Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬, ২১ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

বৌদ্ধ-মুসলিম সম্পর্ক উন্নয়নের বাণী নিয়ে অবশেষে মিয়ানমার সফরে কফি আনান

| প্রকাশের সময় : ৩০ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব : মিয়ানমারে অহসায় রোহিঙ্গাদের ব্যাপক জীবন ও সম্পদহানির পর এখন শান্তির বাণী শোনা যাচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ এবং সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের মাঝে কীভাবে সম্পর্ক উন্নয়ন করা যায় সে প্রচেষ্টা চালাতে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মিয়ানমার সফর করছেন। মিয়ানমারের নতুন সরকার রোহিঙ্গা সম্পর্কিত যে নতুন কমিশন গঠন করেছে কফি আনান সেটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি তার এ সফরে ওই কমিশনের সদস্যদের সাথেও বৈঠক করবেন। জাতিসংঘের সাবেক এ মহাসচিব এমন এক সময়ে মিয়ানমার সফর করছেন যখন দেশটিতে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের কারণে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমিন তাদের ঘর-বাড়ি থেকে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সংবাদ মাধ্যমের কাছে অভিযোগ করছেন যে, রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করছে। এ অবস্থায় কফি আনানের উদ্যোগ ঠিক কতটা কার্যকর হবে এবং মিয়ানমারের মতো একটি অসহিষ্ণু দেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমান জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি ফিরে আসবে কিনা তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাখাইন রাজ্যে সংঘাত কীভাবে বন্ধ করা যায় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ও সংখ্যালঘু মুসলমানদের মাঝে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য মিয়ানমার সরকারকে পরামর্শ দেবেন আনান। মূলত মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সূচির আগ্রহে মি. আনানকে এ কমিশনের প্রধান করা হয়েছে। আনান যদিও চেষ্টা করছেন মিয়ানমারের বৌদ্ধ এবং মুসলমানদের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরি করতে। কিন্তু বাংলাদেশে অবস্থানরত জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা এরই মধ্যে বলেছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্মূল করতে চায়। কিন্তু আনান তার কাজে কতটা সফল হবেন সেটি নিয়ে এরই মধ্যে অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা আনানের নেতৃত্বে কমিশনকে পছন্দ করছে না। তারা এর আগে এ কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জানিয়েছিল। প্রায় চার মাস আগে আনানকে এ কমিশনের প্রধান করা হলেও তার কিছুদিন পরেই রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাতের শুরু হয়।
রোহিঙ্গা মুসলমানদের অভিযোগ, এবারের দমন-পীড়ন অতীতের যে কোনো মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। যদিও মিয়ানমারের সরকার বলছে, কয়েকটি পুলিশ ক্যাম্পে হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিহত হওয়ার পরে তারা এ অভিযান চালাচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করছে মিয়ানমারের সরকার। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর ব্যাপক অত্যাচার ও নিপীড়নের অভিযোগ সত্ত্বেও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি’র নীরবতার কারণে অনেকে তার সমালোচনা করছেন। বিবিসি, ওয়েবসাইট।



 

Show all comments
  • মাজেদ ৩০ নভেম্বর, ২০১৬, ১:০০ এএম says : 0
    সম্পর্ক উন্নয়ন হবে বলে মনে হচ্ছে না।
    Total Reply(0) Reply
  • ফজলুল হক ৩০ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:৫২ পিএম says : 0
    এতো দিন কোথায় ছিলেন তখন রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন করা হয়েছিলো ?
    Total Reply(0) Reply
  • সেলিম ৩০ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:৫৩ পিএম says : 0
    সম্পর্ক উন্নয়ন নয় এর একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া জরুরী
    Total Reply(0) Reply
  • মহিউদ্দিন ৩০ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:৫৩ পিএম says : 0
    অবশেষে তাহলে ঘুম ভাঙ্গলো ?
    Total Reply(0) Reply
  • বিপ্লব ৩০ নভেম্বর, ২০১৬, ১২:৫৪ পিএম says : 0
    অং সান সু চি’র নীরবতা মানে তিনি এতে সম্মত
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গা


আরও
আরও পড়ুন