও শেওলা পয়েন্টে, পুরাতন সুরমা নদী দিরাইয়ে, বাউলাই নদী খালিয়াজুড়িতে, সোমেশ^রী নদী কলমাকান্দায় এবং তিতাস নদী ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায়। তাছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে হাতিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার মাত্র ৩ সেন্টিমিটার নিচে, ধরলা নদী কুড়িগ্রামে মাত্র এক সে.মি. নিচে, সুরমা নদীর পানি বেড়ে গিয়ে সিলেটে বিপদসীমার মাত্র ৬ ও সুনামগঞ্জে ১২ সে.মি. নিচে অবস্থান করছিল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ