Inqilab Logo

সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

তের আগস্ট জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের রেকি করতে এসেছিল : মেয়র তাপস

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ আগস্ট, ২০২২, ১১:৩৮ পিএম

বাবা শেখ ফজলুল হক মনির সাথে সাক্ষাতের ছলে ১৯৭৫ সালের ১৩ আগাস্ট খুনি জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের রেকি করতে এসেছিল বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

আজ সন্ধ্যায় জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগ কর্তৃক 'জাতীয় শোক দিবস-২০২২' উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মেয়র এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৩ অগাস্ট খুনি জিয়াউর রহমান আমাদের বাসায় এসেছিল। সেদিন দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে তিনি বাবার সাথে দেখা করে গেছেন। সেদিন জিয়াউর রহমানের আমাদের বাসায় আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই হত্যাকান্ড সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনও তথ্য আছে কি-না তা জানার অনুমান করা। আমরা কোনও কিছু জানি নাকি? বাসার পরিস্থিতি কি, আশেপাশের অবস্থা কি? এসব রেকি করার জন্যই সেদিন খুনি জিয়া নিজেই স্বশরীরে আমাদের বাসায় এসেছিল।’

নেপথ্য থেকে শুধু হত্যাকান্ড ঘটানোয় নয়, খুনিদের রক্ষা করাও জিয়াউর রহমানের মূল ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের মূল কার্যক্রমই ছিল নেপথ্য থেকে এই হত্যাকান্ড সামাল দেওয়া। সেই খুনিদেরকে বাঁচানো। কেউ যেন সেই খুনিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে না পারে এবং তাদের যে মূল উদ্দেশ্য, তা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় সেটা নিশ্চিত করা। সেটাই তিনি সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছেন।"

১৫ অগাস্ট হত্যাকান্ড পরবর্তী কর্মকান্ড ও তৎপরতা জিয়াউর রহমানের অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত থাকাকে প্রমাণ করে উল্লেখ করে বলেন, ‘১৫ হত্যাকান্ডের পরে যারা এই হত্যাকান্ডকে বাধা দিতে চেয়েছিল, প্রতিঘাত করতে চেয়েছিল, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেয়েছিল কর্নেল নুরুদ্দীন ও শাফায়াত জামিলকে আটক করে কর্নেল রশিদ সেদিন জিয়াউর রহমানের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। খুনের পরবর্তী ঘটনা আরও প্রমাণ করে যে, জিয়াউর রহমান তাদের আস্থার জায়গা ছিল। সাধারণ মানুষের কিংবা সেনাবাহিনীর মধ্যকার যে কোনও ধরনের প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং প্রতিহত করার যে কোনও প্রচেষ্টা সেদিন জিয়াউর রহমান সামাল দিয়েছিল। সুতরাং এসব তথ্য-উপাত্ত প্রমাণ করে যে ১৫ অগাস্ট হত্যাকান্ডে খুনি জিয়া ওৎপ্রোতভাবে জড়িত ছিল।’

জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের মার্চ মাসেই খুনি কর্নেল রশিদকে 'গো এহেড' নির্দেশের মাধ্যমেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা, সরকারের বিরুদ্ধে ক্যু করা এবং রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে মেয়র উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "বঙ্গবন্ধুর খুনিরা আজও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাই মুক্তিযুদ্ধরবিরোধী শক্তি জামায়াত-বিএনপির সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে সবাইকে শপথ নিতে হবে।"

ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের বিচার করার যে বক্তব্য বিএনপি মহাসচিব রাখছেন তার জবাবে ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "অপকর্মের জন্য আপনাদের নেতা তারেক জিয়ার বিচার হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের মাটিতে বঙ্গবন্ধুর খুনি ও রাজাকারদের বিচার করেছে। তেমনি আপনাদের সকল অন্যায়েরও বিচার হবে।"

আগামী নির্বাচনে আসবে না বলে বিএনপির হুঁশিয়ারি জবাবে ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "নির্বাচনে অংশ না নিয়ে হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও আর করতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাহায্য করবে।"

অনুষ্ঠান শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ অগাস্ট কাল রাতে শাহাদাতবরণকারী সকলের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শহিদ উল্লাহ মিনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহম্মেদ মন্নাফী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী মো. শাহিদ, সাজেদা বেগম, হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজ হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এফ এম শরিফুল ইসলাম, কার্য নির্বাহী সদস্য ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মারুফ আহমেদ মনসুরসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের অন্তর্গত বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ