Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌
শিরোনাম

নগরকান্দায় মুক্তিযুদ্ধ

| প্রকাশের সময় : ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বদিউজ্জামান চৌধুরী : পাকিস্তান সামরিক বাহিনী ২৫ মার্চ রাতে ঢাকাতে অতর্কিত নারকীয় হত্যাকা- চালিয়ে ঢাকাকে মৃত নগরীতে পরিণত করার পর দৃষ্টি দেয় বাংলার বাকি জনপদের দিকে। এরই অংশ হিসেবে তারা দেশের পশ্চিম-উত্তর ও পশ্চিম-দক্ষিণ প্রবেশের মুখে পদ্মা নদীর পশ্চিম প্রান্তে নগরবাড়ি ও গোয়ালন্দ ঘাটে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা স্থানীয় আনসার বাহিনী সদস্য ও রাজারবাগ পুলিশ বাহিনী ও ইপিআর বাহিনীর বিদ্রোহী সেনারা একত্র হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মুক্তিযোদ্ধারা পদ্মা নদীর তীরে বাঙ্কার তৈরি করে দিন রাত ধরে পাহারা দিতে থাকে যাতে করে কোন পাকিস্তান বাহিনী নদী অতিক্রম করে না আসতে পারে।
এপ্রিলের ২০ তারিখে সকাল ১০ টায় নগরকান্দা ও ফরিদপুর কোতয়ালি থানা আসন থেকে ১৯৭০-এর নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ সংসদ সদস্য কে.এম.ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্ব মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল গোয়ালন্দ ঘাটে প্রতিরোধ দুর্গ পরিদর্শন করতে যায়। সেখানে প্রতিরোধে অংশ গ্রহণকারীদের সাথে আলোচনার সময় আরোও  গোলা-বারুদ সরবরাহের জন্য প্রতিরোধকারী পক্ষ থেকে বলা হয়।
কে. এম. ওবায়দুর রহমান গুলজার আহমেদ দুলালসহ আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ফরিদপুরে এসপি সাহেবকে পুলিশ লাইনের অস্ত্র ভা-ার থেকে  গোলা-বারুদ সরবরাহ করতে অনুরোধ করেন। এসপি গোলা-বারুদ দিতে রাজী হন এবং গুলজার আহমেদ দুলালের উপর দায়িত্ব দেয়া হয়  গোলা-বারুদ গোয়ালন্দ ঘাটে পৌঁছে দেয়ার।

কিন্তু রাতে এসপি’র নিকট গোলা-বারুদ আনতে গেলে তিনি গোলা-বারুদ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। গুলজার আহমেদসহ  সকলে হতাশ হয়ে পড়ে। তখন জেলার নেতৃবৃন্দ শহর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২১ এপ্রিল ভোর সাড়ে ৪টা-৫টার দিকে পাকিস্তান বাহিনী গোয়ালন্দ ঘাটে চূড়ান্ত আক্রমণ চালায় ও ফরিদপুর শহরে প্রবেশ করে।

নগরকান্দা থানার অস্ত্র উদ্ধার
গোয়ালন্দ ঘাটে পাকিস্তানী বাহিনীর আগমনের সংবাদ পেয়ে ফরিদপুরের ডিসি ও এসপি পালিয়ে ভাঙ্গা যাওয়ার পথে ১০-১২ জন মুক্তিযোদ্ধা তাদেরকে অবরুদ্ধ এবং তাদের গতিরোধ করে কৈফিয়ত চাওয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট অস্ত্র হস্তান্তর না করার কারণ জানতে চাওয়া হয়। ডিসি ও এসপি তখন ভয়ে কে. এম. ওবায়দুর রহমানের নিষেধাজ্ঞার কথা বলেন। তখন মুক্তিযোদ্ধারা তাদেরকে নিয়ে ওবায়দুর রহমানের গ্রামের বাড়ি নগরকান্দার লস্করদিয়াতে যান।

ওবায়দুর রহমান সবকিছু শুনে দেশের সংকটাপন্ন অবস্থার কথা বিবেচনা করে সকলকে বুঝিয়ে শান্ত করেন এবং তাদের দাবিমত এসপিকে দিয়ে  নগরকান্দা থানার ওসি’র নিকট চিঠি লিখে থানার অস্ত্র গোলা-বারুদ রাখার ঘরের চাবি দিতে আদেশ করেন। তারপর মুক্তিযোদ্ধারা ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় নগরকান্দা থানায় এসে ওসি’র নিকট হতে থানার অস্ত্র গোলা-বারুদ রাখার ঘরের চাবি নিয়ে কয়েকটি অস্ত্র বের করে চাবি নগরকান্দা থানা আওয়ামী লীগ নেতা বকুলের নিকট রেখে আসে। এরপরে নগরকান্দা থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি মোঃ সোলায়মান আলী ও নগরকান্দা থানা থেকে নির্বাচিত এমপিএ আমিনউদ্দিন মাস্টার ও বকুলের সাথে আলাপ করে নিজ দায়িত্বে রাতে নগরকান্দা থানা থেকে ২৬ টি রাইফেল ২৭ পেটি গুলির বাক্স, ১৬ টি স্টিল হেলমেট, ১৪ টি বেয়নেট ও কয়েকটি সিভিলগান উদ্ধার করে পুড়াপাড়া দীপকের বাড়িতে রেখে দেন। পরদিন সোলায়মান আলী তার আপন বড় ভাই আবদুল আজিজ মোল্লা, যিনি ১৯৪৩ সালে ১৮ বছর বয়সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেছিলেন এবং ১৯৬৭ সালে ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টে হাবিলদার হিসেবে অবসর নেন। তাকে মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্ব দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। আবদুল আজিজ মোল্লা নিজ তত্ত্বাবধানে অস্ত্র গোলা-বারুদ রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে থাকে।
২১ এপ্রিল ফরিদপুরে পাকিস্তানী সেনাঘাঁটি স্থাপনের পর ভাঙ্গা থানায় ঘাঁটি স্থাপন করে দালালদের সহযোগিতায় আশে-পাশের এলাকায় অপারেশন চালায়। ৩০ এপ্রিল সকাল ৭ ঘটিকায় হানাদার বাহিনী নগরকান্দার চর যশোলদী গ্রামের নেপাল সাহার বাড়িতে হামলা চালায়। নেপাল সাহার বাড়িতে কাউকে না পেয়ে সৈন্যরা এলাকার লোক দিয়ে বাড়িটি লুট করিয়ে দেয়। লুট শেষে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। শোনা যায়, তৎকালীন মূল্যের প্রায় ৭ লক্ষ টাকার সম্পদ নেপাল সাহার বাড়ি হতে লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর ঐ এলাকার বাবুর আলী মাতুব্বরের বাড়িেেত লুট ও আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এই ঘটনার শোকে বাবুর আলী মৃত্যুবরণ করেন। পাকিস্তানী সৈন্যরা সেদিন ৮ জন স্থানীয় মানুষকে গুলি করে হত্যা করে।
এই দিকে চর যশোলদী গ্রামে পাকিস্তানী সৈন্যদের হামলার সংবাদ পেয়ে নগরকান্দা মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডার আবদুল আজিজ মোল্লা কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধ করার জন্য চর যশোলদী গ্রামে পৌঁছান। কিন্তু তার পূর্বেই পাকিস্তানী সৈন্যরা সংবাদ পেয়ে দ্রুত ভাঙ্গা থানায় চলে যায়। আজিজ মোল্লা ও তার সাথীরা তখন এলাকার লোকজনের নিকট ঐ এলাকার রাঙা মিয়া ও তার ছেলে ওদুদ-এর মাধ্যমে পাকিস্তানী সৈন্যরা অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ করার অভিযোগ পেলে আজিজ মোল্লা রাঙা মিয়া ও তার ছেলে ওদুদকে ধরতে যান। কিন্তু রাঙা মিয়া পূর্বেই পালিয়ে যায়। আজিজ মোল্লা রাঙা মিয়ার ছেলেকে ধরে গুলি করে হত্যা করে।
 নগরকান্দা থানা থেকে দ্বিতীয়বার অস্ত্র উদ্ধার
২২ এপ্রিল রাতে নগরকান্দা থানা থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ১০-১২ দিন পর থানার ওসি কার্তিক বাবু ফরিদপুরের সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করে কিছু পুলিশ নিয়ে থানায় এসে এলাকার জনগণকে লাইসেন্স করা সকল অস্ত্র জমা দিতে আদেশ করেন। এতে বেশ কিছু অস্ত্র থানায় জমা পড়ে।
এ সংবাদ পেয়ে নগরকান্দা থানা কমান্ডার আবদুল আজিজ মোল্লা তার বাহিনী নিয়ে থানায় আক্রমণ করে ১৫ টি সিভিলগান ও একটি রিভলবার, কয়েকটা ৩০৩ রাইফেলের গুলি এবং পুলিশের কিছু পোশাক উদ্ধার করে।
থানার সিআইসহ কয়েকজন ধরা পড়ে, কিন্তু ওসি কার্ত্তিক বাবু পালিয়ে যায়। পরে সকলকে ছেড়ে দেওয়া হলেও আজিজ মোল্লার নেতৃত্বে ভাঙ্গা থানা থেকে যে কয়জন মুক্তিযোদ্ধা ঐ অভিযানে অংশ নিয়েছিলো তারা সিআইকে হত্যা করে।
 তারপর নগরকান্দাতে পাকিস্তান সেনা সহযোগী জাফর ও তার ভাই খোকন-এর নেতৃত্বে এলাকায় তাদের তৎপরতা শুরু করে দেয়। তারা নগরকান্দা থানা থেকে নিয়ে আসা অস্ত্র ফেরৎ দিতে আওয়ামীলীগ কর্মীদের উপর চাপ দিতে থাকে। এমনকি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।
 নগরকান্দা পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগী হিসেবে মোট চারটি দল গঠিত হয়। তার মধ্যে কাইচাইল, লস্করদিয়া বল্লভদী এলাকার নেতৃত্ব দেয় জাফর ও তার ভাই জাহিদ হোসেন খোকন। বড় খারদিয়া বল্লভদী, আটঘর ও ভাওয়াল এলাকায় নেতৃত্ব দেয় আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু মিয়া। বাচ্চুর দলে ১২-১৩ টি রাইফেল ছিল। তালমা, রামনগর ডাঙ্গি ও গোট্টি এলাকায় নেতৃত্ব দেয় বাদশা শিকদার। তার সহযোগী তালমার মুহম্মদ পাকিস্তানী সৈন্যদের নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা কে. এম. ওবায়দুর রহমানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং চর যশোলদী এলাকায় পাকিস্তানী সহযোগী হিসেবে নেতৃত্ব দেয় মুন্নু মিয়া, কুটি মিয়া, নুরু মিয়া, শাজাহান, হিঙ্গল কাজী হারুন মিয়া, মোতালেব অন্যতম। এরা নগরকান্দা থানার নির্দিষ্ট এলাকায় লুটতরাজ, হত্যা ও অগ্নিসংযোগ করে।
 রাজাকারদের ওপর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ
 পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর সহযোগীদের অত্যাচার, লুটতরাজ, রাহাজানি, অগ্নিসংযোগ অমানুষিক পর্যায়ে পৌঁছালে আজিজ মোল্লা, আলতাফ, মতি গাজি, ইসহাক, আউয়াল ও রশিদসহ প্রায় ৮-১০ মুক্তিযোদ্ধা চাঁদহাট জাফরের দলকে আক্রমণ করতে রওয়ানা হয়। ঐ সময় জাফর ৯-১০ জন রাইফেলধারী নিয়ে চাঁদহাট বণিকপাড়া ও বিভিন্ন বাড়িতে লুট করতে ব্যস্ত ছিল। আজিজ বাহিনীর দল কাছে এসে ফায়ারিং শুরু করলে জাফরের দলে সকলে পালানোর চেষ্টা করে। মুক্তিযোদ্ধারা ও এলাকাবাসীরা ৬ জনকে ধরে ফেলে। কিন্তু জাফর ও তার ভাই খোকন পালিয়ে চলে যায়। এরপর ২৮ মে সকাল ৯টার দিকে জাফর মুকসুদপুর হতে পুলিশসহ চাঁদহাটের দিকে আসতে থাকে। তারা কাটাখালি পশ্চিমপাড়ে উপস্থিত হলে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের উপর গুলি বর্ষণ শুরু করে। তখন মুক্তিযোদ্ধা হাবিলদার, আলতাফ ও আবদুর রশিদসহ কয়েকজন কাটাখালি সাঁতরিয়ে পার হয়ে পুলিশ বাহিনীকে ধাওয়া ও গুলি করতে থাকে। জাফরসহ বেশ কিছু পুলিশ ও দালাল আহত হয়। জাফর তার রাইফেল ফেলে পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা রাইফেলটি নিয়ে চাঁদহাট ফিরে আসে।
পর পর দুইদিন যুদ্ধে পাকিস্তান সমর্থক বাহিনী পরাজিত হওয়ায় ২৯ মে তৃতীয় দিন মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমণ আসতে পারে চিন্তা করে কমান্ডার আজিজ মোল্লা সকলকে প্রস্তুতি নিতে বললেন। মাত্র ১১ জন যোদ্ধা নিয়ে পাকিস্তানীদের আসার পথে অবস্থান নিলো। প্রতিরক্ষা ব্যূহ হতে পাকিস্তানীরা দুইশত বা আড়াইশত গজ দূরে থাকতেই আজিজ মোল্লা আক্রমণের নির্দেশ দিয়ে প্রথম ফায়ার করলেন তার অস্ত্র দিয়ে। সাথে সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সকল রাইফেল এক সাথে গর্জে উঠলো। পাকিস্তান বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা জবাব দিতে লাগলো। এভাবে ১৫-২০ মিনিট গোলাগুলি বিনিময়ের পর পাকিস্তান বাহিনী টিকে থাকতে না পেরে পিছু হঠতে শুরু করলো। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী সাধারণ মানুষ পাকিস্তান সৈন্যদের লক্ষ্য করে অগ্রসর হতে লাগলো। প্রায় ৫-৬ মাইল দৌড়ে জাফর ও তার ভাই খোকন নগরকান্দা হতে এক মাইল দক্ষিণে ছোট পাইককান্দি কোদালিয়া শেখরকান্দি ও ঈশ্বরদী গ্রামের মাঝে অবস্থিত বিলের ভিতর পালাতে চেষ্টা করে। হানাদার পাকিস্তানী সৈন্যরা জাফরকে অনুসরণ করে বিলের মধ্যে নেমে পড়ে। তখন মুক্তিযোদ্ধারা ও এলাকার সাধারণ জনগণ তিনদিক থেকে ঘিরে তাদের আক্রমণ করতে থাকে। ফলে একজন ক্যাপ্টেন, দুইজন লেফটেন্যান্ট এবং দালাল জাফরসহ ৩০ পাকিস্তানী সেনা সদস্য নিহত হয়। পক্ষান্তরে একজন মুক্তিযোদ্ধাও মারা যায় নাই বা আহত হয় নাই।
এ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা তিনটি মিডিয়াম মেশিনগান চারটি চাইনিজ রাইফেল ও একটি স্টেনগান, মেশিনগানসহ বহু মেশিনগানের গুলি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আসে।
বড় খারদিয়া অপারেশন
 নগরকান্দা অঞ্চলে বড় খারদিয়ার চান্দ কাজী ও মাওলানা মোহাম্মদ আলী ছিল পাকিস্তানীদের প্রধান সহযোগী পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আজিজ মোল্লা মাওলানা মোহাম্মদ আলীর বাড়ি পজিশন নিয়ে প্রথম ফায়ার করলে মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ এর দল চান্দ কাজীর বাড়ি অপারেশন শুরু করে। এ আক্রমণের ফলে ঐ অঞ্চলে পাকিস্তান দালালদের তৎপরতা বন্ধ হয়ে যায়।
তালমা অপারেশন
বড় খারদিয়া অপারেশন করার পর তৃতীয় দিন নির্ধারিত তারিখে ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা নৌকায় করে তালমা মাগরিবের নামাজের পর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ, জাফর ও রশিদ পাকিস্তানের সহযোগী বাদশা শিকদারের ঘরে আক্রমণ করে। অপরদিকে হানিফ ও শাহজাহান হাটের অন্যদিক থেকে আক্রমণ করে অপারেশন চালায়। এ অপারেশনে ৮ জন পাকিস্তানী দালাল মারা যায়।
নগরকান্দা খেয়াঘাটে আক্রমণ
২৫-৩০ জন হানাদার বাহিনী নভেম্বর মাসে রাতে নগরকান্দা থানায় অবস্থান কেরে। তাদের সাথে ছিল আল বদর কমান্ডার মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু মিয়া। সকালে দিকে সৈন্যরা নদী পার হওয়ার জন্য খেয়া নৌকায় উঠলে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের উপর আক্রমণ করে দুই পক্ষে তুমুল যুদ্ধ চলে হানাদারদের তীব্র আক্রমণের মুখে মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটে যায়। এ যুদ্ধে হাবিলদার আবদুল বারেক সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করে শাহাদাৎবরণ করেন।
নগরকান্দা থানা মুক্ত
নগরকান্দা থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল আজিজ মোল্লার নেতৃত্বে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে থানায় পুলিশ ও রাজাকারদের চতুর্পাশ থেকে ঘেরাও করে রাখে। সুযোগমত দূর থেকে থানায় পুলিশ ও রাজাকারদের লক্ষ্য করে গুলি করতো। তাদের এমন অবস্থা হলো যে তাদেরকে সব সময় বাঙ্কারের ভিতরেই থাকতেই হতো। এভাবে চলে সাতদিন। এরপর একদিন দুপুরের আগেই আলতাফ খান তার দল নিয়ে থানার পশ্চিম দিক দিয়ে হঠাৎ থানার মধ্যে ঢুকে পড়ে। অবস্থা খারাপ দেখে পুলিশ ও রাজাকার সকলে আত্মসমর্পণ করে। থানার ওসি আত্মহত্যা করে। মুক্তিযোদ্ধারা থানা দখল করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা  উত্তোলন করে।
লেখক : মুক্তিযোদ্ধা,সাংবাদিক



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ