Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌
শিরোনাম

আরো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা

প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্তে¡ও নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও তার পরীক্ষা চালানো অব্যাহত থাকবে বলে হুশিয়ার করেছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন দেহকান। তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অজুহাতে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার অর্থ হচ্ছে তেহরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রæতার নীতি শেষ হয়নি। তিনি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ইরানের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা ধ্বংসের ব্যর্থ চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন। হোসেইন দেহকান জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব প্রযুক্তি ও উপাদানের ওপর নির্ভরশীল এবং সেখানে কাজ করছেন দেশের প্রতিরক্ষা খাতের বিশেষজ্ঞরা। সে কারণে ইরানের কয়েকজন ব্যক্তি ও কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তাতে ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের কোনো ক্ষতি হবে না, তা আমরা নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে দেখিয়ে দেব। এছাড়াও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ইরানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ অভিহিত করেছে ইরান।
গত সোমবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন জাবেরি আনসারি এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কোনো আইনি ও নৈতিক বৈধতা নেই। প্রতি বছর এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের কাছে শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
এসব অস্ত্র ফিলিস্তিন, লেবানন ও সর্ব সম্প্রতি ইয়েমেনের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে এসব অস্ত্র বিক্রির কারণেই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বৈধতা নেই বলে দাবি করেছে ইরান। সাম্প্রতিক এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সূত্র ধরে গত রোববার ইরানের কয়েকটি কোম্পানি ও ব্যক্তির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই নিষেধাজ্ঞায় ইরানের ১১ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যাংককে লেনদেন না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে, পরমাণু চুক্তির আওতায় বন্দি বিনিময়ও করেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। একসঙ্গে চার ইরানি-আমেরিকান ও আলাদাভাবে অপর একজন মার্কিনিকে মুক্তি দেয় ইরান। এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আটক সাত ইরানিকে মুক্তি দেয়া হয়। ডিসেম্বরে এই বন্দি বিনিময় নিয়ে আলোচনা চলার কারণে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকাÐে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে সময় নেয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, মুক্তি পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বহনকারী বিমানটি ইরান ছাড়ার পরপরই নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। অক্টোবরে ইরান সুনির্দিষ্টভাবে-নিয়ন্ত্রিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। এই পরীক্ষায় দেশটির ওপর জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন হয়।
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের সই হওয়া ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির আওতায় শনিবার থেকে দেশটির উপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর গত রোববার নতুন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র বাস্তবায়নের বিষয়টি তারা কঠোরভাবে নজরদারি করবেন। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি, এটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয় হয়েই থাকবে বলে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস ও আর্থিক গোয়েন্দা সংক্রান্ত আন্ডার-সেক্রেটারি অ্যাডাম জে জুবিন। রয়টার্স, বিবিসি, আইআরআইবি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ