Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

কমিটিতে আসছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা, বাড়বে নারী সদস্য : আওয়ামী লীগ

প্রকাশের সময় : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

তারেক সালমান : দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল আগামী ২৮ মার্চ। জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে মূল্যায়ণ হবে তারুণ্যের। সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্য থেকে অপেক্ষাকৃত সাংগঠনিক দক্ষ, দল ও দলীয় নেতৃত্বের প্রতি নিবেদিত তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ নেতাদের কমিটিতে মূল্যায়ণ করা হবে। একই সঙ্গে আগের তুলনায় কমিটির পরিধি যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে বর্তমানের চেয়ে নারী সদস্য নেতৃত্বের সংখ্যাও। এছাড়া, জাতীয় সম্মেলনেই বর্তমান কমিটির নারী সদস্যদের পারফর্মেন্স বিবেচনায় পদোন্নতি দিয়ে অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ পদে দেয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। এসবের জন্য আগামী জাতীয় সম্মেলনে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের অন্যতম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি ইনকিলাবকে তারুণ্য নির্ভর কমিটির বিষয়ে বলেন, কাউন্সিলে কি হবে তা কাউন্সিলেই বোঝা যাবে। তা আগে থেকে অনুমান করা যায় না। আওয়ামী লীগ এমন একটা রাজনৈতিক দল, যেখানে প্রবীণের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের উদ্যমকে সমন্বয় করে দল ও দেশকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা থাকে। সেখানে অবশ্যই সামনের কাউন্সিলে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ বিশেষ করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মূল্যায়ণ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ডা. দীপু নারী নেতাদের সম্পর্কে বলেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে আমাদের আওয়ামী লীগ নারীদের নেতৃত্ব বিশেষ করে নারী ক্ষমতায়নকে বেশি গুরুত্ব দেয়। যদিও নির্বাচন কমিশনের আরপিও বিধান অনুযায়ী আমরা এখনও কমিটির যে নির্দিষ্ট কোটা পূরণ করতে পারেনি। তবে আমরা আশা করি ২০২০ সালের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের যে নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে বাধ্যবাধকতা রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তা অবশ্যই পূরণ করবে। সেক্ষেত্রে সামনের কাউন্সিলেও আমরা আরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীকে দলের নেতৃত্বে পাব বলে আমি আশা করি।
দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৮ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২০তম এ জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সেজন্য জাতীয় সম্মেলন সফল করার লক্ষে এখন ক্ষমতাসীন দলটিকে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এর আগে ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনটি হয়। ওই সম্মেলনের বর্তমান কমিটির নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত ডিসেম্বরে সম্মেলন করার কথা থাকলেও বিগত পৌরসভা নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে তা হয়নি।
আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, দলের বর্তমান গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা ৭৩ থাকলেও তা বাড়িয়ে এবার ৮১ করা হতে পারে। এর মধ্যে বর্তমান সভাপতিম-লীর সদস্য ১৫ জন থেকে বাড়িয়ে ১৭ বা ১৯ করা হতে পারে। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের পদও তিনটি থেকে পাঁচটি করা হতে পারে। আর সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ ৭টি থেকে বাড়িয়ে এবার দশটি করা হতে পারে। নতুন সাংগঠনিক সম্পাদক দেয়া হতে পারে নতুন ঘোষিত ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা বিভাগে। এ ছাড়া সম্পাদকম-লী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংখ্যাও বাড়তে পারে। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার মনোভাব ও সম্মেলনে কাউন্সিলরদের সম্মতির ওপর।
দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানায়, এবারের সম্মেলনের পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে বেশ কিছু পদে আসতে পারেন অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতারা। দলের (আওয়ামী লীগ) সহযোগী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মধ্য থেকে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতারাই ওই সব নেতারা এবারের কাউন্সিলের মাধ্যমে মূল্যায়িত হবেন বলে জানা গেছে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মূল দলে পদায়নের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব তারুণ্যকে সামনে আনতে চায়। এছাড়া, বর্তমান সরকারের প্রাধাণ্য পাওয়া ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্বপ্নকে সম্পূর্ণ বাস্তবায়নেও এসব অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতারা ভূমিকা রাখবে বলে দলের হাইকমান্ড বিশ্বাস করে।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, তারুণ্য ও ডিজিটাল আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের দলের কমিটিতে আসার বিষয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি দাবি রয়েছে। জয় বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। দলের নেতাকর্মীরা চান তিনি (জয়) সরাসরি আওয়ামী লীগের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্বপালন করুন। তিনি নিজে এ ব্যাপারে আগ্রহী হলেও বিষয়টি অবশ্য তার মা দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছার উপরই নির্ভর করে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। সজীব ওয়াজেদ জয়ের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার ছেলে রেজোয়ান সিদ্দিক ববির কথাও দলের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। বর্তমানে ববি আওয়ামী লীগের কোনো পদে না থাকলেও বিগত ৪/৫ বছর যাবত দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই তার বিষয়েও সামনের সম্মেলনে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সূত্র জানায়।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ইনকিলাবকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় এ দেশের রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার বিষয়ে সারাদেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। দেশের ডিজিটাল প্রযুক্তি উন্নয়নে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষেরও এ ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে। তবে তিনি দলের কোনো পদে আসবে কিনা এখনই বলা যাচ্ছে না। দলের কাউন্সিলই তা নির্ধারণ করবে।
খালিদ মাহমুদ আরও বলেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতারাই তো ভবিষ্যৎ আওয়ামী লীগ নেতা হবে। এটাই তো স্বাভাবিক। তাদের অতীত সাংগঠনিক দক্ষতার বিচার করে দল তাদের মূল্যায়ণ করবে। কাউন্সিলে তরুণরা অনেকেই দায়িত্ব পাবে বলে আমার ধারণা।
এদিকে, অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের মধ্যে বর্তমান যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল হানিফ রয়েছেন ব্যাপক আলোচনায়। তিনি তার দায়িত্বে সব দিক দিয়ে সফল বলে দলীয় হাই কমান্ড মনে করে। তাই তিনি আরও বড় কোনো দায়িত্ব পেতে পারেন আসন্ন কাউন্সিলে। এছাড়া আরেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি ও তরুণ নেতাদের মধ্যে বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বাহাউদ্দিন নাসিম, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব সাইফুজ্জামান শিখর তাদের পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে উপযুক্ত পদ পাবেন বলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শোনা যায়। এছাড়া, সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে এনামুল হক শামীম, লিয়াকত শিকদার, বাহাদুর বেপারী আগামী কাউন্সিলে ‘চমক’ হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন।
জানা গেছে, এবারের জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তারুণ্যর পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নের দৃষ্টান্ত হিসেবে দলের কার্যনির্বাহী কমিটিতে নারী সদস্য সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে। বর্তমান কমিটিতে নারী সদস্যদের মধ্যে সভাপতি পদে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী ও এডভোকেট সাহারা খাতুন, যুগ্ম-সম্পাদক ডা: দীপু মনি, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা এবং সদস্য পদে রয়েছেন বেগম মন্নুজান সুফিয়ান ও সিমিন হোসেন রিমি। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সম্পাদকীয় এবং সদস্য পদের নারী নেতাদের মধ্য থেকে কাউকে কাউকে এবার আরও বড় পদে এবার পদোন্নতিও দেয়া হতে পারে। এসব নারী নেত্রী ছাড়াও বর্তমান মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমেরও উল্লেখযোগ্য পদে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া কমিটিতে নতুন করে আরও নারী সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। এক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে সংসদের হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, যুবমহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদিকা অধ্যাপিকা অপু উকিল, সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুন্নেসা মোশাররফসহ অনেকের নাম।
দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা এ ব্যাপারে বলেন, যদি আমাদের বিভাগগুলো বাড়ে, সাংগঠনিক সম্পাদকও বাড়তে পারে। আবার নাও হতে পারে। একজন দুইটা বিভাগের দায়িত্বও পেতে পারেন। যেগুলো ছোট বিভাগ আছে সেগুলোর দুইটার দায়িত্ব একজন পালন করতে পারে। এর বাইরে কিছু নতুন পদ সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের আরপিও অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে ৩০ ভাগ নারী সদস্য থাকতে হবে। সে হিসেবে কিছু বাধ্যবাধকতা তো রয়েছেই। আমাদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী ক্ষমতায়নের ব্যাপারে খুবই ইতিবাচক। নারীর ক্ষমতায়নে ইতোপূর্বে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ছাড়া সম্প্রতি তিনি বলেছেন যে, আওয়ামী লীগের ডিশিসন বডিতে (কেন্দ্রীয় কমিটি) মহিলাদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। নেত্রী যখন এ কথা বলেছেন, তখন সেদিকে একটি সম্ভাবনা আছে। মহিলাদের সংখ্যা এবার কিছু বাড়বে। সব মিলিয়ে এবার হয়ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সংখ্যা বাড়বে। কারণ আমাদের জনসংখ্যাও বেড়ে গেছে। দলের সমর্থকও বেড়েছে। সে কারণে কেন্দ্রীয় কমিটি বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কমিটিতে আসছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ