Inqilab Logo

শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ০৫ রজব ১৪৪৪ হিজিরী

ঢাকার প্রবেশ পথে পুলিশের তল্লাশি

সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ ডিসেম্বর, ২০২২, ১২:০৩ এএম

ঢাকার চারপাশের প্রবেশ পথগুলোতে কড়া নিরাপত্তায় রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একইভাবে কমলাপুর রেল স্টেশনে সাধারণ যাত্রীদের তল্লাশি করা হচ্ছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে সব প্রবেশমুখ ও কমলাপুর রেলস্টেশনে তল্লাশির সময় কড়াকড়িতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রাবাড়ী, নারায়রণগঞ্জ, গাবতলী, টঙ্গী সেতুর সামনে গতকাল দুপুর ১২টার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাস্তায় ব্যারিকেট নিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে। এ সময় মোটরসাইকেল, যাত্রীবাহি বাস ও প্রাইভেটকারসহ সবধরনের যানবাহন থেকে যাত্রীদের নামিয়ে তল্লাশির করা হয়। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশের কথা কাটাকাটির ঘটনাও ঘটে।

ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই পুলিশ সক্রিয়ভাবে দাািয়ত্ব পালন করছে। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই। কাউকে হয়রানি করা পুলিশের উদ্দেশ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে টঙ্গী সেতু পার হলেই ঢাকার আবদুল্লাপুর। গাজীপুর, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন জেলাসহ আশপাশের এলাকা থেকে ঢাকা প্রবেশের এটিই একমাত্র রাস্তা। এর মাঝে পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রমটি শুরু হয়েছে ঠিক টঙ্গী সেতুর মাথায়। ফলে ঢাকায় প্রবেশ করতে হলে তল্লাশি চৌকিটি উপেক্ষার সুযোগ নেই। গতকাল বুধবার বেলা ১টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে শুরু হয়েছে এ কার্যক্রম। এতে হয়রানির অভিযোগ করেছেন তল্লাশির শিকার যাত্রী ও পথচারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, টঙ্গী সেতুর সামনে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য। কোনো যানবাহন বিশেষ করে মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা কোনো পথচারী বড় কোনো ব্যাগ-বস্তা নিয়ে আসতে দেখলেই তাদের গতিরোধ করছেন। এ সময় দেহ তল্লাশি থেকে শুরু করে তাদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন ও ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদে কারও কথায় কোনো প্রকার সন্দেহ হলেই তাদের পথ আটকে দিচ্ছেন।

মো. ইমন নামের একজন মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন রাজধানীর ইস্কাটন রোড এলাকায়। টঙ্গী সেতুর কাছে এলে তার গতিরোধ করে পুলিশ। প্রথমে তার দেহ তল্লাশি ও মুঠোফোন যাচাই করা হয়। এরই একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগে ড্রোন ও ড্রোন সংশ্লিষ্ট কিছু যন্ত্রপাতি পায় পুলিশ। এ নিয়ে তাদের সন্দেহ হয়। বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরই একপর্যায়ে তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় টঙ্গী পূর্ব থানায়।

থানায় যাওয়ার আগে কথা হলে মো. ইমন বলেন, তিনি ভিডিও তৈরির কাজ করেন। একটি ভিডিওর কাজে যাচ্ছিলেন রাজধানীর ইস্কাটন রোড এলাকায়। কিন্তু এর মাঝেই পুলিশ তার পথ আটকে ধরে। তিনি বারবার বলার পরও পুলিশ কোনো কথা না শুনে তাকে থানায় নিয়ে যাচ্ছে। ইমনের অভিযোগ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে এটা পুলিশের হয়রানি। এটা নিয়ে তিনি চরমভাবে ব্যথিত।

টঙ্গী পূর্ব থানার এসআই মো. মিলন বলেন, কেউ যেন নাশকতা তৈরি করতে না পারে বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা দায়িত্ব পালন করছি।
মহাসড়কে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট : গতকাল দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলরত কারো আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলেই তাকে তল্লাশি করছে পুলিশ। এছাড়া প্রাইভেটকার, সিনএনজি, রিকশাসহ দূরপাল্লার বাসগুলোকে থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। দূর থেকে আসা যাত্রীদের করা হচ্ছে নানা প্রশ্ন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, আমাদের কাছে গোপন তথ্য আছে যেকোনো সময় যে কেউ মূলত মহাসড়কে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই এসকল গাড়ি ভাঙচুর বা গাড়িতে আগুন দেওয়ার মতো নাশকতা যেন কেউ না ঘটাতে পারে, সেজন্য আমরা চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করছি।
একই ধরনের তল্লাশির শিকার হতে হয়েছে গাবতলি এলাকা দিয়ে ঢাকায় প্রবেশকারী সাধারণ মানুষকে। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। প্রাইভেটকার, সিনএনজি, রিকশাসহ দূরপাল্লার বাসগুলোকে থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।

কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের তল্লাশি-জিজ্ঞাসাবাদ : কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বের হওয়ার গেটের সামনে তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে পুলিশ। সুমন ইসলাম নামে এক জানান, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেটে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যরা তরুণ ও যুবকদের পরিচয় এবং ঢাকায় আসার কারণ জানতে চাচ্ছেন। কোনো কোনো পুলিশ সদস্য জিজ্ঞাসা করেছেন, আমি বিএনপির মহাসমাবেশ উপলক্ষে ঢাকায় এসেছি কি-না? যারা উপযুক্ত উত্তর দিচ্ছেন তাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। আর যাদের সন্দেহ হচ্ছে তাদের নাম-ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর রেখে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

দিনাজপুর থেকে পঞ্চগড় দ্রুতযান এক্সপ্রেসে কমলাপুরে নেমে বের হওয়ার পথে রেল পুলিশ ও শাহজাহানপুর থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন আলী আসগর নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ঢাকায় ভাতিজার বিয়ে হচ্ছে। সেই বিয়েতে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছি। কমলাপুরে এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন এর আগে কখনো হতে হয়নি। আমার লাগেজ-ব্যাগ চেক করা হয়েছে। আমার নাম-পরিচয় ও ঢাকায় আসার কারণ জানতে চাওয়া হয়। পরে পুলিশ সদস্যদের সবকিছু বিস্তারিত জানিয়ে চেকপোস্ট পার হই।

এ বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) ওসি ফেরদৌস আহমেদ বিশ্বাস বলেন, বিএনপির সমাবেশ ঘিরে নয় বরং কমলাপুরে নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে তল্লাশি, চেকপোস্ট পরিচালনা ও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন