Inqilab Logo

সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী
শিরোনাম

সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান গেলেন রাজনৈতিক সভায়

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০২২, ১২:১০ পিএম

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ এসেছে। এ নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, তিনি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েই অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করেছেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলছেন- তিনি কিছুই জানেন না।

জেলা প্রশাসন বলছে, অ্যাম্বুলেন্সটি শুধুমাত্র রোগীদের ব্যবহার করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু সরকারি নীতিমালা অমান্য করে ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক কাজে চেয়ারম্যান অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করেছেন। এর আগেও রাজনৈতিক কাজে তিনি অ্যাম্বুলেন্সে করে যাতায়াত করেছেন। চেয়ারম্যানের দাবি, অ্যাম্বুলেন্সটি কেউ ভাড়ায় নেয় না। এমনিতে পড়ে থাকে। কিন্তু চালককে বেতন দিতে হয়। এজন্যই ভাড়ায় তিনি ব্যবহার করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) রাতে রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসের হাটের চমকা বাজার এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি রাজনৈতিক সভায় নেওয়া হয়। সেখানে রায়পুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন মাস্টারের জামাই মো. মুরাদের বাড়িতে ইসলামী আন্দোলনের সভা ছিল। সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সটি ওই বাড়িতে ছিল। এদিকে বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, রোগীদের সেবা দেওয়া ছাড়া কোনোভাবেই অন্য কাজে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করা যাবে না। চেয়ারম্যান রাজনৈতিক কাজে কেন ব্যবহার করেছেন? এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রাণ গোবিন্দ দাস বলেন, অ্যাম্বুলেন্সটি ইউনিয়নের নির্দিষ্ট একটি জায়গায় থাকার কথা। চেয়ারম্যান এটা দিয়ে অন্য কোথাও গেছে কিনা, সেটা আমার জানা নেই। ইউপি চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, আমি ইউএনও এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অনুমতি নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করেছি। অ্যাম্বুলেন্স কেউ ভাড়ায় নেন না। কিন্তু চালককে ভাড়া দিতে হয়। এ জন্যই অ্যাম্বুলেন্সটি ভাড়ায় আমি ব্যবহার করেছি। অন্য কোনো গাড়ি নিলেও আমাকে ভাড়া দিতে হতো।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, চেয়ারম্যানকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হবে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, ইউনিয়নে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা করলে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ। তখন বিষয়টি সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা।



 

Show all comments
  • Azmal Haque ১৯ আগস্ট, ২০২২, ৮:৫৬ পিএম says : 0
    ভালো কাজ ও ভালো লোকের পেছনে শয়তান লেগেই থাকে।
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃকামরুল ইসলাম অয়ন ১৯ আগস্ট, ২০২২, ৩:০২ পিএম says : 0
    যখন দেশে দূর্নীতির মহড়া চলছে সেদিকে না তাকিয়ে একজন সাধারণ চেয়ারম্যান এর পিছে ষড়যন্ত্র করার কারণ কি? আর উনিতো উপর মহল থেকে অনুমতি নিয়েছেন।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Nazmul Hasan ১৯ আগস্ট, ২০২২, ৩:২১ পিএম says : 0
    যে হত এম্বুলেন্স টি ব্যাবহার হয় তাই ওনি ব্যাবহার করছে,, আর ওনি ত এটা ভারা দিয়ে ব্যাবহার করেছে,, এটা আমার মতে যক্তিক,,
    Total Reply(0) Reply
  • shabuddin ১৯ আগস্ট, ২০২২, ১১:০৬ পিএম says : 0
    চ্যায়ারম্যানের কাজে কথা আসছে!!সেটা ঠিক হয়েভহি মাইন জামাতকে আনলো কেন!!
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ