Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

মেঘের ভাঁজে সাজেক ভ্যালিতে

মো. নাবিল তাহমিদ রুশদ | প্রকাশের সময় : ২৮ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

চারদিকে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। ছোটো-বড় সবুজ পাহাড়ের গা বেয়ে চলে গেছে পিচঢালা পথ। উঁচ-নিচু পাহাড়ি রাস্তা। দুই পাশে সবুজ গাছ-গাছালি। পথে ছোটো-বড় পাহাড়ি ঝরনা। এই পথই একসময় নিয়ে যাবে পাহাড়ের চূড়ায়। খুব কাছে থেকে দেখা যাবে মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালিকে। সেই ১৮০০ ফুট উচ্চতা থেকে মেঘ ছোঁয়ার অনুভূতি পেতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির (বাকৃবিসাস) সদস্যরা চলে যায় সাজেক ভ্যালিতে। প্রতি বছরের মতো এবছরেও বার্ষিক ট্যুরের জন্য খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাড়ি জমায় বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা।  
সাংবাদিক সমিতির আমরা ১১ জন বেড়িয়ে পড়লাম সাজেক ভ্যালির উদ্দেশ্যে। যাত্রার শুরুটা হয় ময়মনসিংহ থেকে। বুধবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় আমাদের বাস ছেড়ে দেয়। ক্যা¤পাস থেকে বের হওয়ার পর থেকেই যেন একটা উৎসবের আমেজ কাজ করছিল আমাদের মাঝে। বাস ছাড়ার সাথে সাথে সে আনন্দ যেন দ্বিগুণ বেড়ে গেল। রোমাঞ্চকর বাসযাত্রার পরে ভোরে আমরা পৌঁছে গেলাম খাগড়াছড়িতে। একটা হিম শীতল পরিবেশে পাহাড়ি এলাকায় সূর্যোদয় দেখার অনুভূতিটাই যেন অন্যরকম ছিল। আমাদের জন্য চান্দের গাড়ি আগেই রেডি ছিল।
খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা পেরিয়ে বাঘাইছড়িতে এসে আমরা সকালের নাস্তা করালাম। তারপর সেখানকার হাজাছড়া ঝরনা দেখতে গেলাম। অনেক উঁচু থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঝরনা দেখতে দারুণ লাগছিল। প্রায় ৬৬ কিলোমিটারের মতো ভয়ঙ্কর সব রাস্তার বাঁক আর খাড়া উঁচ-নিচু রাস্তা পেরিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পৌঁছে যাই পাহাড়ের চূড়ার রুইলুইপাড়ায়। রুইলুইপাড়ায় আমরা একটা কটেজ ভাড়া করি। তারপর একাটা ক্যান্টিনে গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়ি রুইলুইপাড়ার পার্ক, গার্ডেন, একান্তে বসে পাহাড় দেখার জন্য ছোট ছোট খোলা ছাউনি, দোলনা আর সূর্য ঘড়ি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে সেখানে গড়ে ওঠা নয়নাভিরাম এ রুইলুইপাড়া পর্যটন এলাকা। বিকেলে রুইলুইপাড়ার হ্যালিপ্যাডে পাহাড়ের সাথে নিজেদের ছবি তুললাম আর পাহাড়ের কোলে সূর্যাস্ত দেখলাম।
রাতের খাবার খেয়ে হ্যালিপ্যাডে গিয়ে সবাই গোল হয়ে বসলাম। মনে হচ্ছিল যেন পায়ের নিচে সারি সারি পাহাড় আর মাথার উপরে গোলাকার আকাশ। আকাশের মাঝে তারাগুলো ঝুলে ঝুলে আছে। এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশে আমরা সবাই মিলে গলা ছেড়ে গান গাইলাম। তারপর কটেজে ফিরে রাতটা কাটিয়ে একদম ভোরে বেড়িয়ে পড়লাম সূর্যোদয় দেখবার জন্য। হ্যালিপ্যাড থেকে দেখলাম পাহাড়ের কোলে সূর্যোদয়।
এরপর চললাম সাজেকের কংলাক পাড়াতে। ১৮০০ ফুট উচ্চতা থেকে পাহাড়ের কোলের তুলার মতো জমাট বাধা মেঘ দেখা যে কতটা রোমাঞ্চকর, তা বলে বোঝানো যাবে না। সাজেক থেকে ফিরে, আলুটিলার রহস্যময় গুহা আর রিছাং ঝরনা দেখে ফিরে এলাম চিরচেনা ক্যাম্পাসে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর