Inqilab Logo

রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫ মাঘ ১৪২৯, ০৬ রজব ১৪৪৪ হিজিরী
শিরোনাম

১০ ডিসেম্বর বিপুল জমায়েতে শান্তিপূর্ণ ও সফল গণসমাবেশ হবে: মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ৩:২৯ পিএম | আপডেট : ৪:৫৮ পিএম, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২

আগামী ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিপুল জমায়েতের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও সফল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি’র উদ্যোগে ঢাকা বিভাগীয় মহা সমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকার এক সর্বনাশা প্রতিশোধস্পৃহায় মেতে উঠেছে। সমাবেশকে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার জন্য একের পর এক চক্রান্তজাল বিস্তার করে চলেছে। আওয়ামী সরকারের হাতে কখনোই গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকেনি। এদের ইতিহাস ঐতিহ্যে রয়েছে গণতন্ত্রের বিনাশ ঘটিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনের উত্থান। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ। রোববার (০৪ ডিসেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ১০ ডিসেম্বর বিএনপি’র গণ সমাবেশকে বানচাল করার জন্য সরকারের নানামূখী দমননীতি এখন সর্বসাধারণের নিকট পরিস্কার হয়ে গেছে। গতকাল বিএনপি’র চেয়ারপার্সন ‘গণতন্ত্রের মাতা’ সর্বাধিক জনপ্রিয় বেগম খালেদা জিয়ার বাসার সামনে সেই বালির ট্রাকের কায়দায় চেকপোষ্ট- বেরিকেড দিয়ে পুলিশ অবরোধ করে রেখেছে। এটি দেশনেত্রীর উপর নিপীড়নের আরেকটি নতুন মাত্রা। আমি সরকারের এহেন ঘৃণ্য আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একজন জনপ্রিয় নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় ফরমায়েসি রায়ে কারারুদ্ধ রেখে চিকিৎসার সকল পথরুদ্ধ করে প্রতিনিয়ত প্রান নাশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী সরকার। তাঁর বাসভবন অবরোধ করে এবং জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। আমি এই মূহুর্তে দেশনেত্রীর বাড়ির সামনে থেকে চেকপোষ্ট ও বেরিকেড তুলে নেওয়ার জোর দাবী জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, গতকাল রাজশাহীর গণসমাবেশ শেষে ঢাকায় আসার পথে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দীন টুকু ও সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়নকে আমিন বাজার থেকে ডিবি পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে ঢাকার দারুস সালাম থানায় নিয়ে যায়। এটি ঢাকার সমাবেশের আগে সরকারের চলমান দমন-পীড়নের এক জ¦লন্ত দৃষ্টান্ত। আমি অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তি দাবী করছি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারি চক্রান্ত থেমে নেই। নয়াপল্টন এলাকাকে অস্থিতীশীল করার জন্য সরকারের এজেন্সিগুলো নানা ধরনের নাশকতা ঘটাতে অবর্তীণ হয়েছে। গতকাল এই কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিষ্ফোরণ করা হয়। এই বিষ্ফোরণের পর পুলিশ আকষ্মিকভাবে নেতাকর্মীদেরকে পাইকারী হারে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, গত পরশুদিন মতিঝিলে পরিত্যাক্ত বিআরটিসির দোতালা বাসে আগুন দিয়ে বিএনপি’র ওপর দায় চাপাতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা খেয়ে চুপসে গেছেন ওবায়দুল কাদের সাহেব। অথচ তিনি বিএনপিকে দায়ী করে তারস্বরে নাশকতার কথা বলে যাচ্ছেন।
ক্স বিএনপি’র গণসমাবেশের কর্মসূচী জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য প্রায় মাসখানেক আগে ঢাকা জেলা আদালতে জঙ্গী নাটকের অবতারনা করা হয়। বেশ কিছুদিন চুপ থেকে এখন সেই জঙ্গী ধরার নামে মেস, আবাসিক হোটেল ও বাসাবাড়ীতে পুলিশ ব্লক রেইড দিচ্ছে। পুলিশের এই হানা মূলত বিএনপি’র নেতাকর্মীদেরকে পাইকারী হারে গ্রেফতার, হয়রানীর ও আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য। আমি এই ঘৃণ্য চক্রান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
পুরনো নাটক আবার করা হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০১৩-২০১৫’র সালের পুরনো নাটকেরই পূণরাবৃত্তি করা হচ্ছে এই গণ গ্রেফতার এবং নাশকতার ঘটনা ঘটিয়ে। চলছে মেস ও আবাসিক হোটেলে জঙ্গীদের উপস্থিতি সন্দেহে পুলিশের ঘেরাও অভিযান। আমরা যার নমুনা দেখলাম বনানীতে। এদিকে পুলিশের আইজি বলছেন, ১০ই ডিসেম্বরের গণসমাবেশকে ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। তাহলে কেন এই নাটক অভিযান ? সরকার এক সুদূরপ্রসারী অশুভ মাস্টারপ্লানের পথে হাঁটছে।
তিনি বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে অশান্তি সৃষ্টি করা হলেও, ইতোমধ্যে বিএনপি কেন্দ্রঘোষিত গণ সমাবেশ কর্মসূচী ৯টি বিভাগীয় সদরে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ আগামী ১০ই ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশ বানচাল করার জন্য অবৈধ সরকার যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে। মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতাদের কথাবার্তায় ভারসাম্যহীনতার প্রভাব সুস্পষ্ট। ইতোমধ্যেই জনগণের নিকট সুষ্পষ্ট হয়েছে যে, সরকার একটি নাশকতামূলক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। কিন্তু সরকারের এতে কোন লাভ হবে না। জনগণ দিবালোকের মতোই সবকিছু অবলোকন করছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি টেনে ধরতে ১০ই ডিসেম্বর পল্টনে বিএনপি’র গণসমাবেশকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের পিছনে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে অবৈধ সরকার। অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশেও পুলিশ গ্রেফতার ও হয়রানী করেছে, পথে পথে বাধা দিয়েছে, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সহিংস রক্তাক্ত আক্রমণ চালিয়েছে, তারপরেও জনতার স্রোতকে ঠেকাতে পারেনি।
তিনি বলেন, সকল বাধা বিপত্তিকে প্রতিহত করে মানুষ নদী সাঁতরে ভেলায় ভেসে এসেছে। খালি পেটে নগ্ন পায়ে মাইলের পর মাইল পাঁয়ে হেঁটে মানুষ এসেছে। নৌকা ও ট্রলারে দীর্ঘ নদী পথ অতিক্রম করে সমাবেশ স্থলে এসেছে। মাইলের পর মাইল সাইকেল চালিয়ে এসেছে। সমাবেশ শুরু হওয়ার ২/৩ দিন আগে থেকে মানুষ সমাবেশস্থলের আশেপাশে তাঁবু খাটিয়ে রাত্রি যাপন করেছে। মানুষের সম্মিলিত ইচ্ছার কাছে স্বৈরাচারি ইচ্ছা সবসময় পরাজিত হয়েছে। আগামী ১০ই ডিসেম্বরের সমাবেশও অভূতপূর্ব, শান্তিপূর্ণ ও বিপুল সমাগমে পরিপূর্ণ হবে ইনশাল্লাহ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল

২৭ জানুয়ারি, ২০২৩

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ