Inqilab Logo

মঙ্গলবার ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী
শিরোনাম

২০১৮ সালের মতো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না : সিইসি

আওয়ামী লীগের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে বিকল্পধারা ৩শ আসনে ইভিএম চায়

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ জুলাই, ২০২২, ১২:০১ এএম

বাংলাদেশে আর ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে ইসির সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর নেতৃত্বে ১০ সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল ইসির সংলাপে অংশ নেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহিনুর পাশা চৌধুরী, আব্দুস কুদ্দুস কাসেমী, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জল হক আজীজ, মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ জামী প্রমুখ। বিকেলে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি।
অন্যদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এর সভাপতিত্বে এতে ইসি কমিশনার মো. আলমগীর, রাশেদা সুলতান, আনিছুর রহমান ও বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান ও ইসি সচিব হুমায়ন কবির খোন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি বলেন, ২০১৮ সালের মতো নয়, আইন অনুযায়ী নির্বাচন হবে। সংসদ নির্বাচন হবে সময় মতো। বর্তমান কমিশন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে এসেছে, ডিগবাজি নয়। নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচন করতে চায় কমিশন। ভবিষ্যতে নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) দুর্নীতিতে জড়িত হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন সিইসি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের সময় অনেকে অর্থ ও পেশী শক্তি ব্যবহার করেন। এসব নিয়ন্ত্রণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এটার জন্য কমিশন একা কিছু করতে পারবে না, রাজনৈতিক দলগুলোকে এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এসময় লিখিত বক্তব্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়েও বেশি আগ্রহী ইভিএম বি চৌধুরীর বিকল্পধারা। ‘রাজা যত কয় পারিষদ আরো বেশি কয়’ প্রবাদের মতো আওয়ামী লীগ ইভিএম চাইলেও বি চৌধুরীর দল তোষামোদী করতেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ চায়। তবে এর আগে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে এই মেশিন সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। ইসি আয়োজিত সংলাপে অংশ নিয়ে এমন প্রস্তাবনা দেয় দলটি। বিকল্প ধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। এতে অন্যদের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল, চার ন্বিাচন কমিশনারসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পেছনে জনগণের অধিকার বঞ্চিত হওয়ার করুণ ইতিহাস রয়েছে। তার মধ্যে জনগণের ভোটাধিকার না পাওয়া অন্যতম। চুয়ান্ন সালের নির্বাচন ও বিশেষ করে ৭০ এর নির্বাচনে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের নানা তালবাহানা ও নির্মমতার ফলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মানুষ দ্রুত স্বাধীনতার প্রশ্নে আপোষহীন হয়ে ওঠে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আজ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নশীল দেশের গৌরব অর্জন করেছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরেপেক্ষ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। আপনারা নতুন কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এজন্য আপনাদের অভিনন্দন। তিনি ৭ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সিইসি


আরও
আরও পড়ুন