Inqilab Logo

রোববার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৫ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

দক্ষিণাঞ্চলে করোনা সংক্রমন নতুন করে ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন সহ বুষ্টার ডোজ কার্যক্রম জোরদারের তাগিদ

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২ জুলাই, ২০২২, ৫:৪১ পিএম | আপডেট : ৫:৫৪ পিএম, ২ জুলাই, ২০২২

দক্ষিণাঞ্চলের ১২ বছরে ঊর্ধের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের আওতায় আসলেও গত ১৫ জুনের পর থেকে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় গত মর্চে ১২০ জন, এপ্রিলে ৭ জন এবং মে মাসে ৩ জনের দেহে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলেও সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে ১৭১ জন কোভিড-১৯’এ আক্রান্ত হয়েছেন। এমনকি জুলাইয়ের প্রথম দুদিনেই আরো ৯৪ জনের দেহে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। তবে গত মধ্য এপ্রিলের পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও করোনায় মৃত্যু সংবাদ না থাকলেও ইতোমধ্যে এ প্রাণঘাতি রোগে মারা গেছেন ৬৯০ জন।

২০২০-এর মধ্য মার্চের পর থেকে ২০২২-এর ২ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ৫২ হাজার ৯৬৭ জনের দেহে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৫১ হাজার ৮৬৪ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমিত হিসেবে বলা হয়েছে। তবে গত ১৫ জুনের পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের সর্বাধীক আক্রান্ত বরিশালেই শনাক্তের হার প্রায় ৫০%-এর কাছে বলে জানা গেছে। গত বছর জুলাই মাসের কোন কোন দিন বরিশালে শনাক্তের হার ৭৪%-এরও বেশী ছিল।
এখনো দক্ষিণাঞ্চলে সর্বাধীক আক্রান্তের হার মহানগরী সহ বরিশাল জেলাতেই। সরকারী হিসেবে মহানগরীতে সাড়ে ১২ হাজারেরও বেশী আক্রান্ত নিয়ে এ জেলাতে মোট সংখ্যাটা এখন ২১ হাজার ৩৯৫ জন। এমনকি নগরীতে ১০৩ জন সহ জেলাটিতে মৃতের সংখ্যা ২৩৫। গত ১ জুন থেকে ২ জুলাই সকাল পর্যন্ত বরিশাল জেলায়ই আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৭২ জনে। এরমধ্যে জুলইয়ের প্রথম দু দিনে দক্ষিণাঞ্চলে আক্রান্ত ৯৪ জনের মধ্যে ৬৯ জনই বরিশাল জেলায় । যারমধ্যে মহানগরীতে সংখ্যাটা ৬০জনের মত।
আক্রান্তের সংখ্যায় বরিশালের পরের অবস্থানে রয়েছে দ্বীপজেলা ভোলা। এ জেলাটিতে ইতোমধ্যে ৭ হাজার ৮৯০ জন আক্রান্তের মধ্যে ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পটুয়াখালীতেও ৭ হাজার ৫৫ জন আক্রান্তের মধ্যে ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনা সংক্রমনে। পিরোজপুরে ২ জুলাই সকাল পর্যন্ত ৬ হাজার ৩২২ জন আক্রান্তের মধ্যে ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের সব চেয়ে ছোট জেলা ঝালকাঠীতেও প্রতিবেশী বরিশালের সাথে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। জেলাটিতে গত দু দিনে ৬ জন সহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫ হাজার ৬২৩ জনে। সর্বাধিক শনাক্তের হারের এ জেলায় ইতোমধ্যে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সর্বাধিক মৃত্যু হারের বরগুনাতেও গত দুদিনে ৩ জন সহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৬২৩ । জেলাটিতে ইতোমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের।
অপরদিকে ১ কোটি জনসংখ্যার দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় জুনের শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত ৬৯ লাখ ১০ হাজার ৫৫৩ জন করেনা প্রতিষেধক ভ্যাসিনের প্রথম ডোজ গ্রহন করলেও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৬০ লাখ ২৫ হাজারের মত। এমনকি গত মাসে এক সপ্তাহের ক্যাম্পেইনে প্রায় পৌনে ৭ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার পরেও দক্ষিণাঞ্চলের ৪২ উপজেলায় বুষ্টার ডোজ গ্রহনকারীর সংখ্যা এখনো মাত্র ১৫ লাখেরও নিচে বলে জানা গেছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞগন অবিলম্বে সবাইকে মাস্ক ব্যাবহার সহ সব ধরনের স্বাস্থ্য বিধি অনুসরনের তাগিদ দিয়ছেন। অবিলম্বে স্বাস্থ্য বিভাগ সহ পুলিশ ও প্রশাসন কঠোর অবস্থান গ্রহন না করলে আসন্ন ঈদ উল আজহায় যে ১০ লক্ষাধিক মানুষ দক্ষিণাঞ্চলে আসবেন এবং পশুর হাটের ব্যাপক জনসমাগমে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ভয়াবহ ঝুকি সৃষ্টি করতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন। পরিস্থিতির অবনতি রোধে বুষ্টার ডোজ কার্যক্রম আরো যোরদারেরও তাগিদ দেয়া হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ