Inqilab Logo

শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ০৫ রজব ১৪৪৪ হিজিরী
শিরোনাম

আসন্ন শীতে ব্যাপক লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে পারে ফ্রান্স

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৩ ডিসেম্বর, ২০২২, ১১:৪২ এএম

ফ্রান্সের সবগুলো পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এই মুহূর্তে কার্যকর অবস্থায় নেই। তাই ঠাণ্ডা আবহাওয়া ও তার জেরে বিদ্যুৎ চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেলে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা কঠিন চাপের মধ্যে পড়বে; ফলে চলতি শীতেই একের পর এক লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে হতে পারে ফ্রান্সের জনগণকে।

দেশটির বেতার সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ইনফো রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহকারী নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরটিইর প্রধান নির্বাহী জেভিয়ার পিচাকজিক।
ফ্রান্স তার মোট বিদ্যুতের প্রায় ৭০ শতাংশ ৫৬টি চুল্লির একটি পারমাণবিক বহর থেকে উৎপাদন করে। সেসব চুল্লির ২২টিই এখন বন্ধ আছে।
‘রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চুল্লিগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল। শিগগিরই সেসব চুল্লির সবগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আগামী মাসে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে,’ সাক্ষাৎকারে বলেন পিচাকজিগ।
বিদ্যুৎ উৎপাদানের জন্য ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় ফ্রান্স রুশ গ্যাসের ওপর কম নির্ভরশীল। দেশটির বিদ্যুতের চাহিদার অধিকাংশই পূরণ করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
কিন্তু প্রায় অর্ধেক পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ থাকায় দেশটিকে এখন বাধ্য হয়ে প্রতিবেশীদের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
সেখানেও অবশ্য সমস্যা আছে। কারণ, রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে আসায় এমনিতেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো চাপে আছে; ফলে সার্বিকভাবে এক জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে ফ্রান্স।
শীতে লোডশেডিং সংক্রান্ত আসন্ন এই সংকট এড়াতে ফ্রান্সের সরকার এরই মধ্যে একটি বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। সেখানে সম্ভাব্য লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিতরণের ক্ষেত্রে কাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সে বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনাও দিয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘নির্ধারিত কোনো লোডশেডিং-ই একইসময়ে ৪ লাখের বেশি মানুষকে দুর্ভোগে ফেলবে না।’
আরও বলা হয়েছে, লোডশেডিং হলে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টার পিক আওয়ারে হতে পারবে, এবং কোনো ক্রমেই দুই ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা অবশ্য এর আগে আশ্বস্ত করেছিলেন- লোডশেডিং পুরো দেশে নয়, গ্রিডের আওতাধীন সামান্য অংশে হবে; তারপরও ঘরবাড়ি গরম রাখার চাহিদা যখন চূড়ায় থাকবে, তখন লাখ লাখ লোককে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হতে পারে বলে এখন আশঙ্কা করছেন তারা।
ফ্রান্সের একাধিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের ঘাটতি কিছু পরিষেবার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে; এসব পরিষেবার মধ্যে সবার আগে রয়েছে স্কুল ও ট্রেন চলাচল।
সরকারি কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, সরবরাহ ঘাটতির দিনগুলোতে স্কুল বন্ধ এবং ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বাতিল হতে পারে। সূত্র : আরটি

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফ্রান্স


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ