Inqilab Logo

শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৩ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

হত্যা মামলার তদন্তে নড়েচড়ে বসেছে সিআইডি পরিবারের আশা মামলাটি আলোর মুখ দেখবে

তনু হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ

| প্রকাশের সময় : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : সোহাগী জাহান তনুকে হত্যার ঘটনার তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ( সিআইডি) এবার একটু নড়েচড়ে বসেছে। তার পরিবারসহ সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা সিআইডির তদন্তে তনু হত্যার রহস্য এবার বেরিয়ে আসবে। মামলাটি দেখতে পারে আলোর মুখ।  কারণ হিসাবে সিআইডির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়নের সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামানকে সহসাই সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে খুলতে পারে আলোচিত তনু হত্যার রহস্য।
তনুর মা আনোয়ারা বেগম জানান, ‘সিআইডি আমাদের আশ্বাস দিয়েছে। আমরা দেশবাসীর দোয়া চাই। সিআইডি আমাদের সময় দিতে বলেছে।
তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এএসপি জালাল আহমেদ জানান, তদন্ত অব্যাহত আছে। বিভিন্ন সময় নানাজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। এর বেশি তিনি কিছু জানাতে রাজি হননি।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তনু হত্যার তদন্ত রহস্যজনক কারণে দীর্ঘ দিন ধরে থমকে আছে। সিআইডি তৎপর হলেই কুমিল্লার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকেই বের হতে পারে তনু হত্যার রহস্য। কারণ মৃতদেহ উদ্ধার করে প্রথমে সেখানেই নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সিআইডি তনুর শরীরে পাওয়া তিনজন পুরুষের বীর্যের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে মেলাতে সেনানিবাসের অন্তত ২৫ জন সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করেছে অন্তত ৫০ জনকে।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ডিসেম্বর নতুন করে পাওয়া কিছু তথ্য মিলিয়ে নিতে কুমিল্লা সেনানিবাস থেকে ঢাকায় সিআইডির কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় তনুর বাবা এয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম, ভাই রুবেল হোসেন, নাজমুল হাসান, চাচাতো বোন লাইজু জাহান ও ভাই মিনহাজকে। তাদের মামলার তদন্ত সহায়ক কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আকন্দ ও শীর্ষ সিআইডি কর্মকর্তা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তারা মামলাটির রহস্য উদ্ঘাটনে সিআইডির আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করেন। তারা দ্রুত মামলাটির রহস্য উন্মোচনের অনুরোধ জানান।
জানা গেছে, তনু ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের অলিপুরের ১২ ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়নের কোয়ার্টারের সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামানের মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতে যান। রাতে তনুর লাশ পাওয়া যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের অলিপুরে পাওয়ার হাউজের জঙ্গলে। ময়নাতদন্তে তনুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল এবং তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি বলে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেছিলেন। তনুর কাপড় ও শরীরের বিভিন্ন অংশের ডিএনএ পরীক্ষার পর তাতে তিনজন পুরুষের ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে বলে জানায় সিআইডি। তনুর পরিবার ঘটনার পর থেকেই অভিযোগ করে আসছিল ১৮ মার্চ সেনানিবাসে অনুষ্ঠানে গান না করায় শারীরিক নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করে লাশ জঙ্গলে এনে ফেলে রাখা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৪ নভেম্বর ঢাকায় সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে ১২ ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়নের কোয়ার্টারের সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামানকে। তাকে এ সময় প্রশ্ন করে তদন্তে ধরা পড়া নানা অসঙ্গতির সমাধান জানতে চায় সিআইডি। এ ছাড়া কৌশলে সংগ্রহ করা তার ডিএনএ প্রোফাইল মেলানো হয়। কিন্ত তার ডিএনএর সঙ্গে তনুর ডিএনএ মেলেনি বলেও সূত্রটি জানায়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামানকে অনেক বিমর্ষ দেখা যায়। তিনি অনেক শুকিয়েও গেছেন বলে সূত্র জানায়। সূত্র আরো জানায়, তনুর শরীরে তিন পুরুষের মধ্যে একজনের বীর্যের উপস্থিতি বেশি ছিল।
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতর ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে। এ অভিযোগে পরদিন ২১ মার্চ কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তনুর বাবা এয়ার হোসেন। মামলাটি প্রথমে কোতোয়ালি থানার পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও সব শেষে মামলাটি হস্তান্তর করা হয় সিআইডিতে। হত্যাকা-ের সাড়ে আট মাস অতিবাহিত হলেও তদন্তে সাফল্য আসেনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ