Inqilab Logo

বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ০২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৮ মুহাররম ১৪৪৪

খানা-ই-কা’বার মর্যাদা সমুন্নত রাখা অপরিহার্য

খালেদ সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী | প্রকাশের সময় : ৭ জুলাই, ২০২২, ১২:০৩ এএম

দুনিয়ার খোদাপ্রেমিক লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কণ্ঠে এখন ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ পবিত্র ‘তালবিয়াহ’ মক্কার আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের কারণে বিগত দুই বছর মক্কার যে করুণ অবস্থা হয়েছিল, সে প্রসঙ্গে না গিয়েও বলা যায়, যে দুইটি বছর খানাই-কা’বা বিরোধী ও ইসলাম বিদ্বেষীদের জন্য ছিল পরম আনন্দের সময়। তারা এককালে কা’বা ধ্বংস করে মানুষকে গির্জামুখী করার ষড়যন্ত্র করে। তাদের সে উদ্দেশ্য ক্ষুদ্র পাখীকূল নিপাত করে দিয়েছিল, যার বর্ণনা সূরা ফিলে রয়েছে।

তাদের প্রেতাত্মারা পরবর্তীকালে যুগে যুগে কা’বা বিরোধী নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারই একটি উদাহরণ হচ্ছে, কা’বার মর্যাদা খর্ব করার গভীর চক্রান্ত হচ্ছে কা’বাকে বির্তকিত করার অসৎ উদ্দেশ্য। তার প্রাচীন ঐতিহ্য বিনষ্ট করার ঘৃণ্য প্রয়াস, যে বিষয়টি আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয়। পবিত্র হজের মওসুমে মুসলমানদেরও সে বিষয়টি স্মরণে থাকা দরকার।

বাবা আদম (আ.) ছিলেন খানা-ই-কা’বার প্রতিষ্ঠাতা। সকল পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক তথ্য সাক্ষ্য দেয় যে, তুফানে নুহের ধ্বংসলীলার পর হযরত ইবরাহীম (আ.) সর্বপ্রথম খানা-ই-কা’বা পুননির্মাণ করেন এবং তাঁকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেন তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) । যার বর্ণনা খোদ কোরআনে সূরা বাকারার শেষে রয়েছে। আল্লাহ বলেন: ‘স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম ও ইসমাঈল কা’বা গৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল’ (আয়াত: ১২৭)।

আরো বহুকাল পরে প্রতিষ্ঠিত বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করে ইসলামের প্রথম দিকে ১৬/১৭ মাস যাবত মুসলমানগণও নামাজ আদায় করতে থাকেন। খানা-ই-কা’বা মুখী হয়ে নামাজ পড়ার নির্দেশ হওয়া মাত্র রসূলুল্লাহ (সা.) নামাজের মধ্যেই কেবলামুখী হয়ে যান। সে মসজিদ এখনো ‘মসজিদে কেবলাতাইন’ দুই কেবলা বিশিষ্ট মসজিদ নামে পরিচিত।

ইসলামের বিষয়ে নানা ধুম্রজাল সৃষ্টি করতে সিদ্ধহস্তে খ্রিস্টান লেখকগণ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খানা-ই-কা’বার প্রাচীনত্ব বিদ্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হন।

আল্লাহর পবিত্র কালামে জগতের আদি গৃহ ‘মক্কার’ বিভিন্ন বিশেষণ ও নামের উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়। যথা ‘মাসজিদুল হারাম’, ‘বায়তুল হারাম,’ ‘বায়তুল আতীক’, ‘বালাদুল আমীল’, উম্মুল কোরা’, ‘কা’বা’, ‘কেবলা’, ‘মক্কা’, ‘বাক্কা’ ইত্যাদি। এছাড়া আরও নাম থাকতে পারে, তবে এগুলোর মধ্যে আমরা শুধু প্রসিদ্ধ নামগুলিরই উল্লেখ করলাম। কা’বাগৃহের বিভিন্ন নাম ও তৎসম্পর্কীয় ব্যাখ্যা দান করার পূর্বে গোড়াতেই আমরা বিধর্মীদের একটি সংশয়ের নিরসন করতে চাই। বিশেষত: খ্রিস্টানদের একটি অভিযোগ খণ্ডন করে তাদের অবগতির জন্য কিছু অকাট্য ঐতিহাসিক যুক্তি-প্রমাণের অবতারণা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করি। প্রথমে আমরা খ্রিস্টান ঐতিহাসিকদের কা’বার প্রাচীনত্ব সর্ম্পকে অভিযোগগুলি পেশ করে অতঃপর তার উত্তর দিতে চেষ্টা করব।

খ্রিস্টান ঐতিহাসিক ‘মার্গিয়ুলুস’তার গ্রন্থে লিখেছেন: “যদিও ধর্মীয় মনোভাবের বশবর্তী হইয়া মুছলমানগণ তাঁহাদের ‘ধর্মকেন্দ্রকে অত্যন্ত প্রাচীনতম ভিত্তি বলিয়া আখ্যায়িত করিয়াছেন, কিন্তু ‘বিশুদ্ধ বর্ণনাবলী’ হইতে জানা যায় যে, মক্কার সর্বাধিক পুরাতন ইমারত মোহাম্মদের (সা.) কয়েক পুরুষ পূর্বে নির্মিত হইয়াছে।” মাগিয়ুলুস তাঁর এই যুক্তির সমর্থনে প্রসিদ্ধগ্রন্থ ‘এ ছাবা’র বরাত দিয়েছেন। উক্ত গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, “মক্কার সর্বপ্রথম ইমারত ছাঈদ বা ছা’দ বিন আমর কর্তৃক নিমিত।’ তিনি ইন সাইক্লোপেডিয়াতে ‘মোহাম্মদ’ শীর্ষক প্রবন্ধে ‘মক্কা মো’আজ্জামা’ সম্বন্ধে উল্লেখ করেছেন। প্রাচীন ইতিহাসগুলির মধ্যে এই শহরের নাম পাওয়া যায় না। তবে জবুরে (৬-৮৪) মক্কা শব্দ দেখিতে পাওয়া যায়।” (শেষ সংস্করণ ১৭খন্ড ,পৃ: ৩৯৯)।

মার্গিয়ুলুসের অভিযোগগুলি পাঠ করলে ইসলাম ধর্মের ইতিহাস সম্বন্ধে তাঁর জ্ঞানের দৈন্যের জন্য দুঃখ করতে হয়। অথবা তারা যে জেনেশুনে ইতিহাসের বিকৃত ব্যাখ্যা করতে পারেন তাই স্বীকার করতে হয়। খ্রিস্টানদের ভিত্তিহীন অভিযোগটির উত্তর স্বয়ং আল্লাহপাকই দিয়ে রেখেছেন, আজ হতে চৌদ্দশত বছর পূর্বে। পবিত্র কোরআনে ‘মক্কা’কে ‘বায়তুল আতীক’ বা প্রাচীনতম গৃহ এবং ‘আওয়ালে বায়ত’ বা আদিগৃহ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইহুদীরা বলেছিল, জেরুযালেম বা বায়তুল মোকাদ্দাছই হচ্ছে দুনিয়ার সর্বপ্রথম ‘ধর্ম মন্দির’। মোহাম্মদ (সা.) তা ত্যাগ করে এবং কা’বাকে গ্রহণ করে। কোরআনে স্পষ্ট ঘোষণা করল যে, মাসজিদুল হারাম বা কা’বা মসজিদই হচ্ছে দুনিয়ার প্রথম ইবাদতগাহ-এবং হযরত ইবরাহীম (আ.) হচ্ছেন তার প্রতিষ্ঠাকারী। বিশেষত এর নির্মাণকাজ বায়তুল মোকাদ্দাছের বহু পূর্বেই সমাধা হয়েছিল। সুরা আলে এমরানের ৯৫ আয়াতটি এখানে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য: (অর্থাৎ) ‘নিশ্চয় (জানিও) সমগ্র মানব সমাজের সর্ব প্রথম প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল যে এবাদতখানা, বাক্কাতেই অবস্থিত আছে তাহা, বহু কল্যাণে পূর্ণ হইয়া আছে তাহা এবং তাহা হইতেছে সারা জাহানের পথ-প্রদর্শক।’

মক্কার আর এক নাম বাক্কা, ইহুদী ধর্মশাস্ত্রেও এই নামের ব্যবহার দেখা যায়। এ সর্ম্পকে মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ ছাহেব বলেন, ‘কা’বা যে হজরত ইব্রাহীমের নির্মিত, কোরআন মাজীদে তাহা পুনঃ পুনঃ বর্ণিত হইয়াছে। আরব জাতি স্মরণাতীত কাল হইতে সকলে সমবেতভাবে এটা স্বীকার ও প্রকাশ করিয়া আসিতেছে। জগতের অন্যান্য ধর্ম-মন্দিরগুলির ইতিহাস আলোচনা করিলে দেখা যাইবে যে, (১) দুনিয়ার সকল দেশের সকল মানবের জন্য তাহার কোনোটাই নির্মিত হয় নাই । (২) খাছ আল্লাহর এবাদত বন্দেগীর জন্য তাহার পূর্বে আর কোনও গৃহ নির্মিত হয় নাই।

“ইহুদী ও খ্রিস্টানরা কা’বার মোকাবেলায় বাইতুল মোকাদ্দাছের প্রাচীনতা প্রতিপাদন করতে চাচ্ছেন ।কিন্তু তাদের ধর্মপুস্তক বাইবেলের ক্রোনলজি অনুসারে, হজরত ইবরাহীমের (আ.) মৃত্যু হয়েছে সৃষ্টি সনের ২১৫১ সালে বা খৃস্ট পূর্ব ১৮৫৩ সনে। এছরাইল বংশীয়রা মিসরে অধিবাস স্থাপন করেন সৃষ্টি সনের ২২৯৮ সালে বা খৃস্টপূর্ব ১৭০৬ সনে। সুতরাং ইবরাহীমের মৃত্যুও ১৪৭ বৎসর পরে এছরাইলীরা মিসরে গমণ করেছিলেন। ‘এছরাইল’ সন্তানরা ৪৩০ বৎসর কাল মিসরে অবস্থান করেছিলেন (যাত্রা ১২-৪০)। মিসর দেশ হতে এছরাইল সন্তানদের বাহির হয়ে আসার ৪৮০বৎসর শলোমন সদা-প্রভুর উদ্দেশ্যে গৃহ নির্মাণ করতে আরম্ভ করলেন” (১রাজাবলি ৬-১) । “আর সাত বৎসরে ঐ গৃহের নির্মাণ সমাপ্ত হয়’ (ঐ৩৮পদ) । সুতরাং হজরত ইবরাহীমের মৃত্যুর (১৪৭+৪৩০+৪৮০+৭=)১০৬৪ বৎসর পরে হজরত ছোলায়মান কর্তৃক বায়তুল মোকাদ্দাছ বা যেরূসিলম-মন্দিরের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেছিলেন। মৃত্যুর অন্তত ৩৬ বৎসর পূর্বে হজরত ইবরাহীম (আ.) কা’বার নির্মাণকাজ সমাধা করেছিলেন। সুতরাং বাইবেল অনুসারে কা’বা নির্মিত হয়েছিল বায়তুল মোকাদ্দাছের পূর্ণ ১১শত বৎসর পূর্বে। এই হিসাব অনুসারে বায়তুল মোকাদ্দাছের নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়েছিল খৃস্টপূর্ব ১০৪ সালে।

‘আরব ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিকগণ কর্ত্তৃক সঞ্চিত বহু প্রাচীন ইতিবৃত্তে এবং আরব কবিদিগের রচিত কবিতায়, মক্কার ও কা’বার দীর্ঘকালের ইতিহাস সুরক্ষিত হয়ে আছে। ইহা ব্যতীত ইউরোপের প্রাচীন ঐতিহাসিকগণের বা একজন বিশিষ্ট লেখকও মক্কা ও কা’বা সম্বন্ধে নানা প্রকার তথ্য লিপিবদ্ধ করে গিয়েছেন। উদাহরণ স্থলে হিরোদোতাস (Herodotus জন্ম খৃস্টপূর্ব ৪৮৪ সনে) Diodrus Siculus (জন্ম যীশুর এক শতাব্দী পূর্বে) এবং Ptolemy প্রভৃতির নাম উল্লেখ করা যেতে পারে । আধুনিক যুগের বহু পুরাতাত্ত্বিক প্রমাণেও ইহা অকাট্যরূপে প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে।’ (তাফসীরুল কোরআন,১ম খন্ড, ৫১৫-১৬ পৃ.)। এই মক্কা বা বাক্কার খোদার ঘরের মহিমা সম্বন্ধে জুবুর বা গীত সংহিতায় হজরত দাউদ উচ্ছসিত কণ্ঠে বলিতেছেন: ‘মোবারকবাদ তাহাদের জন্য, যাহারা তোমার গৃহে বাস করিতেছে, তাহারা সতত তোমার তাছবীহ (স্তবস্তুতি) করিতে থাকিবে, মোবারক সেই ব্যক্তি, যাহাকে সন্নিধান হইতে সাহায্য করিয়াছে, তোমার পথগুলি যাহার অন্তরে নিহিত আছে বাক্কার সমতল ভূমিতে, যে স্থানে তুমি তাহাকে স্থাপন করিয়াছ, কারণ নামছের প্রতিষ্ঠাতা তাহাকে বহু বরকত প্রদান করিবেন।’ (৮৩,৪-৬)

এখন চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, হজরত দাউদ (আ.) যে স্থানে পৌঁছার অভিপ্রায় করেছেন, তাতে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১. কোরবাণীর স্থান, ২. হজরত দাউদের দেশ হতে এতই দূরে যে, সেখানে সফর করতে হবে, ৩. ঐ স্থানটির নাম বাক্কা উপত্যকা এবং ৪. সেখানে মারওয়া নামক স্থানও থাকবে।

ইহাতে প্রমাণিত হয় যে, ইহুদীরা কীরূপে শব্দের বিকৃতি ও ব্যতিক্রম করতে পারে। ইহাদের সম্বন্ধে কোরআনে বলা হচ্ছে, (তর্জমা) ইহুদীগণের মধ্যে কেহ কেহ যথাস্থান হইতে বাক্যাবলী পরিবর্তিত করে এবং বলে যে, আমরা শ্রবণ করিলাম ও অগ্রাহ্য করিলাম। (ছুরা নেছা, আয়াত ৪৬)।

ফ্রান্সের প্রসিদ্ধ চিন্তাবিদ ও আরবী ভাষার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর দর্জী লিখেছেন (অর্থাৎ) ‘বাক্কা সেই স্থানকেই বলা হয়, যাহার উল্লেখ গ্রীস ভৌগোলিক মক্রোবা করিয়াছেন।’ তাছাড়া কারলাইল ছাহেব তাঁহার গ্রন্থ ‘হিরুজ এগুন্ড হিরু ওয়ার্সপে’ লিখিয়াছেন:

(অর্থাৎ) ‘রোমান ঐতিহাসিক...কা’বার উল্লেখ করিয়া লিখিয়াছেন যে, উহা জগতের সমস্ত উপাসনা গৃহ হইতে প্রাচীন ও মহামান্বিত এবং ইহা যীশূখৃস্টের (মছীহ) পঞ্চাশ বছর পূর্বের কথা।’

সুতরাং বলতে হবে যে, কা’বা যদি হযরত ঈসার বহু পূর্বেই বর্তমান ছিল তবে মক্কাও সেই যুগের শহর, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু মার্গিয়ুলুস এই সব কিছুই বিশ্বাস করতে প্রস্তুত নন। তিনি বিশুদ্ধ বর্ণনা সম্বন্ধে যে উক্তি করিয়াছেন তার উত্তর এই যে, ঐতিহাসিকগণ বহুস্থানে বর্ণনা করেছেন, যেহেতু আরববাসীরা কা’বা গৃহের সম্মুখে কিংবা আশেপাশে ইমারত নির্মাণ করাকে পবিত্র কা’বার অবমাননা মনে করত, তাই তারা ইমারত প্রস্তুত করে নাই। বরং তাঁবু ও শামীয়ানায় বসবাস করিত এবং এরূপে মক্কা সবসময় তাঁবুর একটি বিশাল শহর রূপে প্রসিদ্ধ ছিল।

এবার কা’বার প্রাচীনতা সম্বন্ধে হাদীসে কি আছে তাই দেখা যাক। ১. হজরত রাসুলে করীমকে (সা.) জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, মানব জাতির এবাদতের উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম কোন মসজিদ প্রস্তুত হয়েছিল? উত্তরে তিনি বললেন, প্রথমে মাসজিদুল হারাম, অতঃপর বায়তুল মোকাদ্দাছ। আবার জিজ্ঞাসা করা হল যে, উভয়ের মধ্যে কত বছরের ব্যবধান? হজরত বললেন, চল্লিশ বছর। ২. হজরত আলী (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে, একব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করল যে, কা’বাই কি প্রথম গৃহ? তিনি জওয়াব দিলেন, না। তবে কা’বার পূর্বেও বহু গৃহ ছিল। কিন্তু মানব জাতির জন্য প্রথমে কা’বা গৃহ নির্মিত হয়। ৩. হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন যে, হজরত নূহ (আ.) এর তুফানের পর কা’বাই হচ্ছে প্রথম গৃহ। আবার কেউ কেউ বলেন, আসমান ও জমিন সৃষ্টির সময় সর্ব প্রথম পানির উপর কা’বা গৃহই প্রকাশ পেয়েছিল, জমিন সৃষ্টি হয় আরও দুই হাজার বছর পর। তখন তা পানির উপর সাদা মাখনের ন্যায় দেখা যাচ্ছিল।

কেউ কেউ বললেন যে, ভূ-পৃষ্ঠে হজরত আদমই (আ.) এই গৃহ নির্মাণ করেন। অপর এক বর্ণনা মতে, হজরত আদমকে যখন পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয় তখন ফেরেস্তাগণ তাঁকে বললেন, ‘এই ঘরের তাওয়াফ কর। আমরা তোমার দুই হাজার বছর পূর্বে তাওয়াফ করিয়াছি।’ আদমের পূর্বে হতে সে স্থানে একটি গৃহ বিদ্যমান ছিল, যাহাকে ‘যাররাহ’ বলা হত। তুফানের পর আল্লাহ তাকে চতুর্থ আকাশে উঠায়ে নিয়ে গিয়েছেন, সেখানে ফেরেস্তাগণ তার তাওয়াফ করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: খানা-ই-কা’বার মর্যাদা সমুন্নত রাখা অপরিহার্য
আরও পড়ুন