Inqilab Logo

শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯, ০২ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের স্পন্সর ফ্রেশ

প্রকাশের সময় : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা : গত বছরের মে মাসে বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘টপ অব মাইন্ড’ এর মাধ্যমে ৪১ কোটি ৪১ লাখ টাকায় ২ বছরের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টীম স্পন্সরশিপ স্বত্ত¡ কিনে নিয়েছে মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান রবি। তবে সাহারা যেখানে এফটিপির সব দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ এবং টুর্নামেন্ট ছাড়াও আইসিসি’র ইভেন্টগুলোতে পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টীম স্পন্সরশিপ, সেখানে রবি’র সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে আইসিসি’র টুর্নামেন্টগুলো ছিল টীম স্পন্সরশিপের বাইরে। সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে বিসিবি। ভারতে আসন্ন টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টীম স্পন্সরশিপ ইতোমধ্যে বিক্রি করেছে বিসিবি ভোক্তাপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রæপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পণ্য ‘ফ্রেশ’ এর কাছে। বিস্ময়কর হলেও সত্য, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ইমেজ বৃদ্ধি পাওয়ায় টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে টীম স্পন্সরশিপ বিক্রি থেকে বিসিবি’র অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা! একটি মাত্র আসরে টীম স্পন্সরশিপ বিক্রি থেকে আয়ে এটাই রেকর্ড। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বেক্সিমকোর কাছে টীম স্পন্সরশিপ বিক্রি থেকে আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি টাকা, সেখানে টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে ফ্রেশ এর স্পন্সরমানির পরিমাণ ৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা! আনুষ্ঠানিক টীম স্পন্সরশিপ ঘোষণার আগেই অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য।
২ বছরের জন্য টীম স্পন্সরশিপ স্বত্ত¡ পাওয়া রবির ও নাকি আগ্রহ ছিল টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের টীম স্পন্সরশিপে। তবে তাদের আর্থিক প্রস্তবে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিসিবি। এমন তথ্যই দিয়েছেন বিসিবি’র সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজনÑ ‘যেহেতু রবি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের চলমান টীম স্পন্সর, তাই আমরা টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে তাদেরকেই টীম স্পন্সর হিসেবে অগ্রাধিকার দিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের আর্থিক প্রস্তাবের পরিমাণ সন্তোষজনক মনে হয়নি বলেই অন্য প্রতিষ্ঠানের আগ্রহকে বিবেচনা করতে হলো।’
তবে যে প্রক্রিয়ায় টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপের টীম স্পনন্সরশিপ স্বত্ত¡ বিক্রি করেছে বিসিবি, সেই প্রক্রিয়াটা কিন্তু পরিচ্ছন্ন নয়। টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকপে বাংলাদেশ দলের টীম স্পন্সরশিপ স্বত্ত¡ বিক্রির জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহŸান করে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানসমুহের মধ্যে সীলগালা খামে সর্বোচ্চ দরের প্রস্তাবটা দেখতে পারতো বিসিবি। তবে সেই প্রক্রিয়ায় যায়নি বিসিবি। মিডিয়াকেও টীম স্পন্সরশিপ বিক্রি নিয়ে ধোঁয়াশায় রেখেছে বিসিবি। যে বিজ্ঞাপনী সংস্থার মাধ্যমে ২ বছরের জন্য টীম স্পন্সরশিপ মোটা অংকে বিক্রি করেছে, সেই বিজ্ঞাপনী সংস্থা টপ অব মাইন্ডকেই টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপের টীম স্পন্সরশিপ বিক্রির মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানোয় উঠেছে প্রশ্ন। বিসিবি’র কমার্শিয়াল কমিটির চেয়ারম্যান কাজী ইনাম অবশ্য এই প্রক্রিয়ার পক্ষেই যুক্তি দেখাচ্ছেনÑ ‘যেহেতু টপ অব মাইন্ডের মেয়াদের মধ্যে আইসিসি’র টুর্নামেন্টটি পড়ছে, তাই তাদেরকেই টীম স্পন্সরশিপ বিক্রির এখতিয়ার দেয়া হয়েছে।’ তবে সময় স্বল্পতার কারণেই টীম স্পন্সরশিপ স্বত্ত¡ বিক্রিতে উন্মুক্ত দরপত্র আহŸান সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন বিসিবি’র প্রধান নির্বাহীÑ ‘বিকল্প পথ ছিল, চাইলে ওপেন বিড করা যেতো, তবে তার প্রক্রিয়ার জন্য যতোটা সময় হাতে থাকা দরকার, তা ছিল না বলেই টপ অব মাইন্ডকে টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের টীম স্পন্সরশিপ স্বত্ত¡ বিক্রির দায়িত্বটা দেয়া হলো। তাছাড়া ওদের অফারটাও বেশ ভাল।’
২ বছর মেয়াদে বিসিবি’র সাথে চুক্তিবদ্ধ রবি’র লোগো কিন্তু শুধু বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সিতেই বাধ্যতামূলক নয়, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এবং এজ গ্রæপের দলগুলোর জন্য ও তা প্রযোজ্য। তবে সদ্য সমাপ্ত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল এবং আসন্ন টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য যেখানে টীম স্পন্সর ফ্রেশ, সেখানে টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী দলের টীম স্পন্সর প্রসাধন পন্য কিউট। এশিয়া কাপে অবশ্য টীম স্পন্সরশিপ যথারীতি থাকছে রবি’র হাতেই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: টুয়েন্টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের স্পন্সর ফ্রেশ
আরও পড়ুন