Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯, ১০ মুহাররম ১৪৪৪ হিজরী

দুই জনের যাবজ্জীবন

১৭ বছর পর হত্যা মামলার রায়

খুলনা ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ১ জুলাই, ২০২২, ১২:১১ এএম

খুলনার খানজাহান আলী থানার মাত্তমডাঙ্গা শ্রীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুনজীর আহমেদ ওরফে মুনজীর মাষ্টার হত্যা মামলায় ২ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিস্ফোরক অংশে ওই দুই আসামিকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তরা হল- খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন গিলাতলা ১নং কলোনীর মো. সরোয়ার হোসেন ওরফে সানোয়ারের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও একই এলাকার মো. গোলাম জিলানী মল্লিকের ছেলে মো. আশরাফ আলী। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদা খাতুন এ রায় ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর পর এ রায় ঘোষণা হল। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলার ৬ জন আসামির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, মুনজীর মাষ্টার মাত্তমডাঙ্গা এলাকার শ্রীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

এছাড়া তিনি খানজাহান আলী থানার তৎকালীন বিএনপি সভাপতি ও স্থানীয় এজিএম যুব সংঘের সদস্য ছিলেন। ২০০০-২০০৬ সাল পর্যন্ত খুলনার মানুষ সবসময় চরমপন্থীদের আতঙ্কে দিন পার করত। এরই মধ্যে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির কয়েকজন নেতা মুনজীর মাষ্টারের কাছে চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় তারা। তাকে হত্যার করারও হুমকি দেয়া হয়। ২০০৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মুনজীর মাষ্টার মাত্তমডাঙ্গা যুব সংঘের ভেতরে গিয়ে অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা বলছিলেন।

রাত সোয়া ৯টার দিকে প্রধান ফটক দিয়ে কয়েকজন সন্ত্রাসী যুব সংঘের ভেতরে প্রবেশ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক বোমা নিক্ষেপ করতে থাকে। এরমধ্যে দু’টি বোমা মুনজীর মাষ্টারের হাতে পিঠে লাগে। মারাত্মক আহত অবস্থায় যুব সংঘের অন্যান্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান। তবে মারা যাওয়ার আগে তিনি ভাই বেনজীর আহমেদের কাছে সব ঘটনার বিবরণ বলে যান।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের বড় ভাই অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে খানজাহান আলী থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুইটি মামলা দায়ের করেন। হত্যা ও বোমা অংশের তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন খানজাহান আলী থানার এস আই মো. ফারুকুল ইসলাম। তিনি একই বছরের ১২ ডিসেম্বর বোমা ও ২০০৬ সালের ৩০ জুন মুনজীর মাষ্টার হত্যাকাণ্ডের মামলায় মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে দাউদ, মঈন ও নেয়ামুল ইসলাম কুটি ক্রসফায়ারে নিহত হয়। অপরদিকে আরেক আসামি আরিফুর রহমানকে রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ