Inqilab Logo

রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯, ২৮ সফর ১৪৪৪

একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই স্ত্রীকে হত্যা করে রেজাউল

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশের সময় : ১২ আগস্ট, ২০২২, ১:২৬ পিএম

২০১৯ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর প্রেম করে পরিবারের অমতে ২০২০ সালের অক্টোবরে রেজাউলকে বিয়ে করেন চিকিৎসক স্ত্রী জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকা।
তবে স্বামী রেজাউলের একাধিক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জেরে শুরু মনোমালিন্য ও বাগবিতন্ডা। তাই স্ত্রীকে পথের কাটা ভেবে সরিয়ে দিতে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে রেজাউল। চিকিৎসক স্ত্রী জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকাকে হত্যার জন্য বেশ কদিন ধরেই ব্যাগে ধারালো অস্ত্র বহন করছিল রেজাউল। পূর্ব পরিকল্পনা মতে জান্নাতুল নাঈমের জন্মদিন পালনের কথা বলে গত ১০ আগস্ট পান্থপথের ‘ফ্যামিলি অ্যাপার্টমেন্টে’ নামে একটি আবাসিক হোটেল নিয়ে যায়। সেখানে কথা কাটাকাটি, বাগবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে।


রাজধানীর পান্থপথের একটি আবাসিক হোটেল থেকে গলাকাটা অবস্থায় নারী চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী রেজাউল করিম ওরফে রেজাকে চট্টগ্রামের মুরাদপুরের একটি ছাত্রাবাস থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।


শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট নামক আবাসিক হোটেল থেকে নারী চিকিৎসকের গলাকেটে
হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে রাজধানীর কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

মামলার ভিত্তিতে র‌্যাব হত্যাকান্ডে জড়িতদের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। গত রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র‌্যাব- ২ এবং র‌্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম মুরাদপুর এলাকা আসামী রেজাউল করিম রেজা(৩১)কে গ্রেপ্তার করা হয়।


এসময় উদ্ধার করা হয় হত্যাকান্ডে রেজার পরিহিত রক্তমাখা গেঞ্জি, মোবাইল ও ব্যবহৃত ব্যাগ এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল।


গ্রেপ্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব কর্মকর্তা মঈন জানায়, গ্রেপ্তার রেজাউল ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করে। এমবিএ চলাকালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরমধ্যে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে জুন মাসে সে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে যোগদান করেন।


নিহত নারীর সঙ্গে পরিচয় প্রেম ও হত্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আসামী রেজা র‌্যাবকে জানায়, ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দিকার সঙ্গে পরিচয়। এরপর প্রেমের সম্পর্ক। ২০২০ সালে অক্টোবরে বিয়ে করেন তারা। পরিবারের অগোচরে বিয়ে হওয়ায় তারা স্বামী স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করতেন।


র‍্যাব মুখপাত্র বলেন, বিবাহিত সম্পর্কের মধ্যেও গ্রেপ্তার রেজার একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেম সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন। তা স্ত্রী জেনে যাওয়ায় মনোমালিন্য ও বাকবিতন্ডা শুরু হয়। বৈবাহিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে জান্নাতুল নাঈম স্বামী রেজাকে কাউন্সেলিং ও আলাপচারিতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।


খন্দকার মঈন বলেন, বিভিন্ন সময় বাগবিতন্ডার মধ্যে স্ত্রীকে প্রতিবন্ধক ভাবতে শুরু করেন। স্ত্রীকে চিরজীবনের জন্য সরিয়ে দিতে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন রেজা। পরিকল্পনা অনুযায়ী বেশ ক’দিন ধরেই স্ত্রীকে হত্যার জন্য কাঁধের ব্যাগে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘুরছিল রেজা।


র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গত ১০ আগস্ট চিকিৎসক স্ত্রী জান্নাতুল নাঈমের জন্মদিন উদযাপনের কথা বলে পান্থপথের ‘ফ্যামিলি অ্যাপার্টমেন্টে’ নামে একটি আবাসিক হোটেল নিয়ে যায়। ঐ অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থানকালে বিভিন্ন নারীর সাথে সম্পর্ক নিয়ে কথা কাটাকাটি, বাগবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।


তিনি আরও বলেন, এসময় রেজা তার ব্যাগ থেকে ধারালো ছুরি বের করে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর রক্তমাখা কাপড় পরিবর্তন করে গোসল করে মোবাইল ফোনও সঙ্গে হোটেলের দরজার বাইরে থেকে সে রুমের তালা বন্ধ করে বেড়িয়ে যায়।


র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রেজা জানান, হোটেল থেকে বেরিয়ে প্রথমে মালিবাগে তার বাসায় যায়। বাসা থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে একটি হাসপাতালে গিয়ে তার নিজের হাতের ক্ষত স্থান সেলাই করে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। পরে আরামবাগ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসযোগে চট্টগ্রামে গিয়ে মুরাদপুরে আত্মগোপন করে।


র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার মঈন বলেন, তিনি কিভাবে এই হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেন সেজন্য একজন আইনজীবির সঙ্গে যোগাযোগও করেন রেজা। এরমধ্যেই র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হয় রেজা।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ