Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

ফুলের দেশ

মা হ মু দু ল হ ক জা লী স | প্রকাশের সময় : ২৮ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

সবুজ বাংলার গাছে গাছে ফুলের মেলা বসে। রংবেরঙের ফুলে সারা বছরই সেজে থাকে বাংলার প্রকৃতি। সুন্দরের প্লাবণে ভাসায় আমাদেরকে। ফুলের বিচিত্র গঠনও মাধুর্যে ভরা গন্ধ আমাদের মনে জাগায় বিস্ময়কর অনুভূতি। নাচিয়ে তুলে প্রতিটি তন্ত্রীকে। পুলকিত করে তনু-মনকে। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের চারপাশে ফলিয়েছেন অসংখ্যা বৃক্ষরাজি। আর তাতে ফুটে বিভিন্ন রকমের ফুল। সেগুলো দেখতে কত অপূর্ব! কত নিখুঁত, নিপুণ। সত্যিই বাংলার ফুলে ফুলে সবুজের বর্ণিল সাজ সবাইকে বিমোহিত করে।
 কবি সত্যেন্দনাথ দত্তের নিচের কবিতার পঙক্তি থেকে বুঝা যায় ফুলের প্রতি ছিল তার অবাধ অনুরাগ জোটে যদি মোটে একটি পয়সা, খাদ্য কিনে ও ক্ষুধার লাগি।
দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার, ফুল কিনি নিয়ো, হে অনুরাগী!
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ফুলের সৌন্দর্য ও সৌরভের ব্যাপক ব্যবহার করছেন কবিতা,
গান, গল্প ও উপন্যাসে।
জাতীয় কবি নজরুল ইসলামও তার গান ও কবিতায় অপরিহার্যভাবে অনেক ফুলের  সমাবেশ ঘটিয়েছেন।
জীবনানন্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা’ কবিতায়ও ফুলের সৌন্দর্যের পরাক্রমশালী আবির্ভাব পরিলক্ষিত হয়।
তারপর হুমায়ুন আজাদকে বলা চলে বাংলার ফুলের সর্বশেষ সৌন্দর্য চর্চার উদভ্রান্ত কবি।
ফুলকে নিয়ে এই সাংস্কৃতিক সূচনা বহু আগে থেকে চলে আসছে। ফুলের সৌন্দর্যকে মানুষ বরণ করে নিয়েছে মনভরে। এই কারণই পৃথিবীর যে কোন জায়গার মানুষই মুগ্ধতা, ভালোবাসা, শুভেচ্ছা, এমনকি সহানুভূতি প্রকাশের জন্য বেছে নিচ্ছে ফুলকে  
রুপসী বাংলার ছয় ঋতুতে বিভিন্ন রকমের ফুল ফোটে। আসুন তার পরিচয় জেনেনি। বর্ষার ফুলেরা --বর্ষা মৌসুমের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলে, আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদী-নালা, খাল-বিল,
হাওর-বাঁওড়ও জলাভূমিতে ফুটে থাকে সাদাও লাল রঙের অসংখ্য শাপলা ফুল।
বর্ষার আরেক সৌন্দর্য কামিনী ফুল। ফোটেও
অজস্র। প্রাতঃকালে অজস্র সাদা পাপড়ি গাছতলায়
বিছিয়ে থাকতে দেখা যায়। সকাল, সন্ধ্যা ও রাতে দারুণ সুবাস ছড়ায় চতুর্দিকে।
হিজল ফুলের সৌন্দর্য পুরো বর্ষাকে মাতিয়ে রাখে। অনিন্দ কদম ফুল মানুষের মন জয় করেছে অনেক আগেই। তার পাতাগুলো আকারে বড় বড় হয়। কদম ফুল খুবই ছোট,
বৃতি সাদা, দল হলুদ, পরাগচক্র সাদা এবং বহির্মুখীন, গর্ভদ- দীর্ঘ।
এছাড়াও বর্ষার সৌন্দর্যেরর সঙ্গে কুর্চি, বকুল, কেয়া, পদ্ম, শালুক, চাঁদমালা, ভুঁইচাঁপা, ওলটকম্বল,
ধতুরা, নিশিন্দা, পানফুল, পানিকুলা, পানিফুল
অত্যন্ত মানানসই।
শরতের ফুলেরা নদ-নদী কিংবা জলার ধারে ফোটে ধবধবে সাদা কাশফল। বাড়ির আঙিনায় ফোটে শিউলি। একটু নরম ধরনের হয় শিউলি ফুল। পানি হচ্ছে এর প্রধান শত্রু। এ করণেই বেশি দিন বাঁচে না। ফুলকলিরা মুখ তোলে সন্ধ্যায়। তাই শরতের যামীনি শিউলির ঘ্রাণে ভরপুর থাকে। ডোলকলমি সারাবছর কম-বেশি ফুটলেও শরৎ এর প্রধান
ঋতু। পথের ধারে, বন-বাদাড়ে সহজেই চোখে পড়ে এগুলো। সত্যিই মনটা উদাস করে শরতের বিচিত্র ফুলেরা। হেমন্তের ফুলেরা---- হিমঝুরি হেমন্তের অনিন্দ্য ফুল। রাজ অশোক ফুটে বিভিন্ন বাগানে। বাহারি দাদমর্দন ফোটে পাড়া-গাঁয়ে।
দেবাকাঞ্চন ফুটে বিভিন্ন পার্কে। হেমন্তের অন্যতম ফুল হল, সপ্তপার্ণী বা ছাতিম। তার নিচের অংশ নলের মতো এবং নল-মুখের পাপড়ি ঈষৎ বাঁকানো। পরাগচক্রদল গভীরে থাকে। ছাতিম যখন ফোটে তার সুগন্ধের প্লাবনে চারদিকে উল্লাসে মেতে ওঠে। বহুদূর
পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় তার উগ্র গন্ধের ঐশ্বর্য।
ছাতিমের বীথি অপরূপ হয়। হেমন্তের ওই রিক্ততায় ছাতিম প্রবল প্রাণের প্রতীক ।
শীতের ফুলেরা----জনপ্রিয় ফুলগোলের মধ্যে
রজনীগন্ধা অন্যতম। এ ফুলের নির্যাস থেকে
নানারকম সুগন্ধি তৈরি হয়। বিভিন্ন সামাজিক
ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এবং ফুলদানি সাজাবার কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়ে থাকে।
ইদানীং পথে-ঘাটে বিভিন্ন ধরনের রজনীগন্ধা
বিক্রি করতে দেখা যায় যেমন-সিঙ্গল, সেমি-ডবল, ডবল, জাত, ও ভ্যারিগেটেড জাত।
এছাড়াও শীতে বাহারি রঙের ফুল ফোটে-
সূর্যমুখী, ডালিয়া, চন্দমলি-কাশসহ অনেক রকমের ফুল। সে সব ফুলের মাতাল করা গন্ধে উতলা হয়ে ওঠে মন ।
বসন্তের ফুলেরা--বসন্তে পুষ্পিত কাননকে
মাতিয়ে রাখে কনকচাঁপা, মুচকুন্দ,পলাশ,
শিমুল, গামারি, লটকন,  গোলাপজাম, মিলেশিয়াও জামরুল ফুল।
রক্তে লাল কৃষ্ণচূড়া ফুলের দিকে থাকালেই চোখ ধাঁধিয়ে যায় । তাছাড়া গাঁদা, গোলাপ,
চন্দমল্লিকা, মালতী, বেলি, বকুল, হাসনাহেনা
সই অজস্র ফুলের মিলনের স্বর্গরাজ বসন্ত।
ফুলের মাতাল সমীরণে সুরভিত হয়
চারদিকে। এজন্যই বসন্তকে বলা হয় ফুলের
গন্ধময় ঋতু। পথের ধারে ধারে কণ্টকলতা,
মাধবী, নীলমনি, হাপরমালি ও পাথরকুচি
বসন্তের শোভাকে আরো মনলোভা করে তুলে।
গ্রীষ্মের ফুলেরা--গ্রীষ্মের উল্লেখযোগ্য ফুলগুলো হল- জামরুল, সোনালু, পাখিকুল,
স্বর্ণচাঁপা, জ্যাকারান্ডা, গুলাচি, পেল্টোফরাম,
কুর্চি, রূদ্রপলাশ । এগুলো প্রকৃতিকে বিচিত্রও
বর্ণিল করে সাজিয়ে রাখে। গ্রীষ্মে আরো ফুটতে দেখা যায় সুচকিত উদয় পদ্ম,
গন্ধরাজ। এদের গন্ধ ইথারে ইথারে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
বর্তমানে রূপসী বাংলার, এই মায়াবী ফুলেরা
পরিবেশের ভারসাম্য ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে
সমাজে মুখ্য ভূমিকা রাখছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর