Inqilab Logo

সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯, ১৪ রজব ১৪৪৪ হিজিরী
শিরোনাম

প্রথমের অপেক্ষায় ক্রোয়েশিয়া-কানাডা

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ নভেম্বর, ২০২২, ১২:০৫ এএম

বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের দেখা পেতে ‘এফ’ গ্রুপের আরেক ম্যাচে আজ মাঠে নামছে ক্রোয়েশিয়া ও কানাডা। আল রাইয়ানের খালিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি। গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করে গত আসরের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া। অন্যদিকে বেলজিয়ামের কাছে ১-০ গোলে হেরে আসর শুরু করে কানাডা। তবে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে আসা কানাডার শুরুটা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।
ক্রোয়েশিয়া সম্প্রতি উয়েফা নেশন্স লিগে চার ম্যাচে জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষেও একটি জয় রয়েছে। ডেনমার্ক ও অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে যোগ্য দল হিসেবেই গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করে নেশন্স লিগের ফাইনালে খেলেছে ক্রোয়েশিয়া। নেশন্স লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থেকে ফাইনালে খেলা ক্রোয়েটরা সেই আত্মবিশ্বাস অবশ্য কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দেখাতে পারেনি। উজ্জীবিত মরক্কোর বিপক্ষে অবশ্য ১ পয়েন্ট অর্জনই তাদের সৌভাগ্য ছিল বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। পুরো ম্যাচে লক্ষ্যে মাত্র পাঁচটি শট করতে পেরেছে কোচ জালাটকো ডালিচের দল। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ডিয়ান লোভরেনের দৃঢ়তায় কোন গোল হজম করতে হয়নি তাদের। কোচ ডালিচ স্বীকার করেছেন প্রথম ম্যাচে আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে দলে ‘সাহসিকতার’ অভাব ছিল। কিন্তু তারপরও এক পয়েন্টের কারণে এখনো গ্রুপ ‘এফ’র দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ক্রোয়েটরা। ফেয়ার প্লে পয়েন্টে মরক্কোকে কিছু সময়ের জন্য হলেও তৃতীয় স্থানে পাঠিয়েছে ডালিচের দল। একটি বিষয় অবশ্য ক্রোয়েশিয়াকে কিছুটা হলেও আত্মবিশ^াস যোগাচ্ছে। আর তা হলো- মরক্কোসহ শেষ সাতটি ম্যাচে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় অপরাজিত রয়েছে ডালিচের দল। ইউরো ২০২০’র পর শেষ ১৭ ম্যাচে একটি মাত্র হার রয়েছে তাদের। সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে- সর্বশেষ ৫৪০ মিনিটের ফুটবলে ক্রোয়েশিয়া মাত্র দুটি গোল হজম করেছে। আশার কথা এই যে, কানাডা ম্যাচের আগে ক্রোয়েশিয়ায় কোন ইনজুরি শঙ্কা নেই। রেনে মিডফিল্ডার লোভরো মায়েরা আরো একবার বদলী বেঞ্চেই থাকছেন। লুকা মদ্রিচ, মার্সেলো ব্রোজোভিচ ও মাতেও কোভাচিচ আরো একবার একসঙ্গে জ¦লে ওঠার অপেক্ষায় আছেন।
এদিকে দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে আসা কানাডার প্রধান ভরসা বায়ার্ন মিউনিখের তারকা আলফোনসো ডেভিস। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের ১০ মিনিটে তার পেনাল্টি শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া রুখে না দিলে ম্যাচের চিত্রটা অন্যরকম হতে পারতো। পেনাল্টির ধাক্কা সামলে ওঠা রবার্তো মার্টিনেজের দলের কাছে পুরো ম্যাচে আর দাঁড়াতেই পারেনি কানাডা। মিশি বাটশুয়াইয়ের একমাত্র গোলে শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে রেড ডেভিলসরা। জন হার্ডম্যানের দল অবশ্য হার সত্ত্বেও বেশ কিছু ইতিবাচক দিক এই ম্যাচ থেকে নিজেদের করে নিয়েছে। যদিও বেলজিয়ামের কাছে হারে তারা ইতোমধ্যেই গ্রুপের তলানিতে নেমে গেছে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কিছু করতে না পারলে বিশ্বকাপ থেকে হয়তো বিদায় হয়ে যেতে পারে কানাডা। ১৯৮৬ আসরে প্রথমবারের মত খেলা কানাডা এনিয়ে বিশ্বকাপের চার ম্যাচে জয়বিহীন ও গোলবিহীন রয়েছে। ইতোমধ্যে যা একটি রেকর্ডও। হার্ডম্যানের দলের এখন একটাই লক্ষ্য এল সালভাদোরের টানা ছয় ম্যাচে হারের রেকর্ড স্পর্শ না করা।
কানাডার তারকা স্ট্রাইকার ডেভিস হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করছেন। এর আগে ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা থাকলেও মিলান বোয়ান ও স্টিফেন ইউস্টাকিও মূল দলে ফেরার সবুজ সঙ্কেত পেয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সী অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার আটিবা হাচিনসন কানাডার হয়ে শততম ম্যাচ খেলেছেন গত সপ্তাহে। দেশের হয়ে তিনিই প্রথম এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। তাকে হয়তো বিশ্রাম দিয়ে ইসমায়েল কোনে ও জোনাথন ওসোরিওর মধ্যে যেকোন একজনকে মূল দলে খেলানো হতে পারে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন