Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী
শিরোনাম

লজ্জা এড়িয়ে স্বস্তির জয়

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ আগস্ট, ২০২২, ১২:০০ এএম

সিরিজ শুরুর আগে সম্ভাব্য ফল ছিল বাংলাদেশ ৩, জিম্বাবুয়ে ০। তবে বাস্তবতা সেটি নিয়ে গিয়েছিল উল্টোরথে। ২-০ তে ওয়ানডে সিরিজ খুইয়ে চোখ রাঙাচ্ছিল হোয়াইটওয়াশের লজ্জা। আগের দুই ম্যাচেই প্রায় তিনশ’র ঘরে (৩০৩ ও ২৯০) রান তুলেও মেনে নিতে হয়েছে কলঙ্কিত হারের গ্লানি। সেখানে পুঁজি কেবল ২৫৬! নিজেদের সবচাইতে প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের কাছেও বুঝি হোয়াইটওয়াশ হতে হয়! সিকান্দার রাজার সৌজন্যে মাত্র একটি জুটিই যে হারিয়ে দিতে যথেষ্ট তার প্রমাণও পেয়েছে তামিম ইকবালের বাংলাদেশ। তবে ৪০০তম ম্যাচ বলেই কি-না ভাগ্য বিধাতা এতটা কঠোর হলেন না টাইগারদের প্রতি। ১০৫ রানের স্বস্তির জয় দিয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ালো বাংলাদেশ। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে আগের ব্যাট করে ৯ উইকেটে বাংলাদেশের ২৫৬ রানের জবাবে ১৫১ রানে থামে জিম্বাবুয়ে।
সেই ২০০১ সালে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, গ্রান্ট ফ্লাওয়ার, হিথ স্ট্রিক, অ্যালেস্টার ক্যাম্পবেলদের দলের কাছে দুই দফায় হোয়াইটওয়াশড হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর আর কখনোই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই তেতো অভিজ্ঞতা হয়নি। বরং বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ করেছে ছয়-ছয়বার। এবার সেই ২১ বছর আগে ফিরে যাওয়ার শঙ্কা উঁকি দিচ্ছিল বেশ ভালোভাবেই। দিন পাঁচেক আগেও এমন কিছু ছিল অভাবনীয়। এই সিরিজের আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা ১৯ ওয়ানডে জিতেছে বাংলাদেশ। টানা ৯ বছরে সিরিজ জয় তো বহুদূর, কোনো ওয়ানডে ম্যাচই জিততে পারেনি জিম্বাবুয়ে। কিন্তু এবার প্রথম ম্যাচে রাজা ও ইনোসেন্ট কাইয়ার সেঞ্চুরি, দ্বিতীয় ম্যাচে রাজার আরেকটি সেঞ্চুরির সঙ্গে রেজিস চাকাভার বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে চমকে দিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে খর্বশক্তির জিম্বাবুয়ে।
এদিন তাই বুকের ধুকপুকানি বেড়ে হৃদপিণ্ডটা বেরিয়ে যাবার লোকের অভাব ছিলনা বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। তবে আগের ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে না পারা মুস্তাফিজ এলেন ত্রাতার ভূমিকায়। এর আগে কট বিহাইন্ডের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। ফ্রি হিটে ক্যাচ হয়েছে, পরে ক্যাচ পড়েছে। কাটার মাস্টার এবার আর কারও ওপর নির্ভর করতে চাইলেন না। তাঁকে জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হলেন নিয়াউচি। ভাঙে রেকর্ড জুটি। ইতি ঘটে ম্যাচেরও। সান্ত্বনার জয় পায় বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের শেষটিতে এসে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াল তামিমের দল।
গতকাল হারারের স্পোর্টস ক্লাবে বাংলাদেশ খেলতে নেমেছিল নিজেদের ৪০০তম ওয়ানডে। মাইলফলক ম্যাচ বলেই কি-না স্কোরবোর্ডে মাত্র ২৫৬ রান নিয়েও সিরিজের শেষ ম্যাচটা জেতার চেষ্টা দেখা গেছে বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণে। হাসানের প্রথম ওভারেই আঘাত, অভিষেকেই ইবাদতের এক ওভারে জোড়া আঘাত তারই প্রমাণ। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামও নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে উইকেট তুলে নিয়েছেন। তাতে চোখের পলকে জিম্বাবুয়ের ওপরের সারির ৬ ব্যাটসম্যান ড্রেসিংরুমে, স্কোরবোর্ডে রান মাত্র ৪৯।
বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় তখনই। বাকি ছিল আনুষ্ঠানিকতা। সেটুকু লম্বা করেছে জিম্বাবুয়ের ১০ম উইকেটের জুটি। রিচার্ড এনগারাভা ও ভিক্টর নিয়াউচি মিলে ৫৮ বলে ৬৮ রান তুলে বাংলাদেশের জয়ের অপেক্ষা বাড়িয়েছেন। তাতে ১০৫ রানে হারের এই ম্যাচ থেকে জিম্বাবুয়ের একটি প্রাপ্তিও আছে। ১০ম উইকেটে নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তুলেছে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষেও এই সংস্করণে ১০ম উইকেটে এটি সর্বোচ্চ রান তোলার রেকর্ড। শেষ পর্যন্ত ৩২.২ ওভারে ১৫১ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে।
তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং অপরিবর্তনীয় থাকলেও পরিবর্তন আনা হয় বোলিংয়ে। তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলামকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। দুই পেসারের জায়গায় দলে এসেছেন মুস্তাফিজ ও ইবাদত। হাসানের সঙ্গে নতুন বল ভাগাভাগি করে নিজের ওয়ানডে অভিষেকটা রাঙিয়েছেন ইবাদত। গতিময় বোলিংয়ে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠ কাঁপিয়েছেন দুজন। প্রথম স্পেলে দুই পেসারের সৌজন্য ৩ উইকেট পেয়ে যায় বাংলাদেশ।
অধিনায়ক তামিম গতির সঙ্গে স্পিনের মিশ্রণটা করেছেন দারুণ। পেসারদের ছোট ছোট স্পেলে বোলিং করিয়েছেন। নতুন বলে সুযোগ দিয়েছেন স্পিনারদেরও। মিরাজ ও তাইজুল পাওয়ার প্লেতেই একটি করে উইকেট নিয়ে অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। তবে শেষটা করেছেন মোস্তাফিজ। লেজের সারির ব্যাটসম্যানদের আউট করে জিম্বাবুয়ে ইনিংসের ইতি টানেন তিনি। ৪ উইকেট নেওয়া মুস্তাফিজ জিম্বাবুয়ের ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি।
বাংলাদেশ দলের ইনিংসে শুরুর গল্পটা তামিমকে নিয়েই বলতে হয়। দারুণ ছন্দে থাকা বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক গতকালও আরেকটু ভালো শুরু পেয়ে সেটি কাজে লাগাতে পারেননি। হতাশাটা বেশি আউটের ধরনের কারণে। উদ্বোধনে তামিমের সঙ্গী এনামুল হকের সঙ্গে বোঝাপড়ার ভুলে রান আউট হন তিনি। প্রথম দুই ম্যাচে ৬২, ৫০ রানের পর আজ ১৯ রানে থামে তামিমের ইনিংস। এক উইকেট পতনের পর হঠাৎই কি যেন হলো বাংলাদেশের। ৭ রানের ব্যবধানে নাজমুল হোসেন ও মুশফিকুর রহিম আউট হন ক্যাচ তুলে। এক ওভার আগেও যে পাওয়ার-প্লে বাংলাদেশের জন্য আদর্শ মনে হচ্ছিল, সেটি ৩ উইকেটে ৪৭ রানের রূপ নিল।
এরপর বাংলাদেশের মান রক্ষা করেছেন এনামুল ও আফিফ হোসেন। এনামুলের ৭১ বলে ৭৬ রানের ইনিংসটি এসেছে প্রতি আক্রমণে। ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে তিনি বাংলাদেশকে দ্রুত তিন উইকেট হারানোর ঘটনা প্রায় ভুলিয়ে দিচ্ছিলেন। কিন্তু সিরিজ জুড়ে বাংলাদেশের সে সেঞ্চুরি নিয়ে হতাশা, সেটি দূর করতে পারেননি সুযোগ পেয়েও।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: লজ্জা এড়িয়ে স্বস্তির জয়
আরও পড়ুন