Inqilab Logo

রোববার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৫ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

হাজারটা পদ্মা সেতু করেও সরকার জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না: মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৫ জুলাই, ২০২২, ৭:৫৯ পিএম

গণতন্ত্র অবরুদ্ধ রেখে রেখে হাজারটা পদ্মাসেতু করলেও বর্তমান সরকার জনগনের আস্থা অর্জন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।‘দেশের জনগণ আমাদের পাশে থেকে বার বার ভোট দিচ্ছে। আমাদের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আছে’-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এহেন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচন দিয়ে দেখুক না উনাদের প্রতি কতটুকু আস্থা আছে? হাজারটা পদ্মা সেতু করেও কোনো লাভ হয় না। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান উন্নয়ন করেছিলো কিন্তু জনগণের রাজনৈতিক মুক্তি যদি না হয়, গণতন্ত্র যদি না থাকে, জনগণের অধিকার, ভোটাধিকার যদি না থাকে সেখানে কিন্তু কোনো লাভ হয় না। আর ভোট দিচ্ছে কোথায়? মানুষ ভোট দিতে পারছে কোথায়? জনগণের আস্থাটা গ্রহন করছেন তিনি কিভাবে? তিনি তো কাগজে-কলমে সিল মেরে আগের রাত্রে ভোট দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সোমবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে যদি একটা সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচন করতে হয় এখানে অবশ্যই নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার থাকতে হবে। তা নাহলে এখানে কোনো মতেই সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না।

বন্যা দুর্গত পাশে সরকার নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, বানভাসি মানুষের মাঝে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাতে পারেনি সরকার। বন্যা পরবর্তি পুর্নবাসনেও সরকারের কর্মকা- দৃশ্যমান নয়। অবিলম্বে দুর্গত মানুষের মাঝে খাদ্য, বস্ত্র, গৃহ নির্মাণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার জোর দাবি জানানো হয় স্থায়ী কমিটির সভায়।”

সমাজে নীতি-নৈতিকতার চরম অবক্ষয় হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সম্প্রতি সাভারে স্কুল শিক্ষক হত্যার ঘটনা, নড়াইলে অধ্যক্ষকে অপমানসহ সারাদেশে সামাজিক নৈরাজ্যের চিত্রে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এই বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। সভা মনে করে, এই অনির্বাচিত সরকোরের কোনো দায়বদ্ধতা না থাকায় সমাজের সকল পর্যায়ে নীতি-নৈতিকতা চরম অবক্ষয় দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৫০তম অধিবেশনে উত্থাপতি ডিজিটাল যুগে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার নিরাপত্তা জোরদার শীর্ষক প্রতিবেদনে ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে’ সন্তোষ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটাতে প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সরকার সংবাদ মাধ্যমের কন্ঠরোধ করে গণতন্ত্রকে হরণ করেছে।

লোডশেডিংয়ের ভয়াবহ অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের শতভাগ বিদ্যুতের কথা আজকের এই অবস্থা (লোডশেডিং) প্রমাণ করে যে, আমরা যেটা বলে আসছি- সেগুলো বাকসর্বস্ব কথা। এগুলো (কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট) করার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে দুর্নীতি, নিজেদের পকেট ভারী করা, বিদেশে বাড়ি-ঘর তৈরি করা। এখন এটা প্রমাণিত হচ্ছে।

ইডিএফ নামে রিজার্ভ থেকে ঋণ নেয়া প্রসঙ্গে অর্থনীতির সাবেক এই শিক্ষক বলেন, ‘ইডিএফ’ না দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে সরকারের শীর্ষ মহলের ঘনিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রদানের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৪ দশমিক শূণ্য দুই বিলিয়ন ডলার। ওই ধরনের প্রায় সবটাই (ফোর্সডলোন অধিকাংশই রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংকের) পর্যবসিত হয়েছে। আইএমএফ এই ধরনের ঋণের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অন্তর্ভুক্ত না করতে বলেছে। এই সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার অবয়বে আর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সরকার অর্থনীতির সকল নিয়ম কানুন ভঙ্গ করে, রিজার্ভের সকল বিধি ভঙ্গ করে শুধুমাত্র নিজেদের ঘনিষ্ঠ এবং প্রভাবশালীদের ব্যক্তিদের লাভবান করার জন্য রাষ্ট্রের এই ভয়াবহ ক্ষতি করে চলেছে। ইডিএফ ঋণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করে বিদেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়ি, ব্যবসা, স্থাপনা তৈরি করে দেশের অর্থনীতির ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করছে। এর সুদূর প্রসারী প্রভাব সামাজিক ও অর্থনীতি ও সমগ্র অর্থনীতিকে দেউলিয়া করে ফেলবে বলে অর্থনীতিবিদরা আশংকা প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।###

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ