Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪ আশ্বিন ১৪২৭, ০১ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

খুলনায় মনোনয়ন নিয়ে হামলা মামলা ভাংচুর গুলি সংঘর্ষ সহিংসতা চরমে

প্রকাশের সময় : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আবু হেনা মুক্তি, খুলনা থেকে : খুলনায় ইউপি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বাছাই নিয়ে আওয়ামীলীগ পুড়ছে এখন দ্রোহের আগুনে। প্রায় প্রতিটি উপজেলায় মনোনয়ন নিয়ে হামলা মামলা ভাংচুর গুলি সংঘর্ষ সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ দিনের দ্বন্দ্ব গ্রুপিং ভয়নকভাবে প্রকাশ্যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সাধারন নেতাকর্মী ও এমপি মন্ত্রীদের মধ্যে বিরোধ এখন তুঙ্গে।
তাছাড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা রশীদি সূজার মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসছে প্রকাশ্য বিরোধ। মনোনয়ন নিয়ে তা এখন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। আর বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছাইচাপা আগুনের মত যেকোন মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে পারে। প্রতিটি উপজেলায় দলের সিদ্ধান্তের বাইরে একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করার সকল প্রস্তুতি নিয়েছে। সব মিলিয়ে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে গোটা খুলনার রাজনীতি এখন টালমাটাল। তৃণমূল থেকে অভিযোগÑ বড় এ দু’দলে খুলনায় চলছে মনোনয়ন বাণিজ্য। সাধারণ কর্মীরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয়ে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দলীয় হাইকমান্ডের। সূত্রমতে, গতকাল বুধবারও কয়েক হাজার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ডুমুরিয়া থেকে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে স্থানীয় এমপি এবং মৎস্য ও পশুসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি পেশ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এছাড়া কেন্দ্রীয় নির্দেশ অমান্য করে প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি নিজ বাসায় অগণতান্ত্রিক ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মাইম্যান নির্বাচিত করার চেষ্টার প্রতিবাদে পরবর্তীতে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানবন্ধন গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। ডুমুরিয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও মুজিব ভক্ত সাধারণের ব্যানারে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালনের সাথে একটি প্রতিবাদ লিপি বণ্টন করে। মন্ত্রীর ষড়যন্ত্র রুখতে এ সময় বক্তারা দলের সভাপতি শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কমনা করেন। বটিয়াঘাটায়ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে মনোনয়ন বঞ্চিতরা। কয়রায় সাংবাদিক সম্মেলন করেছে আওয়ামীলীগের একাংশ। তারা উপজেলা সভাপতি সম্পাদকের মনোনয়ন বাণিজ্যের প্রতিবাদ জানায়।
গত পরশু মঙ্গলবার জেলার ৯টি উপজেলায় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে বৈঠক ছিল। এর মধ্যে বটিয়াঘাটায় দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে প্রার্থী বাছাইয়ের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে থানার ওসি সাংবাদিক এবং আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা গুরুতর জখম হয়। আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে দু’জনকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, একজনকে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ও ৮জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আরো ৫/৬জনকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন নিতে উপজেলা আওয়ামীলীগ গত সোম ও মঙ্গলবার সভা আহবান করে। গত পরশু ডুমরিয়ায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা স্থানীয় এমপি ও প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ’র অনিয়মের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী কর্তৃক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সর্ঘষের ঘটনা ঘটে। গত পরশু মঙ্গলবার রাতে মনোনয়ন প্রত্যাশী গোপাল চন্দ্র দে মনোনয়ন না পেয়ে তার নেতৃত্বে ২০/৩০জন নেতাকর্মী প্রতিমন্ত্রীর বাসায় হামলা চালায় ও গেট ভাংচুর করে। এসময় পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।
প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপকে অবৈধ ব্যাখ্যা করে ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউপি শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ কুমার রায় খুলনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। গতকাল এই গ্রুপের বিরুদ্ধেও পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন হয়েছে।
এদিকে, কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান চেয়ারম্যান আমির আলী গাইন ভোট বর্জন করে সাংবাদিক সম্মেলন করে। এ নিয়ে কয়েকটি স্থানে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ফাঁকা গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। দাকোপ উপজেলায় আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভায় হামলা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় ৩ সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী সভা বর্জন করে জেলা সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষন করে। এছাড়া দিঘলিয়ায় প্রার্থী বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে তীব্র উত্তেজনা ও পাল্টা পাল্টি কর্মসূচী ঘোষণা হয়েছে।
অপরদিকে, বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন চরমে। বিএনপি’র পক্ষ থেকে প্রায় সব উপজেলায় প্রার্থী বাছাই চূড়ান্তের দিকে। তবে দলের একাধিক ত্যাগী ও পুরাতন নেতারা বলছেন, প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। যে কারণে প্রতিটি উপজেলায় বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে। ইতোমধ্যে রাজপথের অনেক পুরনো কর্মীরা নির্বাচনের মাঠে নেমে গেছে। বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি ও বর্ষীয়ান নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু জাফর মোলঙ্গী ইনকিলাবকে বলেন, আমাকে যদি মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয় তাহলে অন্যায় করা হবে। যেহেতু এলাকার লোকে আমাকে চাচ্ছে তাই নির্বাচনে অংশ না নিয়ে আমার আর কোন উপায় নেই। খুলনার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনয়নে এবার বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা কম হবে না বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের কর্মীরা। তাদের দাবী দলের এই দুঃসময়ে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে আর একটু চিন্তা ভাবনা করে দলকে মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে দলের মধ্যে কোন্দল চরমাকার ধারণ করবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: খুলনায় মনোনয়ন নিয়ে হামলা মামলা ভাংচুর গুলি সংঘর্ষ সহিংসতা চরমে
আরও পড়ুন