Inqilab Logo

শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০৮ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী
শিরোনাম

রাশিয়ায় যোগ দিতে গণভোট ৩ এলাকায়

মুক্ত অঞ্চলগুলোতে হামলাকে নিজের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করবে রাশিয়া ডোনেৎস্কে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিয়েভ সরকার ইউক্রেনের অপরাধ গোপন করছে পশ্চিমারা : ল্যাভরভ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২:০০ এএম

রাশিয়ার সাথে যোগ দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ডোনেৎস্ক ও লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকসের (ডিপিআর, এলপিআর) পাশাপাশি খেরসন ও জাপোরোজিয়া অঞ্চলে গতকাল থেকে গণভোট শুরু হয়েছে। এদিকে, রাশিয়া বলেছে. এলাকাগুলো তাদের সাথে যোগ দিলে সেখানে যে কোন হামলাকে নিজ ভূমিতে হামলা হিসাবে বিবেচনা করবে মস্কো।

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে শুধুমাত্র ২৭ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রে যেয়ে ভোট দেয়া যাবে। অন্য দিনগুলোতে, নিরাপত্তার কারণে নিজেদের কমিউনিটির মধ্যে কিংবা ঘরে বসেই ভোট দেয়া যাবে। এ উপলক্ষে ডিপিআর জুড়ে ৪৫০টি ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং রাশিয়ায় সরিয়ে নেয়া লোকদের জন্য আরও ২০০টি স্থাপন করা হয়েছে। এলপিআর বাসিন্দারা প্রজাতন্ত্র জুড়ে ৪৬১টি ভোট কেন্দ্রে, সেইসাথে সমস্ত রাশিয়ান অঞ্চলে, যেখানে মোট ২০১টি ভোট কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে তাদের ব্যালট দিতে সক্ষম হবে।

জাপোরোজিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের অঞ্চল জুড়ে ৩৯৪টি ভোট কেন্দ্র এবং রাশিয়া, এলপিআর, ডিপিআর এবং খেরসন অঞ্চলে আরো ৫৮টি ভোট কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। খেরসন অঞ্চলের বাসিন্দারা তাদের নিজ অঞ্চল ছাড়াও ক্রিমিয়া এবং মস্কোসহ বেশ কয়েকটি রাশিয়ান শহরে ভোট দেয়ার সুযোগ পাবে, যেখানে আটটি আঞ্চলিক এবং ১৯৮টি জেলা নির্বাচন কমিশন তৈরি করা হয়েছে। ভোট দেয়ার যোগ্য লোকের সংখ্যার ভিত্তিতে ডিপিআর-এ ১৫ লাখেরও বেশি ব্যালট ছাপানো হয়েছে। আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনের চেয়ারপারসন গ্যালিনা কাতিউশচেঙ্কো বলেছেন, জাপোরোজিয়া অঞ্চলে ভোটার রেজিস্ট্রিতে ৫ লাখেরও বেশি মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খেরসন অঞ্চলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ভোটার ভোটে অংশ নেবে বলে আশা করছে।

১৩-১৪ সেপ্টেম্বর ক্রিমিয়ান রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট ফর পলিটিক্যাল অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ দ্বারা পরিচালিত একটি ফোন পোল, যাতে প্রায় ৪ হাজার জন উত্তরদাতা জড়িত ছিল, দেখায় যে ভোটারদের উপস্থিতি খুব বেশি হবে। ডিপিআর-এ সমীক্ষা করা প্রায় ৮৬ শতাংশ এবং এলপিআর-এ ৮৭ শতাংশ বলেছেন যে, তারা অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করেছেন। জাপোরোজিয়া অঞ্চলে, উত্তরদাতাদের ৮৩ শতাংশ তাদের ভোট দিতে চায়, এবং খেরসন অঞ্চলে, এ সংখ্যা ৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর, লুহানস্ক এবং ডোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকসের সিভিক চেম্বার (এলপিআর এবং ডিপিআর) রাশিয়ার অংশ হওয়ার বিষয়ে অবিলম্বে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে প্রজাতন্ত্রের প্রধান লিওনিড পাসেচনিক এবং ডেনিস পুশিলিনের কাছে আবেদন করেছিল। পরের দিন, এলপিআর এবং ডিপিআর কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও ২০ সেপ্টেম্বর, খেরসন এবং জাপোরোজিয়া অঞ্চলের প্রশাসন একই তারিখে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই গণভোটের মাধ্যমে ইউক্রেনের এই চারটি এলাকা রুশ ফেডারেশনের সঙ্গে একীভূত করে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর সেসব জায়গায় আক্রমণ চালানো হলে রাশিয়া দাবি করতে পারবে যে, তাদের ভূখণ্ডে চালানো হামলায় পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে গণভোটের মাধ্যমে ক্রিমিয়াকেও রাশিয়া একীভূত করে নিয়েছে।

মুক্ত অঞ্চলগুলোতে হামলাকে নিজের উপর আক্রমণ হিসাবে বিবেচনা করবে রাশিয়া : রাশিয়া ইউক্রেনের ডনবাস এবং অন্যান্য মুক্ত অঞ্চলকে পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে তার ভূমিতে আক্রমণ হিসাবে বিবেচনা করবে, যদি সেখানে অনুষ্ঠিত গণভোট ইতিবাচক ফলাফল দেয়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টর মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ গতকাল গণমাধ্যমকে বলেছেন।

‘এটি বলার অপেক্ষা রাখে না,’ তিনি বলেছিলেন, যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে গণভোটের ইতিবাচক ফলাফলের ক্ষেত্রে কিয়েভের এই অঞ্চলগুলি পুনরুদ্ধারের সমস্ত প্রচেষ্টা রাশিয়ার উপর আক্রমণ হিসাবে গণ্য হবে কি না। পেসকভ ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, ‘অবিলম্বে (রাশিয়ায় যোগদানের সিদ্ধান্তের পরে) এই অঞ্চলগুলির ক্ষেত্রে রাশিয়ার সংবিধান কার্যকর হবে।’ ‘এ বিষয়ে সবকিছু খুব পরিষ্কার,’ তিনি বলেছিলেন, ‘যদি রাশিয়ায় যোগদানের সিদ্ধান্ত হয়, তবে সেই অনুযায়ী, সেখানে আমাদের সংবিধানের প্রাসঙ্গিক বিধানগুলি কার্যকর হবে।’

ডোনেৎস্কে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিয়েভ সরকার : ডোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক (ডিপিআর) নেতা ডেনিস পুশিলিন বৃহস্পতিবার সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, কিয়েভ সরকার সম্ভবত একটি পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কারণ তারা ডিপিআরের উত্তর সীমান্তের কাছাকাছি শক্তি সংগ্রহ করেছে। ‘প্রজাতন্ত্রের উত্তরে পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। উদ্বেগজনক সংকেত আসছে। শত্রু সেখানে একটি গুরুতর শক্তি সংগ্রহ করেছে, এবং এটা সম্ভব যে তারা শীঘ্রই জোয়ার ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি পাল্টা আক্রমণ শুরু করবে,’ পুশিলিন তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন।

‘মিত্র বাহিনী তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। আমি নিয়ন্ত্রণে রয়েছি এবং যেখানেই সম্ভব প্রক্রিয়ায় যোগ দিচ্ছি,’ তিনি যোগ করেন। জার্মানির বিল্ড সংবাদপত্রের পূর্ববর্তী সাক্ষাৎকারে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোাদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন যে, তার দেশ রাশিয়ায় আংশিক সেনা সমাবেশের মধ্যে ডনবাসের উপর পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা ত্যাগ করবে না।

ইউক্রেন দ্বারা সংঘটিত অপরাধ গোপন করছে পশ্চিমারা : রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইউক্রেন-থিমভিত্তিক মন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশনে বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো কিয়েভ-পন্থী বাহিনী দ্বারা সংঘটিত সামরিক অপরাধ গোপন করছে এবং কখনও কখনও প্রকাশ্যেই তারা বিষয়টি আড়াল করছে। তিনি বলেন, ‘তথাকথিত আগ্রাসনের শিকার ইউক্রেনের ভাবমর্যাদাকে বিরোধিতা করে এমন অসুবিধাজনক সত্যগুলি সক্রিয়ভাবে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে, এবং কিছু ক্ষেত্রে এমনকি প্রকাশ্যে তা আড়াল করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, একটি পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থা যাকে খুব কমই রাশিয়ার পক্ষে বলে সন্দেহ করা যেতে পারে, তারাও নাগরিকদের মানব ঢাল হিসাবে ব্যবহার ও বেসামরিক স্থাপণায় অস্ত্র মোতায়েন করায় কিয়েভের কঠোর সমালোচনা করেছে।’

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত ৪ আগস্ট ইউক্রেনের সংঘাত সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে কিয়েভ সরকারকে যুদ্ধে নোংরা কৌশল অবলম্বনের জন্য অভিযুক্ত করেছে, যার ফলে বেসামরিক নাগরিকরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, স্কুল ও হাসপাতালে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন। এ রিপোর্টের পরে পশ্চিমাদের তোপের মুখে পড়ে সংস্থাটি। এর ফলে ইউক্রেনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অফিসের প্রধান ওকসানা পোকালচুক পদত্যাগে বাধ্য হন। পরে, সংস্থাটি তার প্রতিবেদনের জন্য ক্ষমা চেয়েছিল, বলেছিল যে তাদের একমাত্র লক্ষ্য বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করা। সূত্র : তাস, আল-জাজিরা, বিবিসি নিউজ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রাশিয়া-ইউক্রেন


আরও
আরও পড়ুন