Inqilab Logo

সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী
শিরোনাম

উন্নয়নের রোল মডেলের হাতে এখন ভিক্ষার থালা

সংবাদ সম্মেলনে রজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১২ আগস্ট, ২০২২, ১২:০৩ এএম

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গত ১৩ বছর ধরে গোয়েবলসীয় সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে রুপকথা সাজিয়ে ভারি গর্ব করে আসছে। তারা বলে আসছিল দেশ নাকি সিঙ্গাপুর কানাডা অস্ট্রেলিয়াকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ মেগা লুটপাটের জন্য অবিশ্বাস্য ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, স্ফীত করে জিডিপির আকার, প্রবৃদ্ধি আর মাথাপিছু আয় দেখানোর প্রতিযোগিতা চলছিল সরকারি উন্নয়নের গল্পে। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি-বর্তমান বাংলাদেশে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শুন্য, দেশের বিকাশমান তৈরী পোশাক শিল্পের বিপর্যয়, দেশের বাইরের ক্রেতারা রপ্তানী আদেশ বাতিল কিংবা স্থগিত করছেন, রেমিট্যান্সে বিশাল ঘাটতি, চলতি হিসাবে ভারসাম্যহীনতা, রাজস্ব আয় ধ্বসে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমতে কমতে সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিরাজ করছে এখন সর্বকালের নজীরবিহীন নৈরাজ্য। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের রোল মডেলের হাতে এখন ভিক্ষার থালা। গতকাল বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা তার ভয়াবহ বিপদ বুঝতে পারছেন। সে জন্যেই মুখে নানারকম বড়াই করলেও, ঋণের জন্য অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে আইএমএফ, এডিবি, বিশ্বব্যাংকসহ দাতাদের দুয়ারে দুয়ারে পাঠাচ্ছেন। জনগণকে এখন প্রতিদিন কৃচ্ছতা সাধনের বাণী শোনাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমদানি বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছে না রফতানি এবং রফতানি আয়। রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ায় রেকর্ড পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে বাংলাদেশে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স না পাঠালে প্রবাসীদের দূতাবাসের সেবা বন্ধের হুমকি দিয়ে নোটিশ জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের হুমকী দিয়ে বলেছেন, ‘আসুন রাজপথে মোকাবেলা হবে, ফয়সালা হবে। ’আগুন নিয়ে খেলতে আসলে পরিণাম হবে ভয়াবহ। ’যতই বাধা আসুক সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা রাজপথের পুরাতন খেলোয়াড়। বিএনপি তো এই পথে নতুন।” তবে ওবায়দুল কাদের আর একটি কথা বলেননি, রাজপথে থেকে কথা দিয়ে কিভাবে জনগণের সাথে বিশ^াসঘাতকতা করতে হয় সেটি বলেননি, সেই দৃষ্টান্তও তাদের আছে। বারবার তাদের বিশ^াসঘাতকতার কারণে বাংলাদেশের নিজস্ব ভূমিতে তারা গণতন্ত্রের শেকড় গজাতে দেয়নি। বাকশাল, নিশিরাতের নির্বাচন, বিনা ভোটের নির্বাচন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সংবাদপত্রের কন্ঠরোধ সেটিরই উদাহরণ। ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথাবার্তায় মনে হয় দেশটা তাদের পৈতৃক তালুক আর জনগণ তাদের আর্দালী। এদের একমাত্র সাধনা-ক্ষমতা অর্জন এবং ক্ষমতা লাভের আগে বা পরে কোন সময়েই তারা ন্যায়নীতির নির্দেশ গ্রাহ্য করেনি।
ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই নেতা বলেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজেদের চেতনায় রাঙিয়ে তাদের দিয়ে নুরে আলম ও আব্দুর রহিমসহ বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে পাখির মতো গুলি করে মারছেন, তার ওপর আবার ‘আঙ্গুল চোষার’ কথা বলে বড়াই করছেন। স্বাধীনতার পর থেকে আপনাদের কারণেই স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। যখনই ক্ষমতায় এসেছেন তখনই গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। সেই কারণেই আপনাদের পতনের পর কেউই আপনাদের জন্য হা-হুতাশ করেনা। এবারও আপনাদের সরকারের আসন্ন পতনে মানুষ উল্লাস করবে। ওবায়দুল কাদের সাহেব’রা ‘ননসেন্স বক্তৃতা’য় অত্যন্ত পারঙ্গম।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ