Inqilab Logo

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

আধুনিক পদ্ধতিতে ভিন্ন স্বাদের সবজি উৎপাদনে কৃষকের সাফল্য

প্রকাশের সময় : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ঈশ্বরদী (পাবনা) উপজেলা সংবাদদাতা : ঈশ্বরদী উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের মা-মণি কৃষি খামারের স্বত্বাধিকারী রাষ্ট্রপতি ব্রোঞ্জ পদক, কৃষি ক্ষেত্রে অবদান, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু জাতীয় রোপ্য ও স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত সফল চাষি আলহাজ শাহজাহান আলী পেঁপে বাদশা এবার পেঁপে নয়, আধুনিক ও নতুন সবজি চাষ করে সফল এবং আলোচিত হয়েছেন। তিনি তার খামারে ব্রোকলী, চাইনিজ ক্যাবেজ, লাল বাঁধা কপি, রঙ্গিন লেটুস, সবুজ লেটুস ও বাঁধা কপি লেটুস চাষ করেছেন। গতানুগতিক ফল বা সবজি নয়, নতুন কিছু সৃষ্টিতে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখেন কৃষক বাদশা। পেঁপে চাষ করে সফলতার কৃতিত্বের জন্য রাষ্ট্রপতি ব্রোঞ্জ পদক এবং বঙ্গবন্ধু জাতীয় রোপ্য ও স্বর্ণ পদকে ভূষিত হয়েছেন ঈশ্বরদীর সফল চাষি আলহাজ শাহজাহান আলী পেঁপে বাদশা। সেই থেকে এলাকার মানুষরা তাকে পেঁপে বাদশা হিসেবে চেনেন এবং জানেন। পেঁপে নয় ব্রোকলী, চাইনিজ ক্যাবেজ, লাল বাঁধা কপি, রঙ্গিন লেটুস, সবুজ লেটুস ও বাঁধা কপি লেটুস চাষ করে এবার সবাইকে অবাক করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। বাণিজ্যিকভাবে ব্রোকলী, চাইনিজ ক্যাবেজ, লাল বাঁধা কপি, রঙ্গিন লেটুস, সবুজ লেটুস ও বাঁধা কপি লেটুস চাষ করে যে লাভবান হওয়া যায় সেটাই প্রমাণ করেছেন আধুনিক চাষি বাদশা। মা-মণি কৃষি খামারে উৎপাদিত ব্রোকলী, চাইনিজ ক্যাবেজ, লাল বাঁধা কপি, রঙ্গিন লেটুস, সবুজ লেটুস ও বাঁধা কপি লেটুস রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত দোকানে বিক্রি শুরু হয়েছে দামও পাচ্ছেন অন্য সবজির চাইতে বেশ ভালো। সরেজমিনে বাদশার মা-মণি কৃষি খামার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ব্রোকলী, চাইনিজ ক্যাবেজ, লাল বাঁধা কপি, রঙ্গিন লেটুস, সবুজ লেটুস ও বাঁধা কপি লেটুস প্রচুর পরিমাণে ধরে আছে। মা-মণি কৃষি খামারের শ্রমিকরা প্রতিদিন বিক্রি যোগ্য ব্রোকলী, চাইনিজ ক্যাবেজ, লাল বাঁধা কপি, রঙ্গিন লেটুস, সবুজ লেটুস ও বাঁধা কপি লেটুস উত্তোলন করছেন। জানা গেছে, উত্তর বঙ্গের প্রবেশদ্বার ঈশ্বরদী কৃষি পণ্য উৎপাদনে বিখ্যাত অন্যতম এলাকা হিসেবে খ্যাত স্থান। ঈশ্বরদীতে গতানুগতিক বিভিন্ন ধরনের ফল, সবজি ও ফসলের ব্যাপক চাষাবাদ থাকলেও বিশ্বমানের আধুনিক সবজি চাষে এটিই প্রথম খামার। আশপাশের বিভিন্ন জেলায় যোগাযোগ করেও আধুনিক সবজি বাগানের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। একান্ত আলাপচারিতায় রাষ্ট্রপ্রতি ব্রোঞ্জ পদক এবং বঙ্গবন্ধু জাতীয় রোপ্য ও স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত সফল চাষি আলহাজ শাহজাহান আলী পেঁপে বাদশা বলেন, আমাদের দেশের কৃষকরা গতানুগতিকভাবে সবজি চাষ করে থাকেন। দেশিয় সবজি চাষ করে সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না। এদেশে বিদেশী সবজির প্রচুর পরিমাণে চাহিদা রয়েছে, নতুন কিছু সৃষ্টিতে আমি সব সময় আগ্রহী তাই এবার আমার খামারে ব্রোকলী, চাইনিজ ক্যাবেজ, লাল বাঁধা কপি, রঙ্গিন লেটুস, সবুজ লেটুস ও বাঁধা কপি লেটুস চাষ করেছি। বাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে, মূল্যও অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এই সবজি নিয়মিত খেলে কারও কখনো ক্যান্সার হবে না, এটা ক্যান্সার প্রতিরোধক সবজি। তিনি শুধু একজন কৃষকই নন, গবেষক হিসেবেও নিরলস কাজ করে চলেছেন বলেও এ কথা জানান। শুধু পেঁপে নয়, আখ, পেয়ারা, আম, লিচু, কুল, বেল, ড্রাগনসহ ৮০ রকম ফল ও ফসলের প্রায় দেড়শ বিঘা জমিতে মা-মণি নামের বিশাল কৃষি খামার রয়েছে। এবিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. হাসানুল কবীর কামালী বলেন, সরেজমিনে দেখা গেছে, রাষ্ট্রপতি ব্রোঞ্জ পদক এবং বঙ্গবন্ধু জাতীয় রোপ্য ও স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী পেঁপে বাদশা আধুনিক মানের বিদেশী সবজি চাষ করে যে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন তা সত্যিই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষকরা গতানুগতিক সবজি চাষ করে থাকেন। কৃষক বাদশা তাদের মধ্যে একেবারেই ব্যতিক্রমী, তিনি আধুনিক ও নতুন কিছু সৃষ্টিতে বিশ্বাসী। বর্তমানে বাজারে দেশি সবজির মূল্য একেবারে কম। বিদেশী ব্রোকলী, চাইনিজ ক্যাবেজ, লাল বাঁধা কপি, রঙ্গিন লেটুস, সবুজ লেটুস ও বাঁধা কপি লেটুস চাষ করছেন বাজারে এর চাহিতা অনেক বেশি তাই আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছেন কৃষক বাদশা। কৃষক বাদশার খামারে প্রচুর পরিমাণে আধুনিক মানের সবজি রয়েছে যা দেখে নয়ন জুড়িয়ে যায়। আমি মনে করি আধুনিক কৃষিতে এক ধাপ এগিয়ে ঈশ্বরদীর কৃষক বাদশা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আধুনিক পদ্ধতিতে ভিন্ন স্বাদের সবজি উৎপাদনে কৃষকের সাফল্য
আরও পড়ুন