Inqilab Logo

রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯, ২৮ সফর ১৪৪৪
শিরোনাম

দেশে শিশু মৃত্যু হার কমাবে ‘স্ক্যানু’- স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রতি হাজারে ৩০ নবজাতকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ আগস্ট, ২০২২, ৮:১৬ পিএম

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫০টি জেলায় নবজাতকের সুরক্ষায় বিশেষায়িত সেবা ব্যবস্থা ‘স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ণ ইউনিট (স্ক্যানু) চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিশু মৃত্যুর হার অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রতি হাজারে ৩০ জন নবজাতকের মৃত্যু হয় সঠিক যতেœর অভাবে। কিন্তু এসডিজি লক্ষমাত্রা অর্জন করতে হলে এই হার কমিয়ে ১২ জনে আনতে হবে। এক্ষেত্রে স্ক্যানু কার্যকর ভুমিকা রাখবে। শনিবার (১৩ আগস্ট) মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে শিশুদের স্পেশাল কেয়ার ইউনিট স্ক্যানু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, আজকে স্ক্যানু উদ্বোধন করলাম। যারা আমাদেরকে স্ক্যানু দিয়েছে, তাদেরকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে ইউনিসেফ, ইউএসএইড, সেভ দ্যা চিল্ড্রেন আমাদেরকে সহায়তা করে যাচ্ছে। আমরা ৬৪ জেলার মধ্যে ৫০টিতে স্ক্যানু স্থাপনে সক্ষম হয়েছি। আশা করি খুব দ্রুতই বাকিগুলোতে স্থাপন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দেশে একসময় শিশু মৃত্যুর হার হাজারে ১০০ কাছাকাছি ছিলো, এখন কমে ৩০ এসেছে। শিগগিরি আমরা ১২ তে নামিয়ে আনতে চাই। এসডিজি লক্ষমাত্রা অর্জনে আমাদের মা ও শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে হবে। এক্ষেত্রে স্ক্যানু বিশেষ ভুমিকা পালণ করবে।

জাহিদ মালেক বলেন, স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ণ ইউনিটটি মূলত আইসিইউর (নিবিড় পরিচর্য কেন্দ্র) মতো কাজ করে। সেখানে নবজাতকদের যেন সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়, সেটি আমরা নিশ্চিত করবো। একজন নবজাতক শিশু ওই সময়টাতে কথা বলতে পারে না। তারা নির্ভর করে অনেকটা মা আর পরিবেশের ওপর। এখন যেহেতু স্ক্যানু মাধ্যমে নবজাতকের সবধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, আশা করা যায় এতে করে শিশু মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে যাবে। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্ক্যানুকে ব্যবস্থাটি আমরা জাতির পিতার শিশুপুত্র শেখ রাসেলের নামে উৎসর্গ করলাম। সারাদেশের প্রতিটি হাসপাতালেই শেখ রাসেলের নামে স্ক্যানুর নামকরণ করা হবে। এর মাধ্যমে শিশু রাসেলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এক্ষেত্রে যেখানে যেই অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, সেটি ব্যবস্থা করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, সরকারের এসডিজি লক্ষমাত্রা অর্জনে এই স্ক্যানু কাজ করবে। তবে, এটা ঠিক যে যেকোন কিছু উদ্বোধন ও শুরু করা সহজ, কিন্তু সেটা ধরে রাখা কঠিন। আমরা চেষ্টা করবো স্ক্যানুটা যেন হারিয়ে না যায়, যন্ত্রপাতি যেন নষ্ট হয়ে পড়ে না থাকে। তিনি বলেন, স্ক্যানু চালুর ফলে ঢাকামুখী রোগীদের ভিড় কমবে। কিন্তু কোন কারণে বন্ধ হয়ে গেলে আবারও চাপ বেড়ে যাবে। আমরা অধিদফতর থেকে চেষ্টা করবো যেন সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রাক্তন চেয়রাম্যান ও বিশিষ্ট নবজাতক বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, নবজাতকের সেবায় স্ক্যানু গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে। আমরা দেখছি, দেশে প্রতি এক হাজার জীবিত নবজাতক থেকে ২৮ দিনের মধ্যে ১৮ শতাংশের মৃত্যু হয়। ১৮ শতাংশের মৃত্যু হয় ২ থেকে ৮ দিনের মধ্যে। তিনি বলেন, ৫০টি হাসপাতালে স্ক্যানু চালু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ১৪টি জেলায় নেই, আশা করছি বাকি জেলাগুলোতেও দ্রুত এই সেবা চালু হয়ে যাবে। স্ক্যানুর চেয়ে মাদার স্ক্যানুটাও জরুরি, শুধু স্ক্যানু নয়। মাদার স্ক্যানুতে মায়ের সাথে থাকবে নবজাতক। এতে শিশু সুরক্ষিত থাকবে, নার্স কম লাগবে, চিকিৎসক কম লাগবে। তবে চালুর চেয়ে মেইটেনেন্স জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদফতর সারাদেশের স্ক্যনুগুলো সার্বিক তত্ত্ববধানে আরআরটি (র‌্যাপিড রেসপন্স টিম) প্রস্তুত করা হয়েছে। এই টিমা ঠিকমতো কাজ করলে এই স্ক্যানুগুলো চলবে।

 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আহমেদুল কবির, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক প্রশাসন প্রফেসর ডা. শামিউল ইসলাম সাদী, লাইন ডিরেক্টার এইচএসএম প্রফেসর ডা. মাজহুরুল ইসলাম তপন, উপ-পরিচালক ডা. শেখ দাউদ আদনান, বিভাগীয় পর্যায়ে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক খান মোহাম্মদ আরিফ প্রমুখ।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ