Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী
শিরোনাম

বিচারের দাবিতে লাশ নিয়ে স্বজনদের বিক্ষোভ, জেলা প্রশাসক কার্যালয় অবস্থান

ঝালকাঠি জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৭ আগস্ট, ২০২২, ৩:৪৩ পিএম

ঝালকাঠিতে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মৃত এক নারীর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছে স্বজনরা। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে, প্রেস ক্লাব ও থানার সামনে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। বিক্ষোভ শেষে লাশ নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অবস্থান নেয় স্বজনরা। মৃত নারীর নাম তাসলিমা বেগম (৩৬)। তিনি ঝালকাঠি শহরের নতুন কলাবাগান এলাকায় মো. খোকন বিশ^াসের স্ত্রী। গত ১৫ এপ্রিল বিকেলে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাসলিমা বেগমসহ তাঁর পরিবারের পাঁচজনকে পিটিয়ে আহত করে প্রতিবেশী সাইফুল খান, শামিম ভূইয়া, মো. নুরজামান ও তাদের স্বজনরা। গুরুতর অবস্থায় তাসলিমা বেগম চার মাস ঝালকাঠি, বরিশাল ও ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ বুধবার সকালে বরিশাল সদর হাসপাতালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ক্ষুব্দ স্বজনরা বরিশাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ নিয়ে ঝালকাঠি আসেন। হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, মারামারি ঘটনায় ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে হামলাকারিদের অসামি করে গত ২৩ এপ্রিল ঝালকাঠির আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ঝালকাঠি থানায় লিপিবদ্ধ করা হয়। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়া পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি। তাই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে লাশ নিয়ে পরিবারে লোকজন আহাজারি করেন। ঝালকাঠির ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন নিহত পরিবারে সদস্যদের মৃতদেহ নিয়ে ঝালকাঠি থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
নিহতের স্বামী খোকন বিশ্বাস বলেন, সাইফুল খান, শামিম ভূইয়া, মো. নুরজামান লোকজন নিয়ে আমাদের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। তাঁরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে আমাদের পরিবারের পাঁচজনকে আহত করে। এর মধ্যে আমার স্ত্রী গুরুতর আহত হয়। তাকে চার মাস ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু সে আর সুস্থ হয়ে ফিরতে পারেনি। আমি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দাবি করছি। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আমাদের বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। এখন পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করুক, এটাই আমাদের দাবি।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, মামলাটি তদন্ত চলছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ