Inqilab Logo

রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫ মাঘ ১৪২৯, ০৬ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

৭ ডিসেম্বর কক্সবাজার আসছেন প্রধানমন্ত্রী

সফর ঘিরে দল গুচাচ্ছে আওয়ামী লীগ

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩ ডিসেম্বর, ২০২২, ৫:০৯ পিএম

৭ই ডিসেম্বর বুধবার কক্সবাজার আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ওইদিন কক্সবাজার সাগর তীরে অবস্থিত শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম মাঠে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। এই জনসভা সফল করতে

ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেছেন মাঠ পর্যায়ের সর্স্তরের নেতা-কর্মী।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কক্সবাজার সাংগঠনিক সফরকে কেন্দ্রকরে দল গুছানোর কাজও সেরে নিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাত্র ৫দিন পর ১৩ই ডিসেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ কক্সবাজার জেলা শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ ১১টি সাংগঠনিক উপজেলা নিয়ে গঠিত। জানা গেছে, ওই ১১টি উপজেলার মধ্যে ১০টি সাংগঠনিক উপজেলার সম্মেলন ও কাউন্সিল ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। একটি মাত্র উপজেলা রামু’র সম্মেলন ও কাউন্সিল এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে জেলা সম্মেলনের পূর্বে রামু উপজেলার সম্মেলন কিংবা কাউন্সিল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এ উপজেলায় বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে অন্তবর্তীকালীন একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হতে পারে জেলা সম্মেলনের আগেই।

ইতোমধ্যে যে ১০টি সাংগঠনিক উপজেলায় সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে সেগুলো হলো-কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, চকরিয়া, মাতামুহুরী, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফ।
প্রায় ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি। ওইদিন সভাপতি পদে এড. সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক পদে(বর্তমান মেয়র) মুজিবুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। সম্মেলনে প্রায় সাড়ে ৮ মাস পর ১৩ই অক্টোবর ঘোষণা করা হয়েছিলো ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি।
বিগত সম্মেলনের পর থেকে এ পর্যন্ত সংগঠনে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। গত কাউন্সিলে মনোনীত সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফাকে ২০২০ সালের ২৫শে নভেম্বর জেলা কমিটির সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক করা হয়। তার শূণ্যপদে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় তালিকার নিচে থাকা সহ-সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীকে। তখন দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ছিলো সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানকে ও (মেয়র, কক্সবাজার পৌরসভা) দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে যে কোনো একজনকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তা আর কার্যকর হয়নি। মুজিবুর রহমান বর্তমানে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
১৩ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলের নেতৃত্বে কারা আসছেন, দলের প্রধান শেখ হাসিনা কাদের উপর দলের দায়িত্বভার তুলে দেবেন, কাদের কপালে জুটবে জেলা আওয়ামী লীগের মূল নেতৃত্ব, বর্তমান নেতৃত্বই কি রেখে দিবেন নাকি নতুন মুখ দেখা যাবে এমন নানারকম প্রশ্ন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ জেলার রাজনীতি সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে।

তবে সকলেই একটি কথা একই সুরে বলছেন। তা হলো কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের কান্ডারী কে হবেন তা নির্ভর করছে একমাত্র দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের উপর।
কুতুবদিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা
মুহাম্মদ ইয়াহিয়া খান কুতুবী বলেন, ৯০ 'র দশকের ত্যাগী ছাত্র নেতারা এখন নানা কারণে অবহেলিত। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্বাগত জানান।

তারপরও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার জন্য অনেকেই সাধ্যমতো দৌঁড়ঝাঁপ দিচ্ছেন, চেষ্টা তদবির করছেন। কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে ও নিয়মিত দেখা সাক্ষাৎ করছেন কেউ কেউ।
দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে সভাপতি পদে আপাতত পাঁচজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন- জেলা কমিটির সাবেক আহবায়ক মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান এবং চকরিয়া উপজেলা সভাপতি জাফর আলম এমপি। কারো কারো মুখে প্রফেসর ড. আনসারুল করিম এর নাম ও সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে। তবে তার ঘনিষ্ঠ ও পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে তিনি (আনসারুল করিম) দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন। সেক্ষেত্রে সভাপতি পদে মোস্তাক আহমদ চৌধুরী ও মুজিবুর রহমান (মেয়র) এগিয়ে থাকবেন।
তবে কক্সবাজার পৌরসভা বাস্তবায়নাধীন পানি শোধনাগার প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিতে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে মুজিবুর রহমানের নাম চলে আসায় কিছুটা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সভাপতি পদে মোস্তাক আহমদ চৌধুরী দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তিনি তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন দু’মেয়াদে। সদ্য সমাপ্ত জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি হেরে যান স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে। তাই তার বয়স বিবেচনায় তাকে সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বয়স বর্তমানে ৭৯ বছর হলে ও তিনি যথেষ্ট স্বাস্থ্যবান এবং কর্মঠ। নেতাকর্মীদের ধারণা তিনি দল ভালোভাবে চালাতে পারবেন। তার অভিজ্ঞতা ব্যাপক। তাকে সকলেই সমীহ ও সম্মান ও করেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজনের নাম সামনে এসেছে। তারা হলেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রনজিত দাশ ও আশেক উল্লাহ রফিক এমপি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাশেদুল হক রাশেদ। ওই তিনজনের মধ্যে নানাবিধ কারণ এবং হিসেব-নিকাশে রনজিত দাশ অনেকটা এগিয়ে আছেন বলে অনেকে মনে করেন।
তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ব্যাপক। তিনি ৮ম শ্রেণী থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি স্কুল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি থেকে জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক, আহবায়ক ও জাতীয় পরিষদের সদস্য, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ চার দশক সক্রিয়ভাবে সংগঠনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ক্রীড়া, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নানা সংগঠনের ও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এরশাদ স্বৈরাচার ও জামায়াত-বিএনপি সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত সকল আন্দোলনে তিনি অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন।

সম্মেলন সম্পন্ন হওয়া ১১টি উপজেলার মধ্যে ৮টি উপজেলার নির্বাচিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও তাকে সাধারণ সম্পাদক পদে চান বলে জানাগেছে।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, সংসদ সদস্য জাফর আলম ও মাশেদুল হক রাশেদ আলাদা একটি প্যানেল করে নেতৃত্বে আসতে চাইছেন। যেহেতু জেলা সম্মেলন ও কাউন্সিলে নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটাভুটি হবে না হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। অনেকটা নিশ্চিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হবেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার পছন্দে। এক্ষেত্রে কারো হাত নেই। তাই ভরসা শেখ হাসিনাই।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: প্রধানমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ