Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৯, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৪ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

আফগানিস্তানে পপি চাষ থেকে আয় করছে মাদকবিরোধী কর্মকর্তারাই-২

প্রকাশের সময় : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : (গত সংখ্যার পর) আফিম ব্যবসায় সরকারের জড়িত হওয়া কোনো নতুন বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়াল থেকে সক্রিয়, প্রায়শই সরকারের পক্ষে কাজ করা ক্ষমতার দালালরা আফিম বা হেরোইন উৎপাদন ও পরিশোধনের পর আফগানিস্তানের বহু ছিদ্রযুক্ত কোনো সীমান্ত দিয়ে পাচার করছে। সারা দেশজুড়েই এ দুর্নীতি দেখা যায়।
প্রধান আফিম উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে জেলাভিত্তিক পর্যায়ে কর আরোপের ঘটনা কম। প্রতিশোধের ভয়ে এ ব্যাপারে যারা কথা বলেন তারা পরিচয় গোপন রাখার শর্তেই কথা বলেন। তারাই শুধু প্রকাশ্যে কথা বলেন যাদের সরকারি কর্মকর্তাদের রোষ ঠেকানোর ক্ষমতা আছে। মারজার স্থানীয় এক পুলিশ কমান্ডার বাজগুল বলেন, এখানে এসব ঘটছে এটা ঠিক। কয়েক ডজন লোক কাজ করে তার তত্ত্বাবধানে। যারা প্রথম তালিবানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল তিনি তাদের একজন। তিনি বলেন, পুলিশ প্রধান, স্থানীয় পুলিশ কমান্ডার, তারা সরাসরি অর্থ নেন না। প্রভাবশালী লোকদের মাধ্যমে তারা তা করেন।
২০১০ সালে মার্কিন সৈন্য মোতায়েনের সময় অত্যন্ত সহিংসতা কবলিত জেলাগুলোর একটি ছিল মারজা। সাম্প্রতিক সময়ে তা ছিল তালিবান ও মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সৈন্যদের সমর্থনপুষ্ট আফগান বাহিনীর মধ্যে খ- সংঘর্ষের ক্ষেত্র।
মারজার এক প্রবীণ যিনি তার ৪৪ একর জমির ব্লকে পপি চাষ করা চাষিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন তিনি বলেন, পপি চাষের লোভ সংবরণ করা একেবারেই অসম্ভব। যদিও টাকা দিতে হয়, ছত্রাকের আক্রমণে ফসলের ক্ষতি হয়, তারপরও পপি চাষ সবচেয়ে লোভনীয়।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে গ্রুপের আয় ছিল ৬২ হাজার ডলার, আগের বছরের চেয়ে অর্ধেক। প্রতি একরের জন্য ৬০ ডলার কর দিয়ে ৪৪ একরে চূড়ান্ত লাভ হয়েছিল ৫৯ হাজার ডলার। বিশ^ ব্যাংকের হিসেবে একজন আফগানের বার্ষিক গড় আয় ৬৮১ ডলার।
প্রবীণ বলেন, এ ৪৪ একর জমিতে অন্য ফসল চাষ করলে আয় হত ২০ হাজার ডলার।
প্রাদেশিক রাজধানী লশকর গাহ থেকে গাড়ি পথে নাদ আলি জেলার দূরত্ব বেশি নয়। গরমশির বা মারজার চেয়ে নাদ আলি কম গোছানো। গত এপ্রিলে সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকার কৃষি জমি ঘুরে দেখা যায়, আগাম ফসল তুলে ফেলা বা রোগ আক্রান্ত গাছ মাঠে রাখা নিরর্থক বলে চাষিরা বেশির ভাগ জমিই চাষ করে ফেলেছে।
নাদ আলির কৃষকরা জানান, বিভিন্ন বিষয়ের উপর কর আদায় নির্ভর করে। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় পুলিশ কমান্ডারের সাথে একজনের সম্পর্ক, জেলা কেন্দ্রের সাথে নৈকট্য এবং রোগের আক্রমণে ফসলের ক্ষতির বিষয়। কিছু ক্ষেত্রে ফসল ধ্বংসের জন্য সরকারের পাঠানো টিমগুলো চাষিদের কাছ থেকে টাকা নেয়। অন্যদের মধ্যে স্থানীয় ও জাতীয় পুলিশও আছে।
৬ জন চাষি জানান, প্রতি একরের জন্য ৯০ থেকে ১শ’ ডলার দিতে হয়।
নাদ আলির লয়বাগ এলাকার এক চাষি বলেন, আমাদের সকল পপি ক্ষেতই রোগাক্রান্ত। কি পরিমাণ চাষ হয় ও রোগে কি পরিমাণ ফসল বিনষ্ট হয় তার উপর ভিত্তি করে কর দেয়া হয়।
গরমশিরের প্রচলিত ব্যবস্থা বদলের সুযোগ কম। প্রাদেশিক রাজধানী থেকে দূরতম স্থানে অবস্থিত এ জেলাটি মারজা বা নাদ আলির চেয়ে অধিক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে।
পপির ফসল রোগাক্রান্ত হওয়ার আগে মধ্য মার্চে নেয়া সাক্ষাতকারে দেখা যায় সুন্দরভাবে এক ধরনের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। চাষিরা সরকারকে দেয়া করের ব্যাপারে অসন্তুষ্ট হলেও অধিকাংশই এটাকে অনিবার্য বলে মনে করে। তারা বলে, এ সত্ত্বেও গম বা তুলা চাষের চেয়ে আফিমে লাভ অনেক বেশি।
বসন্তে পার্লামেন্টের দু’জন সদস্য প্রচলিত ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুললে সমস্যা দেখা দেয়। তারা এ করের পরিমাণ কমানোর দাবি করলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। তখন তারা এ নিয়ে হৈ চৈ করেন। কাবুলে কর্মকর্তারা টাকার ভাগ পাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত জেলা গভর্নর, পুলিশ প্রধান ও গোয়েন্দা প্রধানকে বরখাস্ত করেন। এক ছোট অনুষ্ঠানে হেলমন্দের ডেপুটি গভর্নর প্রাদেশিক গভর্নরের অফিসের বাইরে উৎফুল্ল চাষিদের হাতে তাদের কাছ থেকে নেয়া টাকা ফিরিয়ে দেন এবং এ ধরনের অন্যায় দমনে অঙ্গীকার করেন।
কর্মকর্তারা বলেন, চাষিদের কাছ থেকে নেয়া সকল টাকাই ফিরিয়ে দেয়া হয়। দায়ী ব্যক্তিদের চাকরিচ্যুত করা হয়। তবে কোনো অঙ্গীকারই রক্ষা করা হয়নি।
গরমশিরের গভর্নর এক সাক্ষাতকারে কোনো অর্থ নেয়ার কথা অস্বীকার করেন। তাকে সন্তর্পণে পাশের জেলা ওয়াশিরে সরিয়ে দেয়া হয়। কয়েক মাস পর আবার তাকে গরমশিরে ফিরিয়ে আনা হয়। তিনি আবার আগের মতোই কাজ করছেন। কাবুলের কর্মকর্তারা বলেন, তার অভিযোগের ব্যাপারে ব্যাপক তদন্ত চালিয়েও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গরমশিরে পরে গিয়ে দ্বিতীয় অসঙ্গতির কথা জানা যায়। চাষিরা বলেন, তারা তাদের কাছ থেকে নেয়া টাকার অর্ধেক ফেরত পেয়েছেন। সূত্র নিউইয়র্ক টাইমস।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন