Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়’৭১

| প্রকাশের সময় : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

তারপর পেরিয়ে গেছে অনেক বছর। অনেক ইতিহাস মলিন হয়ে গেছে কালেন আবর্তনে । তবু ১৯৭১ সালটি এখনো জ্বলজ্বল করছে প্রতিটি বাঙালির স্মৃতির পাতায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭১ একটি শিহরণ জাগানো অধ্যায়ের নাম। কেননা এই বছরটিতেই বাঙালিরা নিজেদের মতো করে পেয়েছে তাদের কাক্সিক্ষত সোনার বাংলাকে। অর্জিত হয়েছে ভাষার স্বাধীনতা। দেশের স্বাধীনতা। পৃথিবীর ইতিহাসে আবির্ভূত হয়েছে লাল-সবুজের এক বিম্ময়কর বাংলা। যার বিস্ময়কর সংগ্রামী আলোক দ্যুতিতে অভিভূত হয়েছে সারা পৃথিবীর মানুষ। চেয়ে থেকেছে অবাক বিম্ময়ে বিস্মিত হয়ে।
কবি সুকান্তের ভাষায়- ‘ সাবাস বাংলাদেশ/ এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়/ জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।’
আর তাইতো সেই বিজয়কে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং নিজেদের সংগ্রামী সোনালী ইতিহাসের সাথে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেবার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) নির্মিত হয়েছে শিহরণ জাগানো একটি ভাস্কর্য । নাম তার “বিজয়’৭১”। যার মাহতেœ্য খুব সহজেই মাথা নুইয়ে হয়ে আসে প্রতিটি বাঙালির। দেহের মধ্যে অনুভূত হয় গৌরবময় ও শিহরণ জাগানো এক অন্যরকম ভালোলাগার অনুভূতি।
দেশ বিখ্যাত ভাস্কর শ্যামল চৌধুরীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২০০০ সালের জুন মাসে নির্মিত হয় “বিজয়’৭১” নামক ভাস্কর্যটি। এটি নির্মানে ব্যয় হয় প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা।
বাকৃবির বিজয়’৭১: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধর মূর্তপ্রতীক এই ভাস্কর্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সামনে সগৌরবে নির্ভীকভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ভাস্কর্যটি দুটি অংশে বিভক্ত। মূল অংশে ৬ ফুট বেদীর ওপর রয়েছে একজন নারী, একজন কৃষক ও একজন ছাত্র। নজরকাড়া ভঙ্গিমায় দাঁড়িয়ে থাকা ভাস্কর্যটি খুব সহজেই মনে করিয়ে দিতে পারে মুক্তিযুদ্ধের সেই সংগ্রামী দিনগুলোর কথা। একজন কৃষক লাল-সবুজের মহান পতাকা তুলে ধরেছে আকাশের বুকে। ঠোটে তার রক্তমাখা বিজয়ের হাসি। তার মুখম-লে যেন বিজয় মিছিলের দীপ্ত শ্লোগান। চোখে সোনার বাংলা গড়ার যাদুকরী স্বপ্ন। তার পাশেই স্বপ্নময়ী চোখে দাঁড়িয়ে আছে বাংলার প্রেরণাময়ী ও সর্বত্যাগী এক সংগ্রামী নারীমূর্তি। সে দৃঢ়চিত্তে সকলকে আহ্বান করছে দেশের মুক্তির জন্য যুদ্ধে নামতে। হাতে তার মরণাস্ত্র রাইফেল। চোখ তার অকুতোভয়। দৃঢ়প্রত্তয়ী এই নারী যেন সবাইকে বলছে, এসো আজ নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধে নামি। দেশকে হানাদার মুক্ত করি। ছিনিয়ে আনি নিজেদের স্বাধীনতা, দেশের স্বাধীনতা ও সম্মান। অপর পাশে গ্রেনেড হাতে বীরের বেশে দাঁড়িয়ে আছে এক ছাত্র। এক হাতে তার গ্রেনেড এবং অন্য হাতে রাইফেল। চির বিদ্রোহী এই যুবক যেন শুধু বিজয়ের মন্ত্রে দীক্ষিত। সে যেন চির দুর্মর। বিজয়ই তার একমাত্র লক্ষ্য। মনের সংগ্রমী দীপ্ত সঙ্কল্প নিয়ে সে যেন বার বার বলে চলেছে—
আমি বীর/ চির বিদ্রোহী মহাবীর!/ স্বাধীনতার রঙে রঞ্জিত মহাবীর/ মুক্তি এনে দেবই আমি বন্দি জাতির,/ বন্দি জীবন আমার কাছে অপমান ভরা ধীক্কার/ চোখে আমার রঙিন স্বপ্ন নতুন পৃথিবী গড়ার...
অপর অংশে বেদির দুই পাশে অঙ্কিত হয়েছে বাংলাদেশের অভ্যূত্থানের চিত্র। এছাড়াও এতে চিত্রিত হয়েছে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা দাবি এবং শিক্ষা আন্দোলনসহ অন্যান্য অনেক আন্দোলনে বাঙালিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনের চিত্র।
ষ শাহীন মাহমুদ



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।