Inqilab Logo

রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫ মাঘ ১৪২৯, ০৬ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

জনগণ আ.লীগকেই ভোট দেবে

২৪ ডিসেম্বর ২২তম জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ অক্টোবর, ২০২২, ১২:০০ এএম

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আরো প্রায় ১৫ মাস বাকি। মাঠের বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত বিএনপি এখনো স্বাভাবিকভাবে সভা-সমাবেশ করতে পারছে না। দলটির বিভাগীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক সমাবেশে লোকসমাগম ঠেকাতে আগের দিনই পরিবহন ধর্মঘটসহ নানান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবারও ওয়াশিংটনে ফরেন প্রেস সেন্টারে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক অগ্রাধিকার সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলোর সভা-সমাবেশ ভীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের তাগিদ দেয়া হয়েছে। এতে পরিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই বাংলাদেশে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো আর পাতানো নির্বাচন সম্ভব নয়।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধানের বাইরে যাবে না। আর বিএনপি বলছে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না এবং নির্বাচন হতে দেবে না। ফলে নির্বাচনের পরিবেশ এখনো অনুপস্থিত। এর মধ্যেই বাতাসে নানা গুঞ্জন। নির্বাচন হবে কি-না তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে শঙ্কা।
দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে এই চালচিত্রের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের ওপর মানুষের আস্থা রয়েছে বলেই তিনবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে; আবার নির্বাচনে মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে। গতকাল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় আগামী ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ সময় বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা সন্ত্রাসী, খুনি, জনগণের অর্থ লুটপাটকারী, বোমা-গ্রেনেড হামলাকারী ও বিদেশে অর্থপাচারকারী, জনগণ তাদের বিশ্বাস করে না, ভোটও দেবে না। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই বিএনপি এখন আন্দোলন করতে পারছে। কিন্তু বিএনপির যারা খুনের সঙ্গে জড়িত, অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত, তাদের ধরা হবে, কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক সঙ্কটের কারণে ২২তম জাতীয় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতায় ব্যয় কমাতে হবে। খরচ কমানোর জন্য এবারের আয়োজন হবে সাদামাটা। এসময় সম্মেলন প্রস্তত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন দলীয় সভাপতি।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ অধিকাংশ দলের বর্জনের মুখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। ওই সময় বলা হয়েছিল সংবিধান রক্ষার নির্বাচনের পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে কারণে প্রভাবশালী দেশগুলোর পরামর্শে বেগম খালেদা জিয়া লাগাতার হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সরকারকে সময় দেন। পরবর্তীতে ৫ বছর পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এমন প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর প্রভাবশালী দেশগুলোর পরামর্শে সব দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে। কিন্তু নির্বাচনের আগের রাতে প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট করা হয়। এতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন প্রভাবশালী দেশগুলোর ঢাকায় কর্মরত রাষ্ট্রদূতরা। এবার ওই দেশগুলো কোনো ভাবেই যেনতেন নির্বাচন হতে দেবে না বলে আগাম বার্তা জানিয়ে দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থাগুলো বাংলাদেশে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তাগিদ দিচ্ছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। এবারও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দলের সর্বশেষ ২১তম জাতীয় সম্মেলন হয়েছিল ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রাজধানীর রোজ গার্ডেনে দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের জন্ম। ঐতিহ্যবাহী এই দলটির বয়স ৭৩ বছর। এ পর্যন্ত দলটির ২১টি জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২১-২২ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ২১তম জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৬ সালে ২০তম এবং ২০১২ সালে দলটির ১৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৮১ সালে দলের ১৩তম সম্মেলনে ভারতে থাকাবস্থায় প্রথমবার সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে পরবর্তী আটটি কাউন্সিলের মাধ্যমে টানা ৪১ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা

এবারো দলের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা থাকছেন তা মোটামুটি নিশ্চিত। তাই সম্মেলনে দলের সভাপতি কে হবেন তা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। মূল আলোচনা দলের সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ২০তম সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। গত সম্মেলনেও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি কী আবারো সাধারণ সম্পাদক থাকবেন না কী নতুন কেউ সাধারণ সম্পাদক হবেন মূল আলোচনা ও নেতাকর্মীদের আকর্ষণের জায়গা এটি।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বলেই বিএনপি আন্দোলন করতে পারছে। কিন্তু অগ্নিসন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপির যারা খুনের সঙ্গে জড়িত, অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত, তাদের ধরতে হবে। তাদের কোনো ছাড় নেই।

আগামীতে জনগণ আওয়ামী লীগকে আবারো ভোট দেবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ওপরে মানুষের আস্থা রয়েছে বলেই তিনবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, এবারো দেবে।
তিনি আরো বলেন, কিন্তু যারা সন্ত্রাসী, খুনি, জনগণের অর্থ লুটপাটকারী, বোমা-গ্রেনেড হামলাকারী ও অর্থপাচারকারী জনগণ তাদের বিশ্বাস করে না, ভোটও দেবে না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি এবং আমরা কাজ করে যাব। আমার কথা হচ্ছে আমাদের উন্নয়নের কথাগুলো যেমন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ঠিক তেমনি ভবিষ্যতের জন্য যে আমরা পরিকল্পনা করছি সেটাও মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। বিএনপির আমলে যে তাদের লুটপাট, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, গ্রেনেড হামলা, অত্যাচার-নির্যাতন, খুন-রাহাজানী এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা না করেছে। যে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে এসেছে সেই দেশকে তারা ভিখারির দেশে পরিণত করেছিল। হাত পেতে চলার দেশে পরিণত হয়েছিল। সেখান থেকে বাংলাদেশকে তুলে এনে আজকে আমরা আত্মমর্যাদাশীল দেশে পরিণতি করেছি। যে দেশকে বিশে^র মানুষ সম্মানের চোখে দেখে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ এই উপমহাদের পুরোনো সংগঠন। এই সংগঠন আরো শক্তিশালী হোক। মানুষের জন্য কাজ করে মানুষের হƒদয় জয় করে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। জনগণের ভোটে এসেছি, জনগণের আস্থা নিয়ে এসেছি। সেই আস্থা আমরা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। ১৪ বছর আমরা এদেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ধরে রেখেছি। আওয়ামী লীগ আরো বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এটা আমাদের মাথায় রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। আর যারা সন্ত্রাসী, খুনি, দশ ট্রাক অস্ত্র, গ্রেনেড হামলাকারী, বোমা হামলাকারী এদের দেশের জনগণ বিশ্বাস করে না। এদের পাশেও কোনো দিন থাকবে না। এদের ভোটও দেবে না। এটাই হলো বাস্তবতা।
বৈঠকের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন আগামী ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সম্মেলন হবে। এবার একদিনে জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী এ সম্মেলনে সকালে উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। বিকালে কাউন্সিল অধিবেশন হবে অর্থাৎ নেতৃত্ব নির্বাচন পর্ব। এরপর সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

তিনি আরো জানান, আগামী ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভা করবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ২২তম জাতীয় সম্মেলন সফল করতে বেশকিছু উপ-কমিটি করা হয়েছে। পরে কমিটির সদস্যদের নাম জানিয়ে দেওয়া হবে। তারিখ নির্ধারণের পর দ্রুত সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘২২তম জাতীয় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতায় বর্তমান বৈশ্বিক সঙ্কটের কারণে ব্যয় কমাতে হবে।



 

Show all comments
  • Bhuiyan Hanif ২৯ অক্টোবর, ২০২২, ৭:২৬ এএম says : 1
    সুষ্ঠু ফ্রিয়ার নির্বাচন হলে বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামীলীগ কে ভোট দিবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • Belal Hossain ২৯ অক্টোবর, ২০২২, ৭:২৬ এএম says : 0
    জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিবে! তাই ভোটের কোন দরকার নেই!
    Total Reply(0) Reply
  • Habib Gobi ২৯ অক্টোবর, ২০২২, ৭:২৬ এএম says : 0
    ভালো কথা তো।তাহলে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন দেন
    Total Reply(0) Reply
  • Sarker Millat ২৯ অক্টোবর, ২০২২, ৭:২৭ এএম says : 0
    জনগণ কেন্দ্র না গেলে সমস্যা নাই জনগণ ছাড়া সরকার চলতে পারে
    Total Reply(0) Reply
  • Md Wasim Monshi ২৯ অক্টোবর, ২০২২, ৭:২৬ এএম says : 0
    ভালো কথা ।তাহলে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন দিতে ভয় পান কেন
    Total Reply(0) Reply
  • AK Dulal Ahmed ২৯ অক্টোবর, ২০২২, ৭:২৫ এএম says : 0
    জনগণ অপেক্ষায় আছে আওয়ামী লীগ কে ভোট দেওয়ার জন্য নয়, আওয়ামী লীগ কে চিরতরে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত ও বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করার জন্য। শুধু সংবিধান পরিবর্তন করেন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেন।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী

৫ ডিসেম্বর, ২০২২

আরও
আরও পড়ুন