Inqilab Logo

শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩ মাঘ ১৪২৯, ০৪ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

রসায়নের প্রকৃত জন্মদাতা একজন মুসলমান বিজ্ঞানী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৬ নভেম্বর, ২০২২, ১২:০০ এএম

একটা সময় গোটা বিশ্বকে শাসন করেছে মুসলিমরা। বর্তমানে আমরা প্রকৃত ইতিহাস হতে অজ্ঞ। আমাদেরকে প্রকৃত ইতিহাস হতে দূরে রাখা হয়েছে। বিজ্ঞানে মুসলমানদের যে অবদান তা কল্পনাতীত।কিন্তু পাঠ্য বইয়ে মুসলিম বিজ্ঞানীদের নাম পরিবর্তন করে উল্লেখ করা হচ্ছে। সুতরাং বলাই যায় যে আমরা প্রায় অন্ধকারেই বসবাস করছি।  বর্তমানে আমাদের মাথায় প্রায় গেথেই গিয়েছে যে প্রকৃত মুসলমান মানে টুপি দাড়িওয়ালা হুজুর। আর হুজুর মানেই যারা শুধু নামাজ পড়বে, কোরআন পড়বে, যাদের আনাগোনা শুধু মসজিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।যাদের ভিতরে আধুনিক কোন জ্ঞান থাকবে না, বিজ্ঞানের জ্ঞান থাকবে না। অথচ আমরা জানিই না বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ রসায়নের প্রকৃত জন্মদাতা একজন মুসলিম বিজ্ঞানী।আর তিনি হলেন জাবির ইবনে হাইয়ান।যার সম্পর্কে আমরা অনেকেই অজ্ঞ। ইউরোপীয়রা তার প্রকৃত নামকে বিকৃত করে জিবার নামে লিপিবদ্ধ করেছে।আর তার ফলে আমরা পাশ্চাত্যের জিবারকে চিনি কিন্তু  মুসলিম জাবির ইবনে হাইয়ানকে চিনি না। 

তার পূর্ণ নাম আবু আব্দুল্লাহ জাবির ইবনে হাইয়ান। তিনি আবু মুসা জাবির ইবনে হাইয়ান নামেও সুপরিচিত। জাবির ইবনে হাইয়ান এর পূর্বপুরুষরা আরবের দক্ষিণ অংশে বসবাস করতেন।তারা ছিলেন আজাদ বংশীয়। স্থানীয় রাজনীতিতে আজাদ বংশীয়রা বিশেষভাবে জড়িত ছিলেন।জাবির ইবনে হাইয়ানের পিতা ছিলেন একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক। উমাইয়া শাসকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অপরাধে ও উমাইয়া খলিফা তার পিতাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। জাবির ইবনে হাইয়ান ৭২২ সালে তুস নগরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন শিক্ষার প্রতি খুবই আগ্রহী। ফলে খুব অল্প সময়ে তিনি গণিতের বিভিন্ন শাখায় বিশেষ পারদর্শী হয়ে ওঠেন। কর্মজীবনে জাবির ইবনে হাইয়ান পিতার মতোই চিকিৎসা ব্যবসা আরম্ভ করেন। তৎকালীন বিখ্যাত পন্ডিত ইমাম জাফর সাদিকের অনুপ্রেরণায় তিনি রসায়ন ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষণা শুরু করেন। খুব অল্প সময়ে তার সুখ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে নতুন নতুন তথ্য ও বিভিন্ন পদার্থ আবিষ্কার করতে আরম্ভ করেন এবং খুব অল্পদিনের মধ্যেই শ্রেষ্ঠ রসায়ন বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত হন। 

জাবির ইবনে হাইয়ান চিকিৎসাশাস্ত্র, ইউক্লিড ও আল মাজেস্টের ভাষ্য, দর্শন, যুদ্ধবিদ্যা, রসায়ন, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও কাব্য সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। ইবনে নাদিমের মতে জাবির ইবনে হাইয়ান দুই হাজারেরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।। অতিশয়োক্তি মনে হলেও এতে আশ্চর্যের কিছু নেই তার লিখিত গ্রন্থ গুলোর অনেকগুলোর গড় পৃষ্ঠা ৮-১০ এর মতো।

 আবার কোনগুলোর আবার মাত্র ২টি। বিভিন্ন বিষয়ে তার লিখিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রসায়ন ২৬৭টি,দর্শন৩০০ টি,চিকিৎসা ৫০০টি,কিতাবুত তাকদির৩০০টি, জ্যোতির্বিজ্ঞান ৩০০পৃষ্ঠার ১টি। তার বিখ্যাত গ্রন্থ গুলোর ভিতরে অন্যতম হচ্ছেঃজীবাকুশ শরকি, কিতাবুল আরকানিল আরবা, কিতাবুল আহজার,কিতাবুল কালী, কিতাবুর রাহা, কিতাবুল ফিদ্দা, কিতাবুল মিহান, কিতাবুল রিয়াদ, কিতাবুল নুহাস, কিতাবুল ইহরাক, কিতাবুল বোরহানি ইত্যাদি। 

জাবির ইবনে হাইয়ানের আলকেমি সংক্রান্ত গ্রীক ভাষায় কয়েকটি গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া যায়।  তবে সব গ্রন্থগুলোর আরবি পান্ডুলিপির কোন সন্ধান মিলে না। ইংরেজিতে যে কটি গ্রন্থ ভাষান্তরিত হয় তা হল : ঞযব ংঁস ড়ভ ঢ়বৎভবপঃরড়হ, ঃযব রহাবংঃরমধঃরড়হ ড়ভ ঢ়বৎভবপঃরড়হ, ঃযব রহাবহঃরড়হ াবৎরঃু, ঃযব ঃবংঃধসবহঃ,ঃযব নড়ড়শ ড়ভ াবধহপব বঃপ. ইংরেজ বৈজ্ঞানিক হোলমায়ার্ডের মতে, প্রায় তিনশত বছর ধরে ইউরোপীয় আলকেমির চিন্তাধারা জাবির ইবনে হাইয়ান এর উদ্ভাবিত পদ্ধতির উপর ভিত্তি করেই সম্প্রসারিত হয়।  

জাবির ইবনে হাইয়ান অনেক বড় মাপের একজন বিজ্ঞানী ছিলেন।  তার জীবন ও কার্যক্রমের উপর ইউরোপীয় বেশ কজন বিজ্ঞানী জাবির এর জীবন ও কার্যক্রমের উপর গবেষণা করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন এইচ ই ষ্টাফলেটন, জে রুসকা, হোলমারড।  মূল কথা হলো জাবির ইবনে হাইয়ান মুসলমানদের গর্ব।  জাবির ইবনে হাইয়ানকে আধুনিক আলকেমির স্রষ্টা বলা হয়।  তার নাম রসায়ন জগতে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।  বিজ্ঞানের এমন কোন শাখা নেই যেখানে তার অবাধ বিচরণ ছিল না। বিজ্ঞানে তার অবদান সারা বিশ্বকে চির ঋণী করে রেখেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন