Inqilab Logo

শনিবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০৮ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

গুজবে কান নয়, ব্যাংকে গ্রাহকের টাকা সুরক্ষিত : অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ নভেম্বর, ২০২২, ১২:০০ এএম

ব্যাংকের গচ্ছিত আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবের মধ্যে এবার গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেছে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। তারা বলছে, যেসব কথা ছড়ানো হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। সবার অর্থই সুরক্ষিত আছে। গতকাল রোববার এবিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা এবিবির পক্ষ থেকে বলতে চাই, এসব তথাকথিত তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই এবং এগুলো অসত্য। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ আছে। আমরা গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে চাই যে ব্যাংকগুলোতে তাদের অর্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমরা গ্রাহকদের গুজবে বিশ্বাস না করার জন্য অনুরোধ করব। হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে গুজব ছড়িয়েছে ব্যাংকে টাকা নেই। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হতে যাচ্ছে। তাই গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। এমনকি ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য হুড়াহুড়ি লেগেছে বলেও সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বিভ্রান্তিকর নানা তথ্য ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর তথ্য বলছে, এই অপপ্রচারে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত। তারা অর্থনীতি নিয়ে কল্পিত সব তথ্য ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানা মাধ্যমে প্রকাশ করছেন। দেশে বসে অনেকেই সেই গুজবে আগুন ঢালছেন।
এবিবি চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, আমরা সা¤প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাংকগুলোতে তারল্য নিয়ে অনেক গুজব লক্ষ করছি। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বলা হচ্ছে, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তারল্য নেই। গ্রাহকদের নগদ টাকা তুলতে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাত দিয়ে এসব নেতিবাচক খবর দেশ-বিদেশে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশে আমাদের প্রবাসীদের মধ্যেও এই গুজব ছড়ানো হচ্ছে, যাতে তারা বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে অনুৎসাহিত হন। এগুলো খুবই দুঃখজনক। এই গুজব প্রচারকারীরা আমাদের গ্রাহকদের, সমাজের ও দেশের ক্ষতি করছে।
এই গুজব গ্রাহকদের ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করার মধ্যে স¤প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এক বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাহকদের অর্থ সুরক্ষিত থাকার নিশ্চয়তা দেয়। তারা জানায়, ব্যাংকে এখন তারল্যের ঘাটতি নেই, উল্টো অতিরিক্ত তারল্য আছে।
এবিবির বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবৃতির কথাও উল্লেখ আছে। এতে বলা হয়, বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে তারল্যের কোনো ঘাটতি নেই। উপরন্তু ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকাও বেশি অতিরিক্ত তারল্য আছে। গত ৫০ বছরে আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো ব্যাংককে ব্যর্থ হতে দিয়েছে এমন কোনো নজির নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক তো বলেই দিয়েছে, কোনো ব্যাংকের কোনো অসুবিধা হলে তারা এগিয়ে আসবে। অতীতেও আমরা দেখেছি ব্যাংকিং খাতে কোনো সঙ্কট হলে বাংলাদেশ ব্যাংক এগিয়ে এসেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: এবিবি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ