Inqilab Logo

বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ০২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৮ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

প্রশ্ন : মালিক-শ্রমিক কি একে অন্যের সহোদর?

উত্তর দিচ্ছেন: মুফতী ইমামুদ্দীন সুলতান | প্রকাশের সময় : ২১ জুলাই, ২০২২, ১২:০৪ এএম

উত্তর : বর্তমানে শ্রমিক মালিকের পারস্পরিক সম্পর্কে এক বিরাট জটিল সমস্যা বিদ্যমান। মালিক শ্রমিকের মাঝে এক রুক্ষ ও কৃত্রিম সম্পর্ক বিরাজমান। সকলেই নিজ স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত। যার ফলে মালিক শ্রমিক আজ দুটি মারমুখি প্রতিদ্বন্ধি দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের পরস্পরে কোন সোহর্দপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক কায়েম হয়ে উঠতে পারছে না। বরং উভয়ের মাঝে এক চিরন্তন দর কষাকষি বিদ্যমান। মালিক সমিতি শ্রমিকদের সমান্য শ্রমের মজুরির বিনিময়ে তারা শ্রমিকের জান-মাল, ইজ্জতত-আব্রæ সব কিছুরই যেন তারা হর্তাকর্তা হয়ে যায়। তাদেরকে গোলাম এমনকি পশুর চেয়েও হীন এক জীব বলে মনে করতে থাকে। দরিদ্র ও সর্বহারা এই শ্রমিক শ্রেণির অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের উপর এক ঘৃণ্য রাজত্ব চালাতে শুরু করে দেয়।
তারা এটাকে শুধু বৈধ মনে করে না বরং নিজেদের আরাম প্রিয়তার এক শ্রেষ্ঠতম মাধ্যম বলে মনে করে। মজুরের রক্তের উপর নিজেদের আয়াশ ও তানায়ামের ভিত গড়ে তোলা, নিজেদের শোষণকে আরো মজবুত করার লক্ষ্যে প্রশাসন ব্যবস্থার আশ্রয় নেয়। আর তারা নির্বিচারে হামলা চালায় নিপীড়িত শ্রমিক শ্রেণীর উপর। তাদের এই অহেতুক বিলাশপ্রিয়তাই আজ মানুষের জীবনকে করে তোলেছে দুর্বিসহ।
পক্ষান্তরে ইসলাম হল একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। তাতে রয়েছে মানবজীবনের সকল সমস্যার সমাধান। যা মানুষকে নিরাপত্তা ও শান্তির রাস্তা দেখিয়েছে। শোষণের সব রকম মাধ্যমকেও মূল উৎপাটন করে ইনসাফ কায়েম করেছে। ইসলাম জুলুম ও শোষণের ঘৃণ্যতা এবং তার বিভৎসতা সম্মন্ধে প্রত্যেকটি মানুষের মনে এক অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। যাতে সে মন থেকে একে ঘৃণা করতে পারে, ফিরে থাকতে পারে। ইসলাম মানুষের মানবৃত্তিকেই আমূল পরিবর্তন করে দেয়। যে মানুষকে প্রথম থেকেই এমনি করে গড়ে তোলে। যাতে তার মধ্যে পাশবিক ও শোষণমূলক বদভাব-ধারার জন্ম না হয়। এর বিকাশ তার মধ্যে না ঘটে। মানুষ যেন সহানুভূতিশীল মানবতাবাদী এবং শোষণমুক্ত মনের অধিকারী হয়ে উঠতে পারে এব্যবস্থা ইসলাম করে।
ইসলাম কেবল মালিকদের শ্রমিকের উপর সাধ্যাতিত কাজের চাপ দিয়ে স্বার্থ উদ্ধারের কথা বলতে আসেনি। শুধু শ্রমিকদেরকে মালিকদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে তাদের স্বার্থ রক্ষার জিকির তুলে তাদেরকে দায়িত্বহীন করে তুলতে আসেনি। বরং ইসলামের অন্যতম লক্ষ হলো, সামঞ্জস্যপূর্ণ পৃথিবী গঠন করা। যেখানে সকলেই আপন আপন ন্যায়ানুগ অধিকার সংরক্ষিত রেখে নিরাপদে তা ভোগ করতে পারে। ইসলাম তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতির ভিত্তিতে এক সৌভ্রাতৃত্বমূলক সম্পর্ক কায়েম করে। ইসলাম উভয়কে এমন কতকগুলি বিধি-নিষেধ দ্বারা আবদ্ধ করে দিয়েছে যাতে তাদের ওই ব্যবস্থাগত সম্পর্ক কঠিন না হয়ে ভ্রাতৃত্বমূলক প্রীতির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইসলাম মালিককে সহনশীল হতে শিক্ষা দেয় । ক্ষমাসুন্দর মনোভাব নিয়ে শ্রমিকের দোষ-ত্রæটি মাফ করার প্রতি উৎসাহিত করে। শ্রমিকদের সমস্যা নিরসনে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করণে অত্যন্ত সজাগ, বাস্তব ও ন্যায়ানুগ দৃষ্টিভঙ্গি রাখে। এব্যাপারে ইসলাম অত্যান্ত কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।
নবী করীম সা. এদের সম্পর্কে বলেছেন “এরা তোমাদের ভাই। তোমাদের খেদমত করছে। আল্লাহ এদেরকে তোমাদের অধিনস্ত করে দিয়েছেন। তাই যার যে ভাই তার অধীনে রয়েছে তাকে যা সে নিজে খায় তা থেকে তাকে খেতে দিবে। যা সে নিজে পরে তাই তাকে পরাবে। আর যে কাজ তার জন্য অতি কষ্টকর সে কাজের বোঝা তার উপর চাপিয়ে দিও না। অগত্যা যদি সে রকমের কাজ করাতেই হয় তবে নিজে তাকে সাহায্য কর। (বুখারী)



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন