Inqilab Logo

সোমবার ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০৩ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী
শিরোনাম

আবরারের পরিণতি যেন না হয় ফাইয়াজের : চিন্তায় ঘুম আসে না মায়ের

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৬ অক্টোবর, ২০২২, ১০:১৮ এএম

কষ্টের পাথর বুকে নিয়ে ঘুমোতে যান আবরার ফাহাদের মা। ছেলেকে হারিয়েছেন তিন বছর। কিন্তু প্রথম সন্তানের মতই দ্বিতীয় সন্তানকে নিয়ে তিনি এখন আরও বেশি উদ্বিগ্ন। বড় ভাইয়ের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাস বুয়েটের শিক্ষার্থী এখন আবরার ফাইয়াজ। আবরার ও ফাইয়াজকে নিয়েই ছিলো মা রোকেয়া খাতুনের সব স্বপ্ন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, নিজ ক্যাম্পাসেই আবরারকে ছাত্রলীগ কর্মীরা নির্মমভাবে হত্যা করে।

সেই থেকে রোকেয়া খাতুন আতঙ্কের মধ্যে থাকলেও ছোট ছেলেকে বুয়েটে পড়ার অনুমতি দিয়েছেন। ছেলে তার বড় ভাইয়ের স্বপ্নপূরণ করবে।


তিন বছর আগে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা। ওই মামলার রায়ে গত বছর ৮ ডিসেম্বর বুয়েটের ২০ শিক্ষার্থীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ ট্রাইব্যুনাল। মামলাটি এখন উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

বুধবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আবরারের মা রোকেয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,‘তিন বছর হয়ে গেছে আবরার খুন হয়েছে। এভাবে অনেক বছর হয়ে যাবে। এক সময় আবরারকে সবাই ভুলে যাবে। পরবর্তী প্রজন্ম যেন জানতে পারে, মনে প্রশ্ন জাগে কে এই আবরার। এজন্য তার নামে বুয়েট ক্যাম্পাসে যেন একটা স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘তিন বছর আগে এই সময় (৫ অক্টোবর সন্ধ্যায়) আবরার আমার কাছে ছিল। তাকে নাস্তা দিচ্ছিলাম। বলে আম্মু তুমি নাস্তা রেডি করো, আমি ৫ মিনিট পর আসতেছি। এরপর যদিও ফিরে এসেছিল। কিন্তু ঢাকা যাওয়ার পর তিন বছরেও আর ফিরলো না। আবরার আর বলবে না, আম্মু আসি।’

রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘ছোট ছেলে ফাইয়াজের সব দায়িত্ব ছিল আবরারের ওপর। ফাইয়াজ বুয়েটে ভর্তি হয়েছে। এখন ওকে কে গাইডলাইন দিবে। ফাইয়াজকে তাই বলি, বাবা আল্লাহ ছাড়া তোমার কেউ নাই। তুমি মানুষের মতো মানুষ হও। আবরারকেও ভর্তির আগে এ কথা বলেছিলাম। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হলেই তো আর মানুষ হয় না। বেঁচে থাকলে আবরার বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে বের হতো। কিন্তু তা তো আর হলো না। তাকে তো আর ফিরে পেলাম না। আর ফিরে আসবেও না।’

তিনি বলেন, ‘আবরার যখন ঢাকায় থাকতো, তখন ও আমাকে ফোন দিতো। ফোন না ধরলে বলতো, আম্মু তুমি ফোন ধরো না কেন। তুমি ফোন না ধরলে আমার চিন্তা হয়। অথচ গত তিন বছরেও মাকে নিয়ে আবরারের চিন্তা হচ্ছে না আর। আর কতদিন এ কষ্ট বুকে চেপে রাখবো। ফাইয়াজকে মানুষ করার জন্য বেঁচে থাকতে হয়।’

আবরারের মায়ের আশা, তার সন্তানের হত্যাকরীদের সাজা যেন বহাল থাকে এবং দ্রুত তা কার্যকর করা হয়।

আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ বলেন, ‘নিম্ন আদালত থেকে আমরা যে রায় পেয়েছি তাতে সন্তুষ্ঠ। আমরা আশা করবো, উচ্চ আদালতেও যেন আসামিদের এ সাজা বহাল থাকে। আর রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়।’

তিনি বলেন, ‘আবরারকে নিয়ে বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে চেয়েছিল। আশা করছি, তারা কালক্ষেপণ না করে সেটার কাজ দ্রুত শুরু করবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকতুল্লাহ। ওই বছরের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান।

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন।

গত বছর ৮ ডিসেম্বর আবরার হত্যা মামলায় ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার তৎকালীন এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আবরার

১০ ডিসেম্বর, ২০২১
৯ ডিসেম্বর, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ