Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে নবী রাসূলগণের ভূমিকা

| প্রকাশের সময় : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মোহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী : চির সত্য হচ্ছে, মানুষের জন্য জীবন বিধান, যা মানবতার রক্ষাকবচ এবং যা মানব সভ্যতার উৎসমূল। এ নিরিখেই যুগে যুগে দেশে দেশে নানা জাতির মঙ্গল কল্যাণে নানা ঐশীগ্রন্থ এসেছে মহামানবদের নামে। তারা সাধ্যমতো স্ব স্ব জাতিকে সুপথে পরিচালিত করার এবং তাদের জীবনমান উন্নত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাদের প্রতি অবতীর্ণ কোনো ঐশীগ্রন্থই মানব কল্যাণে জীবন বিধানই যেমন পূর্ণাঙ্গ ছিল না, দীর্ঘস্থায়ীও ছিল না। অনেকে ¯্রষ্টার অস্তিত্বকে অস্বীকার-অমান্য করে বিপথগামী হয়েছে, অনেক মহাপুরুষই (আম্বিয়ায়ে কেরাম) জীবনভর সংগ্রাম সাধনা করেও বিভ্রান্তদের সুপথ দেখাতে পারেননি, বরং ওদের তীব্র বিরোধিতা ও অনেক ক্ষেত্রে ওদের দ্বারা নিষ্ঠুর অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ বিশ্বমানবের চিরন্তন, পূর্ণাঙ্গ, অবিকৃত খাঁটি আল কোরআন জীবন বিধান হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী-রাসূলের প্রতি অবতীর্ণ হয়।
যেসব নবী-রাসূলের প্রতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সহিফা নাজিল হয়েছিল এবং যারা ছিলেন এলাকা বা অঞ্চলভিত্তিক অথবা কোনো জাতিবিশেষের প্রতি প্রেরিত, তাদের প্রত্যেকেরই প্রধান এবং এক ও অভিন্ন আহ্বান ছিল তওহীদ বা আল্লাহর প্রচার ও একাত্ববাদের শিরক বা তাঁর অংশীদারিত্বের বিরোধিতা করা। তা ছাড়া মানবের বংশ বৃদ্ধির সাথে সাথে যুগ চাহিদা ও সময়োপযোগী জীবনাচর ও বিধিবিধান সহিফাগুলোর মাধ্যমে আম্বিয়ায়ে কেরাম প্রচার করতে থাকেন। একমাত্র তওহিদই ছিল তাদের শরিয়তগুলোর প্রধান মূলমন্ত্র, বাকি বিধানগুলো ছিল পরিবর্তনশীল। তবে এমনও ঘটেছে যে, এক নবীর শরিয়ত পরবর্তী এক বা একাধিক নবী পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে অথবা এক নবী চলে যাওয়ার সাথে সাথে তার শরিয়তও রহিত হয়ে গিয়েছে এবং পরবর্তী নবী আলাদা শরিয়তের অধিকারী হয়েছে। প্রত্যেকের শরিয়তের মূল মন্ত্র তওহিদ প্রচার করতে গিয়ে প্রত্যেক নবীকেই নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়েছে। সত্যের বাণী প্রচারে তাদের অনেকেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন।
প্রথম মানব সভ্যতা
মানব সভ্যতার প্রথম আত্মপ্রকাশ কোথায়, কখন এবং কীভাবে ঘটেছিল, সে সম্পর্কে বিভিন্ন মত থাকতে পারে। যদি মানুষের সম্পর্ককে যা মানবের বংশবৃদ্ধির প্রধান মাধ্যম সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধরা হয়, তাহলে স্বীকার করতে হবে, প্রথম মানব-মানবী অর্থাৎ বাবা আদমের সাথে মা হাওয়ার বিবাহ বন্ধন ছিল মানব সভ্যতার প্রথম বিকাশ। বর্ণিত আছে যে, হযরত আদম (আ.) জান্নাতে অনেক দিন অবস্থান করে একাকিত্ববোধ করতে থাকেন, সেখানে সকল প্রকারের সুযোগ-সুবিধা ও আরাম-আয়াশের উপকরণ থাকা সত্ত্বেও একাকিত্ব ও নির্জনতায় তার মধ্যে ভয়ভীতির সঞ্চার হতে থাকে। এ অবস্থায় আল্লাহতায়ালা হযরত হাওয়াকে সৃষ্টি করেন এবং নিকাহের মাধ্যমে আদম (আ.)-এর সঙ্গিনী করেন। আল্লাহ তাদেরকে নির্দেশ প্রদান করেন, জান্নাতের সর্বত্র তারা অবাধে বিচরণ করতে পারবেন এবং প্রত্যেক বস্তু দ্বারা উপকৃত হতে পারবেন কিন্তু একটি বৃক্ষ নির্দিষ্ট করে বললেন, উহার ফল খাবে না, এমন কি উহার ধারেকাছেও যাবে না।
এখানে একটি বড় প্রশ্ন হচ্ছে যে, হাওয়ার সঙ্গে আদমের বিয়ের ঘটনা কোথায় ঘটেছিল জান্নাতুল মাওয়াতে, না কি জমিনের জান্নাতে? এ সম্পর্কে তীব্র মতভেদ শুরু থেকে চলে আসছে। উলামায়ে আহলে ইসলাম জান্নাতুল  মাওয়া বলে মনে করেন। তাদের মতে, আদম (আ.) দীর্ঘদিন ওই জান্নাতে একাকিত্ব অনুভব করায় আল্লাহতায়ালা সেখানে তার কুদরতে আদমের বাম পাঁজর হতে হাওয়াকে সৃষ্টি করেন। আদম (আ.) ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। জাগ্রত হয়ে দেখতে পান এক পরমা সুন্দরী তার সামনে বসা। তাকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন : ‘মানু আনতে’? রমণী জবাবে বললেন : ‘আনা জমজাতুকা হাওয়া’। আমি আপনার স্ত্রী হাওয়া। আদম (আ.) প্রশ্ন করলেন : ‘লিমাজা খুলিকতে’? কী কারণে তোমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? বললেন : ‘লি তাসকুনা ইলাইয়া ওয়া আসকুনা ইলাইকা।’ যেন আপনি আমার সঙ্গে থাকেন এবং আমিও আপনার সঙ্গে থাকি।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) এর বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, আদম ও হাওয়াকে ফেরেশতাগণ নূরের সিংহাসনে বসিয়ে রাজা-বাদশাদের মতো জান্নাতে পৌঁছেছেন। আসল ব্যাপার আল্লাহতায়ালাই ভালো জানেন।
এ জান্নাতি বিবরণ হতে যে বাস্তবতা ফুটে উঠেছে তা এই যে, মানব সভ্যতার সূত্রপাত হয়েছিল প্রথম মানব মানবীর বিবাহ বন্ধনের মধ্যেমে এবং তার আনুষ্ঠানিক তার ব্যবস্থা করেছিলেন আল্লাহর ফেরেশতাগণ। নূরানী সিংহাসনে নববধূকে সজ্জিত করে জান্নাতে অবস্থানকারী বরের নিকট পৌঁছে দেয়ার ঘটনা জান্নাতি সভ্যতার এক অপূর্ব নিদর্শন, তাও প্রথম মানব প্রথম নবীর ঘটনা। তবে তখনো হযরত আদম (আ.) নবুওয়াতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। এতে আরো একটি বাস্তবতার গুরুত্ব স্বীকৃত যে, বংশ বৃদ্ধির জন্য নিকাহ বা শাদী বৈধ প্রথা প্রথম মানব হতে চালু হয়ে আসছে যা মানব সভ্যতার আরো একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক। যারা এ বৈধ প্রথাকে অস্বীকার করে তারা অজ্ঞ, মূর্খ ও অসভ্য এবং অভিশপ্ত। সভ্যতা বিনাশী হিসেবে তাদের স্থান জাহান্নামে।
আদম যুগে পোশাকি সভ্যতা
অভিশপ্ত শয়তানের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে আদম ও হওয়া একটি ভুল করেছিলেন। আদম তখনো নবুওয়াত লাভ করেননি। যিনি আল্লাহর নবী হবেন, তার নবুওয়াত-পূর্ব একটি সাধারণ ভুল ও আল্লাহর নিকট মহাভুল হয়ে দেখা দিতে পারে। আদমের ক্ষেত্রেও তা ঘটেছিল। আদম ও হাওয়াকে উদ্দেশ করে আল্লাহ বলে ছিলেন “ওয়ালা তাকরাবা হাজিহিশ শাজারাতা।” তোমরা (দুজন) এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হও না। শয়তানের কুমন্ত্রণার ফলে তারা আল্লাহর এ নিষেধ ভুলে যান এবং নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ করেন। সাথে সাথে জান্নাতে তাদের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা লোপ পেতে থাকে এবং একপর্যায়ে শরীর হতে পরিধানও খুলে নেয়া হয়। এ অবস্থায় তারা উপায়হীন হয়ে বৃক্ষপাতা দিয়ে শরীর ঢাকতে থাকেন। এ বিকল্প ব্যবস্থা উদ্ভাবন করে ব্যবহার করা পরবর্তীরাও তাদের অনুসরণ করতে থাকে। তাই এ ব্যবস্থাকে সভ্যতার আদি নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয়।
কবর ঐতিহ্য
আদম (আ.)-এর কনিষ্ঠ পুত্র হাবিলের পূর্বে দুনিয়াতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। হাবিল ও কাবিল সহোদরের মধ্যে সহোদরা একলিমার বিয়েকে কেন্দ্র করে যে হত্যাকা- ঘটে তা ছিল দুনিয়ার প্রথম হত্যাকা-। কাবিল ছিল হাবিলের বড়, অন্যায়ভাবে সে তার ছোট ভাই হাবিলকে হত্যা করে। তখন পর্যন্ত মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে হজরত আদম (আ.)-এর নিকট কোনো খোদায়ী বিধান আসেনি। কাবিল নিহত ভাই হাবিলের লাশ নিয়ে বিপাকে, বুঝতে পারছে না লাশ কি করবে। এ সময় সে দেখে যে, দুটি কাক পরস্পর জগড়ায় লিপ্ত হয় এবং একটি অপরটিকে মেরে ফেলে হত্যাকারী কাক এক স্থানে ঠোঁট দিয়ে মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে একটি গর্ত করে এবং নিহত কাককে তথায় মাটিচাপা দিয়ে প্রস্থান করে। এ ঘটনা দেখে কাবিল লজ্জিত হয় এবং নিহত ভাই হাবিলের লাশ কবরস্থ করে। এর পর হযরত আদমের নিকট আল্লাহর পক্ষ হতে মৃত ব্যক্তিকে কবর দেয়ার বিধান আসে। এভাবে আদম যুগে আরেকটি নতুন সভ্যতা জন্ম নেয়। হযরত আদম (আ.)-এর সুন্নত বা প্রথা তখন থেকে এ যাবত সমগ্র দুনিয়ার মানব জাতির মধ্যে কোনো না কোনো প্রকারে প্রচলিত এবং কেয়ামত পর্যন্ত প্রচলিত থাকবে। তবে ভারত বর্ষের হিন্দু বা অপর কোনো সম্প্রদায়ের মানুষের লাশ দাহ করার প্রথা বর্বরতার লক্ষণ ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। লাশ দাফনের কবর প্রথা মানবের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নির্দশন। মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির পরিণাম ¯্রষ্টার হাতে, কিন্তু তাকে সম্মানের সাথে সমাহিত করা জীবিতদের দায়িত্ব। মৃত ব্যক্তিটি মুসলমানের নিকট জানাজা পড়ার অযোগ্য হলেও তাকে আগুনে পুড়িয়ে ভস্ম করার কথা ¯্রষ্টার বিধানবিরোধী অসভ্যতার শামিল। এমন কি কোনো জীবজন্তু বা ক্ষুদ্র প্রাণীকেও পুড়িয়ে মারার পরিবর্তে মাটিতে পুঁতিয়ে দেওয়াই সভ্যতা। যারা এই দর্শন উপস্থাপন করে যে, মাটিতে দাফন করা হলে জমি সংরক্ষিত হবে তাদের এ দর্শন ভ্রান্ত। যা হোক, মৃত মানুষকে কবরস্থ করা হযরত আদম (আ.) প্রবর্তিত একটি সুপ্রাচীন সভ্যতার অংশ।
খানা-ই-কাবা নির্মাণে আদম (আ.)
বিশ্বের বুকে সর্বপ্রথম নির্মিত হয় আল্লাহর এবাদতগাহ খানা-ই-কাবা মক্কায়। একটি বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত আদম (আ.) সর্বপ্রথম এ পবিত্রতম কাবা নির্মাণ করেন। একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, আদম সৃষ্টির পূর্বে যখন জমিন সৃষ্টি করা হয়, তখন সর্বপ্রথম জমিনের সেই অংশটি বানানো হয়, যেখানে কাবা নির্মিত হয়েছে। অতঃপর ফেরেশতাদের মাঝে তা প্রচার করা হয় যে, উহা হবে কাবা। যখন ‘ইন্নি জায়েলুন ফিল আরবে খলিফা’ (আমি জমিনে একজন খলিফা বানাব)-এ আওয়াজ আসে এবং এতে ফেরেশতাগণ আপত্তি জানান, পরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, নামাজ পড়েন, তোওয়াফ করেন বায়তুল মামুরের তখন তাদের খাতা গোনা মাফ করে দেওয়া হয়। এর ফলে বলা হয়, কাবা নির্মাণ করা হোক, যাতে মানুষ গোনাহ খাতা করলে উহার তোওয়াফের মাধ্যমে তা ক্ষমা করা হবে। এসব বর্ণনা হতে জানা যায় যে, আদম সৃষ্টির পূর্বেই কাবা নির্মিত হয় এবং তা হয় আদমকে উপলক্ষ করে। আদম (আ.) কাবা নির্মাণ করেন যে কথা পূর্বেই বলা হয়েছে। অপর একটি বর্ণনায় আছে হযরত শিস (আ.) কাবা নির্মাণ করেন।
মানব সভ্যতার সূচনা হযরত আদম (আ.)-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হচ্ছে খানা-ই-কাবা নির্মাণের ঘটনা। আল্লাহতায়ালার নির্দেশে তিনি এ পবিত্র কাজে হাত দেন। বর্ণিত আছে যে, জান্নাত হতে আসার সময় তিনি একটি কালো পাথর সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন, যা ‘হাজরে আসওয়াদ’ নামে খ্যাত। এ পাথর হচ্ছে খানা-ই-কাবার ভিত্তিপ্রস্তর। কাবা নির্মিত হওয়ার পর তিনি উহার তোওয়াফ করেন, হজ করেন। কথিত আছে যে, ঐ সময় হযরত হাওয়া জিদ্দা হতে এসে তাঁর সাথে আরাফাতে মিলিত হন। বলা হয়ে থাকে, উভয়ের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার মুদ্দত ছিল দুইশ বছর। তারা আল্লাহর শোকর আদায় করেন অতঃপর তারা মোজদালেফায় এসে রাত যাপন করেন। এর পর মিনায় আসেন এবং সেখান থেকে এসে কাবা তোওয়াব করেন। তারা দুজনই হজ করেন। এটি ছিল হযরত আদম (আ.)-এর প্রথম হজ। অতঃপর তিনি আল্লাহর নির্দেশে সরন্দীপ আসেন, সঙ্গে হজরত হাওয়া (আ.)ও ছিলেন।
কথিত আছে যে, হযরত আদম (আ.) সরন্দীপ হতে পদব্রজে চল্লিশবার হজ করেছেন। হযরত হাওয়া (আ.) আদম (আ.) হতে দুইশ বছর বিচ্ছিন্ন থাকার পর আরাফাতে মিলিত হয়েছিলেন বলে স্থানটির নাম আরাফাত হয়েছে। পবিত্র হজও আদম (আ.)-এর নিদর্শন। ইসলামে হজের ফরজগুলোর মধ্যে ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে হওয়া অন্যতম ফরজ করা হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, কাবা খোদা প্রদত্ত সকল সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র।
আল্লাহ আদমকে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন
সূরা বাকারায় আল্লাহ বলেন : “ওয়া আল্লামা আদামাল আসমাআ কুল্লাহা”। অর্থাৎ আদমকে আল্লাহ সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন। কোরআনের ভাষ্যকারগণ এ আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বহু বিষয়ের অবতরণ করেছেন, যার বিবরণ প্রদান করা এখানে সম্ভব নয়। তবে সংক্ষেপে বলা যায়, ইসম শব্দের বহু বচন ‘আসমা’। এ শব্দের বহু ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যেমন সকল বস্তুর গুণাবলী, বৈশিষ্ট্যাবলী এবং সেগুলোর পরিচিতি, সকল ভাষা, অতীত ও আগত সকল বস্তু, ফেরেশতাদের নাম, আদমের বংশধরগণ, গ্রহ-নক্ষত্ররাজি, আল্লাহর নামসমূহ ইত্যাদি আরো অনেক বিষয়। যার কথা, আদম (আ.)-কে আল্লাহতায়ালা এক বিশাল বিস্তৃত জ্ঞান ভা-ারের অধিকারী করেছিলেন, যা সর্বশেষ নবী রাসূলুল্লাহ ব্যতীত আর কোনো নবী-রাসূলকে দান করেননি। সুতরাং মানব সভ্যতার তিনি ছিলেন অগ্রপথিক প্রবর্তক। পরবর্তী নবী-রাসূলগণ তার প্রচারিত দিকদর্শনগুলোকে এগিয়ে নেন, ক্রমান্বয়ে সমৃদ্ধশালী করতে থাকেন।
হযরত আদম (আ.)-এর প্রতি কোনো আসমানি কিতাব বা সহিফা নাজিল হয়েছিল কিনা তা জানা যায় না। তবে আল্লাহর পক্ষ হতে যখন যা অহির মাধ্যমে অবগত হতেন, তাই ছিল তার শরিয়ত। এ জন্য তিনি আল্লাহর নবী ও রাসূল ছিলেন। তার এ শরিয়ত হজরত নূহ (আ.)-এর সময়ে রহিত হয়ে যায়। তার তবলীগ মারফতে এলাহী সমাজ ব্যবস্থা, কৃষিকর্ম এবং পানাহারের রীতিনীতি শিক্ষাদান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল, যাতে মানব সভ্যতার প্রাথমিক দিকগুলোর প্রতিফলন ছিল। তিনি ৯৩০ বছর জীবিত ছিলেন বলে একটি মত রয়েছে।
“তা সত্ত্বেও ঐসব ভিত্তিহীন কথাও উদ্ধৃত করে দেওয়া মোনাসেব মনে হয়েছে যে, এ কথা জানা থাকবে, ওই পয়গাম্বর সম্পর্কে হোকামা-বিজ্ঞানীদের গ্রন্থাবলীতেও ঐ ধরনের বে বুনিয়াদ কথাগুলো স্থান লাভ করেছে।”
নৌকা আবিষ্কার
এ বক্তব্য রাখার পূর্বে বিগত শতকের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আলেম-মাওলানা মোহাম্মদ হিফজুর রহমান সাহওয়ারভী (রহ.) ‘হযরত ইদরিসের শিক্ষার সারাংশ উপশিরোনামে যা বলেছেন, তা নি¤œরূপ : “খোদার অস্তিত্ব ও তার তওহিদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, কেবলমাত্র বিশ্বজগতের ¯্রষ্টার পূজা করা, আখেরাতের আজাব হতে মুক্তিলাভের জন্য নেক কর্মাবলীকে ঢেলে সাজানো, দুনিয়ার প্রতি মনোযোগী না হওয়া এবং সর্ব বিষয়ে ন্যায় ও ইনসাফকে সামনে রাখা এবং নির্ধারিত নিয়ম পদ্ধতিতে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী করা এবং ‘আইয়্যামে বীযে’র (প্রত্যেক চান্দ্র মাসের ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখে) রোজা পালন করা এবং ইসলামের দুশমনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ (জিহাদ) করা, জাকাত প্রদান করা, পাক-পবিত্র থাকা, বিশেষ করে জানাবত হতে এবং শূকর হতে দূরে থাকা, প্রত্যেক নেশাজাত দ্রব্য পরিহার করা এসব ছিল তার শিক্ষার মূল বিষয় তিনি তার অনুসারীদের জন্য আল্লাহর নির্দেশে বছরে কয়েক দিন ঈদ ধার্য করেন এবং কয়েকটি বিশেষ সমনে মানত ও কোরবানি করা নিজের ওপর ফরজ করেন। সেগুলোর মধ্যে কোনো কোনো চন্দ্র দর্শনে আদায় করা হতো এবং কিছু কিছু যখন সূর্য কোনো গ্রহে প্রবেশ করত এবং কোনো নক্ষত্র অপর নক্ষত্রের মুখোমুখি হতো।
কাসামুল কোরআনের লেখক হজরত ইদ্রিস (আ.) আল্লাহর জন্য মানত করার নিয়মাবলী, পরবর্তীকালে আগত নবীদের সম্পর্কে সুসংবাদ, হজরত ইদ্রিস (আ.)-এর হুলিয়া এবং তার উপদেশাবলী বর্ণনা করেন। অতঃপর তারিখুল হোকামা গ্রন্থের বরাতে হযরত ইদ্রিস (আ.) এর কীর্তিমালা প্রসঙ্গে বলেন :
“উলামা সমাজের এক দলের আকিদা বিশ্বাস এই যে, নূহ (আ.)-এর ওফাতের পূর্বে যে পরিমাণ জ্ঞান বিজ্ঞান প্রকাশ পেয়েছিল (দুনিয়ায়) তার সমুদয়েব ‘মোআল্লেমে আউয়াল’ বা প্রথম শিক্ষক ছিলেন প্রথম হারমাস (ইদ্রিস), যিনি মিসরের উচ্চ ভূমির অধিবাসী ছিলেন এবং ইহুদিদের প্রাচীন ভাষা ইবরানী ভাষীরা তাকে আখনুখই মনে করে, যিনি বংশের দিকে তাকে হজরত আদম (আ.)-এর প্রপুত্র খলুখ (ইদ্রিস) মনে করত।”
অতঃপর উল্লিখিত একই সূত্রে বলা হয়, ‘তাদের এটাও দাবি যে, দর্শন শাস্ত্রের গ্রন্থাবলীতে জ্ঞানের মুক্ত ভা-ার ও নক্ষত্ররাজির গতিবিধির উল্লেখ প্রসঙ্গ সর্বপ্রথম তার মুখে উচ্চারিত হয়েছে। আল্লাহতায়ালার এবাদতের জন্য মন্দিরসমূহের নির্মাণ, তিব্ব বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের আবিষ্কার এবং জমিনী ও আসমানি দ্রব্যসামগ্রী সম্পর্কে প্রশংসামূলক ছন্দময় কাসিদা (কবিতা) রচনা তারই র্কীতি এবং তিনিই সর্বপ্রথম অবহিত করে লোকদেরকে সতর্ক করেছেন এবং বলেন যে, তাকে দেখানো হয়েছে, এক আসমানি আপদ জমিনকে পানি ও আগুন লেপটে ধরেছে। তিনি এ বিপদ প্রত্যক্ষ করে জ্ঞান বিজ্ঞান ও শিল্প পেশার ধ্বংস হওয়ার আশংকায় ভীত হয়ে পড়েন এবং এ জন্য তিনি মিসরে আহরাম (পিরামিটসমূহ) এবং মন্দিরে চিল্লাকাশির জন্য  চার দিক থেকে বন্ধ ‘বারাবী’গুলোর ছবি তুলে রাখেন, যেখানে সকল শিল্পকর্ম ও নতুন আবিষ্কৃত যন্ত্রাদি সংরক্ষিত ছিল এবং সকল জ্ঞান-বিজ্ঞানের তথ্যাবলী ও গুণাগুণগুলোর নকশা প্রস্তুত করে রাখেন যাতে এসব বস্তু সর্বদা স্থায়িত্ব লাভ করে এবং ধ্বংসের হাত হতে রক্ষা পায়।
(প্রথম খ-, পৃ : ৮০-৮৬)
হযরত নূহ (আ.) আবুল বাশার বা দ্বিতীয় আবুল বাশার নামে খ্যাত। কোরআনের বিয়াল্লিশটি স্থানে তার উল্লেখ আছে। হযরত ইদ্রিস (আ.)-এর ওফাতের পর তার জাতি গোমরাহ হয়ে যায় এবং তাদের হেদায়েতের জন্য হযরত নূহ (আ.)-এর আগমন ঘটে। তার ভ্রষ্ট জাতি মূর্তি ও অগ্নি পূজায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। কোরআনে বর্ণিত পাঁচটি মূর্তি ওদ্দশোআ, ইয়াগুস, ইমভিক এবং নসর এগুলোর পূজা করতে থাকে। সারা দেশ মূর্তি আগুন পূজায় লিপ্ত হয়। হযরত নূহ (আ.)-এর তবলীগের ফলে মাত্র আশিজন হেদায়েতপ্রাপ্ত হয়, বাকিরা সব গোমরা এবং তারা নবীর প্রতি নিষ্ঠুর অত্যাচার-নির্যাতন চালাতে থাকে। তার বদদোয়ার ফলে আল্লাহর নির্দেশে তিনি কাশতি নৌকা বানান বহু বছরের কঠোর পরিশ্রমে।
তওরাতের বর্ণনা অনুযায়ী, কাশতির দৈর্ঘ্য ছিল তিনশ হাত এবং এর উচ্চতা ছিল তিরিশ হাত। ভয়াবহ তুফান ও প্লাবনে গোটা জাতি পানিতে ডুবে ধ্বংস হয়ে যায়, কেবল কাশতিতে আরোহণকারীরাই বেঁচে যায় এবং তার তিন পুত্র সাম, হাম ও ইয়াফেজ হতে দুনিয়ায় তাদের বংশ ছড়িয়ে পড়ে। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে নূহ (আ.)-এর পূর্বে নৌকা তৈরির শিল্প গড়ে ওঠেনি, তিনিই সর্বপ্রথম এ শিল্পের সূচনা করেন। শিল্পজাত সভ্যতার তিনি ছিলেন উদ্ভাবক, যার উন্নত সংস্করণ নৌপথের জাহাজ ও অন্যান্য যানবাহন এবং আরো সর্বোন্নত সংস্করণ উড়োজাহাজ, রকেট ইত্যাদি। সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, হজরত নূহ (আ.) তার জাতির নাফরমানির ফলে তাদের ওপর আল্লাহর আসন্ন আজাবের কথা জানতেন এবং গোমরাহ জাতি সেই আজাবে ধ্বংস সেই বিশ্বাসও তার ছিল। তাই মোমেনদের আজাব হতে রক্ষা ও তাদের নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর নির্দেশে কাশতিতে তৈরি করেন।
হযরত ইবরাহিম (আ.) মক্কা আবাদ করেন, খানাই-কাবা পুনর্নির্মাণ করেন, প্রতীকী এবাদত হজ ও মানাফেকে হজ কোরবানি ইত্যাদি এমন সব কীর্তি-সভ্যতা যার তুলনা বিরল এবং যার ফলে মক্কানগরী পরিণত হয়েছে মুসলিম ঐতিহ্য, ঐক্য ও মুসলিম তাহজীব-তমদ্দুন তথা সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র রূপে। কাবা নির্মাণের সাথে এবং মক্কা আবাদ করার সাথে মহান পিতার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন হজরত ইসমাঈল (আ.) এবং তার অধস্তন পুরুষ সর্বশেষ মানব ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সা.)। তিনি জন্মগ্রহণ করেন সেই ঐতিহ্য-ঐতিহাসিক মক্কা নগরীতে এবং আরবের সেরা বংশ কোরে এবং যিনি পূর্ণতা দান করেন আল্লাহর মনোনীত পছন্দনীয় মিল্লাতে ইবরাহিমী-ইসলামকে। হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর আরো একটি মানব সভ্যতার কীর্তি বায়তুল মোকাদ্দাস (ফিলিস্তিনে) মুসলমানদের কেবলা স্থাপন। হযরত জিবরাইল (আ.) আল্লাহর নির্দেশে একখানা পাথর এনে সেখানে স্থাপন করেন, যা ‘ছাখরাতুল্লাহ’ আল্লাহর পাথর নামে খ্যাত। তিনি হজরত হাজেরা (আ.)-এর কান ছেদন করেন এবং মুসলমান শিশুদের ‘খতনা’ প্রবর্তন করেন, যা সুন্নতে ইবরাহিমী নামে কেয়ামততক চালু থাকবে। তিনি মানুষকে কাবায় গিয়ে হজ করার আহ্বান জানান। কথিত আছে যে, লবণের ব্যবহার তিনিই চালু করেন, যার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে, মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মধ্যে অন্যতম লবণ বেহেশতের প্রতীকী কাফুরÑ ‘কাফুরুনমিন কাওয়াফিরিল জান্নাতি’। তিনি ১৭৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। বর্ণিত বিবরণ হতে প্রতীয়মান হয় যে, মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে হযরত ইদ্রিস (আ.)-এর অবদানের চেয়ে আদর্শ-ঐতিহ্যের দিক থেকে নবী-রাসূলগণের মধ্যে হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর অবদান শ্রেষ্ঠতম। তিনি একটি স্বতন্ত্র মিল্লাতের প্রতিষ্ঠা, যার সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ পূর্ণাঙ্গ সর্বশেষ এবং সর্বোন্নত সংস্করণ মুসলমানদের দ্বীন ইসলাম। আর ইসলামী সভ্যতাই হচ্ছে বিশ্বের বুকে সর্বোত্তম সেরা সভ্যতা। আরো তিনজন নবী ছিলেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতারও অধিকারী। তারা হচ্ছেন হজরত ইউসুফ (আ.), দাউদ (আ.) এবং সুলমান (আ.)। কোরআনে সূরা ইউসুফ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা রয়েছে। তার কাহিনীকে আল্লাহ তালা আহসানুল কাসাস বা সর্বোত্তম কাহিনী নামে অভিহিত করেছেন। বাদশাহ আজিজ মিসরের সরকারের সর্বোচ্চ পদের অধিকারী হয়ে হজরত ইউসূফ (আ.) মহাদুর্ভিক্ষের যে প্রজ্ঞা, দক্ষতা ও দূরদর্শিতার সাথে সফল মোকাবিলা করেছেন তা ইতিহাসের এক বিরল ঘটনা এবং মানুষকে দুর্ভিক্ষের কবল হতে মুক্ত রাখার আদর্শিক দৃষ্টান্ত। বাদশাহ এর উপদেশষ্টা হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের অর্থ বিভাগকে এমন নিপুণতার সাথে পরিচালনা করেন যে, জাতি দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা হতে রক্ষা পায়। এ মহাসংকট ও বিপর্যয়ের সময়ে মানবতার সেবায় তিনি যে ভূমিকা পালন করেন খোদ কোরআনেই তার বিবরণ রয়েছে, এটি মানব সভ্যতার আরেকটি উজ্জ্বল স্মরণীয় দিক।
তখতে সুলায়মানী : হযরত দাউদ (আ.)-এর পর তার পুত্র হজরত সুলায়মান (আ.) সিংহাসন লাভ করেন। তার বিস্তারিত কাহিনীও কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। তার সুলায়মানী সিংহাসনের বিবরণও বিভিন্ন গ্রন্থে রয়েছে তখতে সুলায়মানী নামে খ্যাত এবং অপূর্ব সুন্দর। এতে বসে তিনি এক মাসের পথ এক দিনে অতিক্রম করতেন। তার তখত ও দরবারের সানশওকত সম্পর্কে বলা হয়, ‘হযরত সুলায়মান (আ.)-এর প্রধানমন্ত্রী বারখিয়া তার সামনে হীরা জহরত ও মণিমুক্তা সজ্জিত চেয়ারে (কুমিতে) বসতেন। চার হাজার উলামা তার ডানদিকে, চার হাজার ওমারা-সর্দার তার বামদিকে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকতেন। অনুরূপভাবে চার হাজার জিন-পরীও দরবারে উপস্থিত থাকত। এরা ফজরের নামাজ পড়ে দরবারে আসত এবং জোহর পর্যন্ত দরবারের কাজে ব্যস্ত থাকত। হযরত সুলায়মান (আ.) তাদের দ্বারা ফরমান লেখাতেন এবং রিপোর্ট ও অভিযোগসমূহ শ্রবণ করতেন এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ব্যবস্থা নিতেন। বায়তুল মোকাদ্দাস তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি চল্লিশ বছর রাজত্ব করার পর ইন্তেকাল করেন।
মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে নবী-রাসূলগণের ভূমিকার ওপর অতি ক্ষুদ্র আলোকপাত পেশ করা হলো। কেবল কোরআনে বর্ণিত নবী-রাসূলগণের ভূমিকা আলোচনা করতে হলেও বিশাল পরিসর প্রয়োজন, যা এখানে সম্ভব নয়, তবে শেষ নবী-রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সা.) সম্বন্ধে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, তার প্রতি কোরআন নাজেলের মাধ্যমে ইসলাম ও মানব সভ্যতার পূর্ণতা দান করা হয়েছে এর অধিক বলার কোনো প্রয়োজন থাকতে পারে না।
লেখক : গবেষক, সাংবাদিক



 

Show all comments
  • মহসীন শেখ ২০ জুন, ২০১৭, ৪:৪৯ পিএম says : 0
    আপনাদের কাছে সত্য সংবাদ প্রকাশ আশা করি।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।