Inqilab Logo

শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ০৫ ভাদ্র ১৪২৯, ২১ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

ইসলামী শিক্ষাকে সঙ্কুচিত করা চরম আত্মঘাতী

বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ জুলাই, ২০২২, ৮:৩১ পিএম

সিলেবাস থেকে ইসলামকে বাদ দেয়ার জন্য সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে দেশ ও ইসলাম বিরোধী শক্তিগুলো। পাঠ্যপুস্তক ও জাতীয় শিক্ষাক্রম থেকে ইসলামী শিক্ষাকে সঙ্কুচিত করা চরম উদ্বেগজনক বিষয়। এটি জাতি বিনাশী, জাতি বিধ্বংসী ও চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। যে কোনো মূল্যে ইসলামী শিক্ষা মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। আজ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ : হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের শিক্ষাখাত নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। সিলেবাস থেকে ইসলামকে বাদ দেয়ার জন্য সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে দেশ ও ইসলাম বিরোধী শক্তিগুলো। তারা সুকৌশলে দেশের শিক্ষাখাত থেকে ইসলামকে মুছে ফেলতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগেও শিক্ষানীতিতে ইসলামকে হটিয়ে হিন্দুত্ববাদ প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালিয়েছে একটি গোষ্ঠী। সেবার শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) ও আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী (রহ.)এর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলামসহ দেশের ইসলামপন্থী তৌহিদী জনতার প্রতিবাদের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় ষড়যন্ত্রকারীরা। করোনার অজুহাতে গত দুই বছর ইসলাম শিক্ষার পরীক্ষা নেয়া হয়নি। শুনা যাচ্ছে নতুন শিক্ষানীতিতে ইসলাম শিক্ষাকে বাদ দিয়ে কথতি নৈতিক শিক্ষা প্রবেশ করানো হচ্ছে।
পাঠ্যপুস্তক ও জাতীয় শিক্ষাক্রম থেকে ইসলামী শিক্ষাকে সঙ্কুচিত করা চরম উদ্বেগজনক বিষয়। এটি জাতি বিনাশী, জাতি বিধ্বংসী ও চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এমনিতেই সকল ক্ষেত্রে মূল্যবোধহীনতার চর্চা বেড়েছে। মূল্যবোধহীনতার মূলে ধর্মীয় শিক্ষার অভাব অন্যতম কারণ। এহেন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের নৈতিকভাবে বলীয়ান করার জন্য ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পরিধি যখন আরো বাড়ানো জরুরি, তখন তা আরো সঙ্কুচিত করা অযৌক্তিক ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত হবে।
আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে কস্মিনকালেও পাঠ্যসূচী থেকে ইসলামকে বাদ দেয়া তো দূরের কথা, কল্পনা করারও দুঃসাহস দেখানো উচিৎ হবে না। এই দেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ। মুসলমানের সন্তানদের মৌলিক অধিকার ইসলাম সম্পর্কে জানা ও ইসলামী জ্ঞান হাসিল করা। অন্যান্য ধর্মের শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ ধর্মের জ্ঞান অর্জন করবে। এ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। আমাদের দাবি হচ্ছে, শিক্ষা আইনের খসড়া কমিটিতে অবশ্যই আলেমদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। খসড়া কমিটির পক্ষ দেশের বিজ্ঞ আলেম-উলামা ও ইসলামী স্কলারদের সাথে মতবিনিময়ের আয়োজন করতে হবে। তাদের সাথে পরামর্শক্রমে পাঠ্যসূচী প্রণয়ন করতে হবে।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগ : বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা সুজা ও মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের এক বিবৃতিতে শিক্ষানীতি ২০২২ অনুযায়ী শিক্ষাক্রমের নতুন রূপরেখায় ধর্ম শিক্ষাকে বিবেচনায় না রাখায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। নেতৃদ্বয় বলেন, শিশু-কিশোরদের মানসিক ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই। ধর্মহীন শিক্ষা হবে একটি অসম্পূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা যা নৈতিকতা, বিবেক, ধর্মীয় বিশ্বাস,মূল্যবোধের মত মানবিক গুণাবলী আমাদের সন্তানদের মনে দৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হবে। ধর্মহীন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হলে প্রতিটি শিক্ষালয় এক একটি নাস্তিক তৈরির কারখানায় পরিণত হবে। নেতৃদ্বয় শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা চালু করতে হবে। শিক্ষা সিলেবাস থেকে ইসলামকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেয়া যাবে না। মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদ : স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের স্কুল কলেজের পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামী শিক্ষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি তুলে দিয়ে হিন্দুত্ববাদী শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রচলনের ষড়যন্ত্রের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদ সভাপতি শহিদুল ইসলাম কবির।
তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশের স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তক থেকে বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিয়ে ইসলামী শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি তুলে দিয়ে হিন্দুত্ববাদী শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি চালু করা হলে তা হবে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর চেতনা পরিপন্থী। এক বিবৃতিতে ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদ সভাপতি শহিদুল ইসলাম কবির আরো বলেন, যেই বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য কাজ করেছেন সেই বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের নেতৃত্বে স্কুল কলেজের পাঠ্যপুস্তক থেকে ইসলামী সাহিত্য-সাংস্কৃতি তুলে দিয়ে হিন্দুত্ববাদী সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রচলন করা হলে দেশের জনগন তা কখনোই মেনে নিবে না।



 

Show all comments
  • Dr. Mohammad Ziaul Hoque ৪ জুলাই, ২০২২, ৫:১৮ এএম says : 0
    বাংলাদেশকে ভারতীয় করণের অংশ হিসাবে সর্বত্ত হিন্দুত্ববাদ কায়েমের কর্মসূচি চলছে। ইসলামের কথা আছে এমন কোনো শিক্ষা বা প্রবন্দ স্কুল-কলেজের বইয়ে থাকবে না। হিন্দুস্তানের মতো জয় রাম, জয় হনুমান আদর্শে এদেশের আগামী প্রজন্মকে দীক্ষিত করার লক্ষে এ কর্মসূচি চলছে ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন