Inqilab Logo

সোমবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১০ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ই-টিকিটিং

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২:০৭ এএম

বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে চলতি মাসে পরীক্ষামূলকভাবে ই-টিকিটিং পদ্ধতি চালু করে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। প্রথমে ট্রান্স সিলভা পরিবহনে চালু হয় এটি। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে মিরপুর-১২ নম্বর থেকে ঢাকেশ্বরীগামী ‘মিরপুর সুপার লিংক’, ঘাটারচর থেকে উত্তরাগামী ‘প্রজাপতি’ ও ‘পরিস্থান’, গাবতলী থেকে গাজীপুরগামী ‘বসুমতি পরিবহন’র বাসে এ পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় শুরু হয়। গত রোববার আরও তিনটি রুটে ‘অছিম পরিবহন’, ‘রাজধানী পরিবহন’ ও ‘নূর-ই-মক্কা পরিবহনে’ চালু হয়েছে এ পদ্ধতি। এক মাসের মধ্যে রাজধানীর সব বাসে ভাড়া আদায় ই-টিকিটিংয়ের মাধ্যমে হবে বলে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বাসে ই-টিকিট সিস্টেমে দুটো অপশন রয়েছে। একটা সাধারণ যাত্রীদের, অন্যটি শিক্ষার্থীদের। সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া যেখানে ২১ টাকা, সেখানে স্টুডেন্ট সিস্টেমে ক্লিক করলেই কমে ১১ টাকা হয়ে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরাও খুশি। তবে ই-টিকিটিং সিস্টেমে শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের কাছে এটা কম দূরত্বের জন্য একটু বেশি, তবে বেশি দূরত্বের হলে ঠিক আছে। যেমন ই-টিকিটে মিরপুর-১ নম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের ঘাটারচরের ভাড়া ১১ টাকা। অন্যদিকে মিরপুর-১ নম্বর থেকে শ্যামলী ১০ টাকা। সাধারণ যাত্রীদের জন্যও একই ভাড়া।
বাস যাত্রী এক শিক্ষার্থী বলেন, ই-টিকিটিং যাত্রীদের ভোগান্তি কমিয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা বেশি হয়ে যায়, এটা একটু কমালে ভালো হতো। আমরা শিক্ষার্থী অনেক সময় কম দূরত্বে যাতায়াত করি। এছাড়া টিউশনি করি সেটাও বেশি দূর নয়। এতে ১০ টাকা বেশি হয়ে যায়। এর মাধ্যমে আমরা ন্যায্য ভাড়া দিয়ে যেতে পারছি। এখানে শিক্ষার্থী বা বাসের স্টাফদের কথা বলার কোনো সুযোগ নেই, যা ভাড়া তাই। একজন সাধারণ যাত্রীর ভাড়া কত, একজন স্টুডেন্টের ভাড়া কত অটোমেটিক বের হয়ে আসছে। এখন বাসের মধ্যে ঝামেলা নেই। আগে টিকিট কেটে তারপর বাসে উঠি। ঝামেলা বাসের গেটেই সমাধান হয়ে যাচ্ছে। এই সুবিধা অন্যান্য বাসেও চালু করা দরকার।
একটি বাসের টিকিট বিক্রেতা বলেন, এখন যাত্রী হয়রানি কমেছে। আগে যাত্রী হয়রানি হতো এখন হয় না। যাত্রীরা অনেক সুবিধা পায়, টাকাও কম রাখা হয়। যেমন মিরপুর-১ নম্বর থেকে বসিলা আগে অনেক সময় ২৫ টাকা নেয়া হতো। এখন ২০ টাকায় যায়। ই-টিকিটে যাত্রীর লাভ হয়েছে ক্ষতি হয়েছে বাস মালিকদের।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে চারটি পরিবহনে ই-টিকিটিং শুরু হয়েছে। পরিবহন খাতে একটা শৃঙ্খলা আসবে। আড়াই হাজার পরিবহন মালিককে সচেতন করতে বিভিন্ন সভা করছি। ই-টিকিটিং চালুর বিষয়টি জানিয়ে পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছি সহযোগিতা চেয়ে। এটা এখন বাধ্যতামূলক না হলেও পরে সব পরিবহনে বাধ্যতামূলক করা হবে। শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারিত সর্বনিম্ন ভাড়া হচ্ছে ১০ টাকা। তবে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে।
ঢাকা মহানগর পরিবহন মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক সামদানী খন্দকার বলেন, এখন কয়েকটি কোম্পানির বাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছি। যাত্রীরা বিআরটিএ’র নির্ধারিত ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারছেন। প্রথম চালু হওয়ায় কিছু অভিযোগ আসছে, এগুলো মনিটরিং করছি। তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করছি। এটা সুফল হলে অন্যান্য রুটে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ই-টিকিটিং
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ