Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

স্মার্টফোন অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকারক দিকগুলো

আব্দুস সোবাহান রনি | প্রকাশের সময় : ২৯ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মাথা নামিয়ে, চোখ স্মার্টফোনের স্ক্রিনের দিকে আঠার মতো লাগিয়ে পথে হাটাহাটি করা মানুষ প্রায়ই দেখা যায়। এমন হাঁটাকে স্মার্টফোন ওয়াক’ নাম দিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান একে ‘বিরক্তিকর’ আখ্যা দিয়েছে। একে জেওয়াকিংও বলা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ডেলওয়্যার-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, ফোন ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে হাঁটা মানুষের চলাচলে পরিবর্তন আনে। সারাক্ষণ মোবাইলের ব্যবহারে আর কী কী প্রভাব পড়ে তা নিয়েই এই প্রতিবেদন-

এক  গবেষণায় দেখা গেছে ২.৬ কোটি ব্রিটিশ নাগরিক গ্যাজেট ব্যবহারের ফলে বুড়ো আঙ্গুলের ব্যাথায় ভোগেন। ডিভাইস ব্যবহারের কারণে একই আঙ্গুলের বারবার ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট এই ব্যাথাকে বলা হয় ব্ল্যাকবেরি থাম্ব।
ডিভাইসের স্ক্রিন দেখতে নিচে তাকিয়ে থাকার কারণে ঘাড়ে যে ব্যাথা অনুভূত হয়, তা আইপশ্চার নামে পরিচিত। আমাদের মাথার ভর ১০ থেকে ১২ পাউন্ড এবং লম্বা সময় ধরে এটি একটি দিকে রাখলে মেরুদন্ডে বাড়তি ভরের চাপ প্রয়োগ করে। যেমন, ১৫ ডিগ্রী বাঁকানো মাথা ঘাড়ের উপর ভর বাড়িয়ে দেয় ২৭ পাউন্ডের। ২০১৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ‘টেক্সটনেক’ নামের এই সমস্যা আরও ছড়িয়ে যেতে পারে। চোখের ডাক্তাররা সতর্ক করে জানান, স্মার্টফোনের পর্দার নীলচে আলো চরম ক্ষতিকারক এবং স্মার্টফোন অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে দীর্ঘমেয়াদী চোখের ক্ষতি হতে পারে। চোখ জ্বলা, মাথাব্যাথা এবং দূর দৃষ্টি কমে যাওয়ার মতো রোগগুলো ফোন এবং কম্পিউটার ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত।

গবেষণায় জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি’র ৮৯ শতাংশ স্নাতক শিক্ষার্থী যখন তাদের ফোন স্থির থাকে তখনও ‘অলৌকিক’ মোবাইল ভাইব্রেশনের অনুভুতি পান।  দুশ্চিন্তা করার প্রাথমিক কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এই ‘ফ্যান্টম ভাইব্রেশন’ নামের সমস্যাটিকে। প্রতি ১০ জন মোবাইল ব্যবহাকারীর সাতজনের মধ্যে এই সমস্যা থাকতে পারে। লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন এবং ট্রপিকাল মেডিসিন-এর ২০১১ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৬ শতাংশ ফোনেই কোলি (ব্যাকটেরিয়া) আশ্রয় নেয়। যার মানে হচ্ছে,  প্রতি ছয়টির মধ্যে একটি মোবাইল ফোন মল জাতীয় উপাদান বহন করে।

কানে কম শোনা
মুঠোফোন ব্যবহারের ফলে কানের সমস্যা তৈরির বিষয়টি অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। হেডফোন ব্যবহার করে উচ্চশব্দে গান শুনলে অন্তকর্ণের কোষগুলোর ওপর প্রভাব পড়ে এবং মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক আচরণ করে। একসময় বধির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শরীরের অস্থি-সন্ধিগুলোর ক্ষতি
অতিরিক্ত সময় ধরে মেসেজ বা বার্তা টাইপ করা হলে আঙুলের জয়েন্টগুলোতে ব্যথা হতে পারে এবং অবস্থা বেশি খারাপ হলে আর্থরাইটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়াও অনেকে অনেকেই কাজের সময় মুঠোফোন ব্যবহার করতে গিয়ে কাঁধ ও কানের মাঝে ফোন রেখে কথা বলেন। অনেকেই অতিরিক্ত ঝুঁকে বসে দীর্ঘ সময় ধরে বার্তা পাঠাতে থাকেন। বসার ভঙ্গির কারণেও শরীরে নানা অসুবিধা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ হচ্ছে অতিরিক্ত সময় ধরে মুঠোফোনে বার্তা লিখবেন না, এতে করে শরীরের জয়েন্ট বা সন্ধির সমস্যা থেকে সুস্থ থাকতে পারবেন।

কমে যেতে পারে শুক্রাণু
গবেষকেরা জানান, মুঠোফোন থেকে হাই ফ্রিকোয়েন্সির ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নির্গত হয়। এই ক্ষতিকর তরঙ্গের সঙ্গে মস্তিষ্কে ক্যানসারের যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্য কোষকলা এই ক্ষতিকর তরঙ্গের প্রভাবে ক্ষতির মুখে পঙতে পারে। ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে পুরুষের প্রজননতন্ত্রেরও। গবেষকেদের দাবি, মুঠোফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকর তরঙ্গ শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলে এবং শুক্রাণুর ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর