Inqilab Logo

শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০৮ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

তুরস্ক-আজারবাইজান যৌথ সামরিক মহড়া

সময় হলে যেটা প্রয়োজন তুরস্ক সেটাই করবে : এরদোগান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২:০০ এএম

তুরস্কের বিমানবাহিনী সোমবার থেকে আজারবাইজানের সাথে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। ভ্রাতৃপ্রতিম দুদেশের এ সামরিক মহড়া চলবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। খবর আনাদোলুর। আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুরআজ ঈগল-২০২২ (তুরআজ কারতালি-২০২২) নামে কৌশলগত এ যৌথ সামরিক মহড়ায় দেশ দুটির বিমানবাহিনী অংশগ্রহণ করছে। মহড়ার আগে সোমবার সকালে দুদেশের সেনাসদস্যদের অংশগ্রহণে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অপর এক খবরে বলা হয়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, গ্রিস তার দেশের পর্যায়ের নয়। দুই দেশের সা¤প্রতিক বিরোধের মধ্যেই সোমবার এমন মন্তব্য করেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি। রাজধানী আঙ্কারায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এরদোগান বলেন, স¤প্রতি তুরস্কের প্রতি হয়রানি ও অশিষ্টতার মাত্রা বাড়িয়েছে গ্রিস। কিন্তু দেশটি আঙ্কারার পর্যায়ে নেই। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কিংবা সামরিকভাবে তারা আমাদের সমকক্ষ নয়। সময় হলে যেটা প্রয়োজন হয় তুরস্ক সেটাই করবে। এরদোগান বলেন, ‘গ্রিস, ইতিহাসের দিকে তাকাও! খুব বেশি বাড়লে চড়া মূল্য দিতে হবে। গ্রিসকে আমাদের একটি কথা বলার আছে। ইজমিরের কথা মনে রাখবেন।’ এক শতক আগে এই ইজমিরের দখল নিয়েছিল গ্রিক বাহিনী। পরে তাদের হটিয়ে অঞ্চলটি পুনরুদ্ধারে সমর্থ হয় তুরস্ক। সা¤প্রতিক মাসগুলোতে গ্রিসের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলে দফায় দফায় উস্কানিমূলক কর্মকাÐের অভিযোগ তোলে তুরস্ক। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ২০২২ সালের প্রথম আট মাসেই গ্রিস এক হাজার ১০০ বার তাদের আকাশ ও পানিসীমা লংঘন করেছে। তুরস্ক ও গ্রিস উভয়েই ন্যাটো জোটের সদস্য। ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং শত্রæপক্ষের হাত থেকে যে কোনও সদস্য দেশকে রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই জোট। তবে তা সত্তে¡ও এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যকার সম্পর্ক যেন সাপে নেউলে। পূর্ব ভ‚মধ্যসাগরের দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে প্রায়ই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। তেল কিংবা গ্যাসের মতো মূল্যবান কোনও সম্পদ নিয়ে নয়, বরং সমুদ্র সীমান্ত নিয়েই এই দ্ব›দ্ব। ১৯৯৬ সালে ইমিয়া অঞ্চলের একটি ছোট জনবসতিহীন দ্বীপ নিয়ে দুই পক্ষ বিবাদে জড়ায়। একটুর জন্য তা যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়নি। ২০২০ সালে ফের একটি ভ‚খÐ নিয়ে মারাত্মক বিবাদ শুরু হয়। ওই বছর তৎকালীন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতায় মুখ্য ভ‚মিকা পালন করেন। এ ইস্যুতে ইইউ নেতাদেরও সমর্থন পান তিনি। এখন পূর্ব এজিয়ানের বেশ কয়েকটি দ্বীপের ওপর গ্রিসের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তুরস্ক। দ্বীপগুলো হলো রোডস, লেসবোস, সামোস ও কোস। গ্রিসের দাবি, এই গ্রিক দ্বীপগুলোর ওপর দিয়ে নিয়মিত জেট ওড়ানোর অনুমতি দিয়েছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। তুরস্ক ও গ্রিসের যুদ্ধের পর ১৯২৩ সালের লুজান চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের বর্তমান সীমানা ঠিক হয়েছিল। লেসবস, চিওস, সামোস ও ইকারিয়ার দ্বীপপুঞ্জ নিয়ন্ত্রণের ভার দেওয়া হয় গ্রিসকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ১৯৪৭ সালের প্যারিস চুক্তিতে ইতালি ডোডেকানিজ দ্বীপপুঞ্জ গ্রিসের কাছে হস্তান্তর করে। তবে চুক্তিতে দ্বীপগুলো নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়। কোনও রকম সেনা মোতায়েন করা যাবে না, এমনটাই বলা হয়েছিল। কিন্তু তুরস্কের পশ্চিম উপক‚লে সেনা মোতায়েন করে রেখেছে গ্রিস। দেশটির দাবি, আত্মরক্ষার প্রয়োজনেই তাদের এটি করতে হয়েছে। আনাদোলু।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: এরদোগান


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ