Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯, ১২ মুহাররম ১৪৪৪

অপ্রশস্ত সড়কে ভোগান্তি

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর-মদনপুর সড়কের বেহাল দশা

মো. খলিল সিকদার, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে | প্রকাশের সময় : ২ জুলাই, ২০২২, ১২:০২ এএম

নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার মদনপুর ও এর আশপাশের সড়কগুলোর বেহাল দশায় চরমে উঠেছে যাত্রীদের ভোগান্তি। শুধু তাই নয়, অপ্রশস্ত সড়কের কারণে প্রতিদিন যানজটসহ চলাচলকারীদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একদিকে রাজধানীর যানজট নিরসনে তৈরী করা ঢাকা বাইপাস সড়কের ৮ লেনে উন্নীতকরণ কাজ এগুচ্ছে দ্রুত গতিতে। এ সড়কটি অপ্রশস্ত থাকায় আর মেয়াদহীন কাঞ্চন সেতুতে টোল আদায়ের কারণে নির্মাণকাজসহ পরিবহণ চলাচলে যানজটে নাকাল পরিস্থিতি নিত্যদিনের। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) নির্মাণাধীন গাজীপুরের ভোগরা থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা হয়ে সোনারগাঁওয়ের মদনপুর পর্যন্ত ৪৮ কি.মি. দীর্ঘ এ ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পর থাকবে না এমন ভোগান্তি।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের একমাত্র সড়ক মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়ক। বন্দরে রয়েছে সিমেন্ট, বিদ্যুৎ, তুলা, ডকইয়ার্ড, খাদ্য, পানীয়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন শিল্প-কারখানা। সাড়ে তিন লাখ মানুষ ও এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে বন্দরের এই প্রধান সড়ক দিয়ে। অথচ গত ৮ বছরেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি সড়কটিতে। ১৪ কি.মি. দীর্ঘ সড়কটির পুরোটাই গর্ত আর খানাখন্দে ভরা। ঝুঁকি নিয়েই চলছে সাধারণ মানুষ, শ্রমিক ও যানবাহন।
নারায়ণগঞ্জ সওজ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে গাজীপুরের ভোগরা থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের ভিত্তিতে প্রায় ৩ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮ কি.মি. দীর্ঘ ঢাকা বাইপাস নির্মাণ হচ্ছে। যা ৮ লেনের সড়ক হবে। যাতে নির্মাণের পর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পরবর্তি ২৩ বছর পর্যন্ত টোল আদায় করতে পারবে।
সওজ বিভাগের সচিব নজরুল ইসলামের কাছে মোবাইলে নির্মাণ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যানজটের কবল থেকে রাজধানীবাসী ও আশপাশের জেলার দুর্ভোগ কমাতেই ঢাকা বাইপাস নির্মাণ করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ সদরের তানভীর আহমেদ ফয়সাল বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আমদানিকৃত পণ্য উত্তরবঙ্গ পাঠাতে হলে রাজধানীর ওপর দিয়েই যেতে হয়। আর রাজধানীর যানজটে প্রতিদিন অপচয় হয় হাজারো কর্মঘণ্টা। এতে চাপ পড়ে দেশের অর্থনীতির ওপর। অথচ ঢাকা বাইপাসের মাধ্যমে এ সমস্যা দূর হওয়ার কথা ছিল।
এদিকে সওজ সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় মদনপুর থেকে কড্ডা পর্যন্ত মূল এক্সপ্রেস সড়ক হবে চার লেনের। এর বাইরে সড়কের দুই পাশে থাকবে আরো দুটি লেন। এগুলোর প্রশস্ততা হবে দেড় লেন করে। প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরের ভোগড়া, মিরেরবাজার, বস্তুল, ধীরাশ্রম ও কাঞ্চন সেতুর আগে নির্মাণ করা হবে পাঁচটি ফ্লাইওভার। ২৫টি আন্ডারপাস। যেহেতু সড়কের একটা বড় অংশ যাবে পূর্বাচলের ওপর দিয়ে, সে কারণে আন্ডারপাসকেই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। কাঞ্চনে শীতলক্ষ্যা নদীর চার লেনের সেতুসহ তিনটি বড় সেতু নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর একটি উলুখোলা ও অন্যটি নাগদায় এলাকায়।
এদিকে যানজটের মূল কারণ হিসেবে দায়ী করছেন স্থানীয় সড়কগুলোর অপ্রশস্ততাকে। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের গাড়ীগুলো একসঙ্গে ঢাকা বাইপাসের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করে। এতে যানজট তৈরী হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের করা চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেটের সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের সরাসরি সংযোগ স্থাপনরে জন্য কাঞ্চন সেতুটি নির্মাণ করা হয় ২০০৬ সালের অক্টোবরে। সে সময় উদ্বোধনের পরবর্তি ১০ বছর পর্যন্ত টোল আদায় করার কথা বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী ২০১৬ সালে টোল আদায়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত ৬ বছর ধরে চলছে টোল আদায় ।
এ অঞ্চলের ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলাম বলেন, সড়ক অপ্রশস্ত থাকায় এ সমস্যা হয়েছে। যেহেতু কাজ চলমান সেহেতু সুফল পেতে জনসাধারণের অপেক্ষা করতে হবে। কাঞ্চন সেতু প্রকল্প ও টোলপ্লাজার পরিচালক মোহাম্মদ শামীমুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে দায়িত্ব পেয়েই টোল আদায় কাজে নিয়োজিত আছি।
সূত্র জানায়, এশিয়ান বাইপাস ছাড়াও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোও ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শিল্পকারখানা বেড়ে যাওয়ায় এসব সড়কের গুরুত্ব বেড়েছে। ফলে ভারী যান চলাচল অব্যাহত আছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বন্দরের এক সময়ের রেললাইনটিই মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়ক হিসেবে গড়ে উঠেছে। সড়কটি সর্বশেষ সংস্কার করা হয়েছিল ২০১০ সালে। প্রধানমন্ত্রীর মদনগঞ্জে আগমনকে কেন্দ্র করে ওই সংস্কারের পর এদিকে আর মুখ ফিরে তাকায়নি সড়ক ও জনপথ বিভাগ। দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলায় থাকার কারণে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্য দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বন্দরের সাড়ে তিন লাখ মানুষকে। বন্দরে গড়ে ওঠা বসুন্ধরা সিমেন্ট, আকিজ সিমেন্ট, সিমেক্স সিমেন্ট, সামিট পাওয়ার প্লান্ট, এসিআই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড, মেরিন ইনস্টিটিউট, তিন শতাধিক তুলা কারখানা, খাদ্যগুদামসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানার গাড়িগুলোকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফরাজিকান্দা এলাকায় সড়কটির দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে সরু হয়ে গেছে। সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট। একই অবস্থা নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড ও হাজীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডেও। নয়াপাড়ায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। বাগবাড়ী এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে সড়কের অবস্থা আরো ভয়াবহ। ধামগড় ইস্পাহানি এলাকার অবস্থাও খুব খারাপ। একই অবস্থা কুড়িপাড়া, চৌরাপাড়া এলাকাতেও। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা জুড়ে কাদা জমে যায়। মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর মোড়ে এসে মিশেছে। এ মোড়ে চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। অটোরিকশা, বেবি-ট্যাক্সির অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। ফলে এ এলাকায় যানজট লেগেই থাকে, যার রেষ পড়ে মহাসড়কেও।
বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল বলেন, তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু হলে এ সড়ক দিয়েই রাজধানীর ওপর কোনোরূপ চাপ না ফেলেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গাড়িগুলো বৃহত্তর সিলেট ও চট্টগ্রামে যাতায়াত করতে পারবে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহা. জহিরুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, আউট সোর্সের মাধ্যমে কাঞ্চন ব্রিজের টোল আদায় করা হচ্ছে। এটাকে পিপিপি প্রকল্পের আঁওতায় নিয়ে এ টোল আদায় অব্যাহত থাকবে। আর কাঞ্চন সেতুতে সরকারের সিদ্ধান্তেই টোল আদায় করা হচ্ছে। আমরা তদারকি করছি মাত্র। আরো যেসব সড়কে সমস্যা হচ্ছে তা সমাধানের কাজ চলমান রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সড়ক

৮ আগস্ট, ২০২২

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ