Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌
শিরোনাম

ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষার খুঁটিনাটি

| প্রকাশের সময় : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

জাকারিয়া হাসান : ক্যাডেট কলেজে ভর্তিচ্ছু প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা রইল। ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির লিখিত পরীক্ষা ৬ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে ১১.৩০ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষার নৈর্ব্যক্তিক ও রচনামূলক উভয় ধরনের প্রশ্নই থাকে। পরীক্ষার পূর্ণমান ২০০ ও সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ইংরেজিতে ৭৫, গণিতে ৫৫, বাংলা ৪০ ও সাধারণ জ্ঞানে ৩০ নম্বর থাকবে।  ইতিমধ্যে তোমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। তবে এ পরীক্ষাযুদ্ধে টিকতে হলে শেষ সময়ের প্রস্তুতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর পরীক্ষার হলেও তোমাকে কৌশলী হতে হবে। এ বছর লিখিত পরীক্ষা হবে রচনামূলক, অবজেকটিভ ও কুইজ টাইপ। পূর্ণমান থাকবে ২০০ ও সময় থাকবে দুই ঘণ্টা ত্রিশ মিনিট। বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি ও পরামর্শ প্রতি বছরের মতো এবারও চারটি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা হবে। ইংরেজিতে ৮০, গণিতে ৬০, বাংলায় ৪০ এবং সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তায় ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। মোট নম্বর ২০০। বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের পাশাপাশি রচনামূলক প্রশ্নও থাকবে। ২০০ নম্বরের মধ্যে ৬০-৭০ নম্বর থাকবে রচনামূলক এবং সংক্ষিপ্ত বা অবজেকটিভ থাকবে ১৩০-১৪০টি। ক্যাডেট ভর্তি পরীক্ষায় টিকতে হলে প্রতিটি বিষয়েই ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে। ইংরেজি ক্যাডেট কলেজে নিশ্চিত ভর্তির জন্য ইংরেজির ওপর অনেক গুরুত্ব দিতে হবে। ইংরেজিতে এৎধসসধৎ-এর খুঁটিনাটি বিষয়ের পাশাপাশি ঋৎবব ঐধহফ ৎিরঃরহম এর ওপর জোর দিতে হবে। ক্যাডেট কলেজগুলোর ভর্তি পরীক্ষার ২০০ নম্বরের মধ্যে ৪০ শতাংশ বা ৮০ নম্বরই এককভাবে ইংরেজি বিষয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এ থেকে নিশ্চয়ই তোমরা ইংরেজির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারছ। ইংরেজি বিষয়ে ভালো ফল করতে না পারলে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির কোনো সুযোগই নেই। বিগত বছরগুলোর ইংরেজি বিষয়ের প্রশ্নপত্র পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঊহমষরংয ভড়ৎ ঃড়ফধু থেকে পাঁচটি ঙনলবপঃরাব ছঁবংঃরড়হ থাকে যার প্রত্যেকটির মান ১। চধৎঃং ড়ভ ঝঢ়ববপয থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন থাকে, যেমনÑ ওফবহঃরভুরহম ঢ়ধৎঃং ড়ভ ংঢ়ববপয, ঈযধহমরহম ঢ়ধৎঃং ড়ভ ংঢ়ববপয, অঢ়ঢ়ৎড়ঢ়ৎরধঃব ঢ়ৎবঢ়ড়ংরঃরড়হ, ঔড়রহরহম ংবহঃবহপবং নু ঁংরহম পড়হলঁহপঃরড়হ, উবমৎবব ড়ভ পড়সঢ়ধৎরংড়হ ইত্যাদি। তাই চধৎঃং ড়ভ ংঢ়ববপয এ যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করতে হবে।  যেহেতু চল্লিশটি ড়নলবপঃরাব/ংযড়ৎঃ য়ঁবংঃরড়হ থাকবে তাই এৎধসসধৎ-এর সব ওঃবস থেকেই প্রশ্ন করা হতে পারে। তোমরা শেষ সময়ে ঞৎধহংভড়ৎসধঃরড়হ, অৎঃরপষব, ঘঁসনবৎ, এবহফবৎ, ঝুহড়হুস, অহঃড়হুস, ঈড়ৎৎবপঃরড়হ, জরমযঃ ভড়ৎস ড়ভ ঠবৎনং -এর যে বিষয়গুলো এৎধসসধৎ-এ দেয়া হয়েছে তার প্রত্যেকটিকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দেবে। ঞৎধহংষধঃরড়হ থেকে প্রত্যেক বছরই পাঁচ নম্বর থাকে। ঞবহংব, ঝবহঃবহপব, চৎড়াবৎন ইত্যাদির ওপর ঞৎধহংষধঃরড়হ থাকবে। এ বছর  থেকে ইংরেজি বিষয়ে ঙনলবপঃরাব ঃুঢ়ব-এর পাশাপাশি ঊংংধু ঃুঢ়ব য়ঁবংঃরড়হ-এও যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হবে। ঈড়সঢ়ৎবযবহংরড়হ, ঝঃড়ৎু ৎিরঃরহম, চধৎধমৎধঢ়য, চযৎধংবং ধহফ ওফরড়সং ইত্যাদি বুঝে বুঝে পড়বে যাতে ঋৎবব যধহফ-এ লিখতে পার। ঝঃড়ৎু ৎিরঃরহম-এ ঙঁঃষরহব দেয়া থাকবে এবং ঙঁঃষরহব-কে অনুসরণ করে গল্প লিখতে হবে। গণিত ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপ্রাপ্ত বিষয় হচ্ছে গণিত। গণিতে মোট ৬০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। গণিতে সাধারণত দেখা যায়, ৫৫ শতাংশ পাটীগণিত, ২০ শতাংশ বীজগণিত ও ২৫ শতাংশ জ্যামিতি থেকে প্রশ্ন থাকে। অবজেকটিভ/কুইজ টাইপের পাশাপাশি রচনামূলক প্রশ্নও থাকবে। স্কুলের পরীক্ষায় গণিতের যে সমস্যাটি সমাধানের জন্য পূর্ণমান থাকত ৬/৮, ক্যাডেট ভর্তি পরীক্ষায় তার মান থাকবে ১/২। তাই খুব দ্রুত চিন্তা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। এ বছর উপপাদ্য/সম্পাদ্য থেকেও প্রশ্ন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাটীগণিতের ক্ষেত্রে ষষ্ঠ শ্রেণীর সব অধ্যায় থেকেই প্রশ্ন থাকে। তবে শতকরা ও সুদ কষা অধ্যায়কে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বীজগণিতে ষষ্ঠ  শ্রেণীর বইয়ের পাশাপাশি সপ্তম  শ্রেণীর বীজগণিতের যোগ-বিয়োগ, সরল ও প্রশ্নমালা ২.১ থেকে মাননির্ণয়সহ বর্গের সূত্রের অঙ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলা ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষার ৪০ নম্বর বাংলা বিষয়ের জন্য বরাদ্দ থাকবে। বাংলার জন্য নবম-দশম  শ্রেণীতে পাঠ্য শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রণীত ‘বাংলা ব্যাকরণ’ বইটি তোমাদের বেশ সহায়তা করবে। গদ্য ও পদ্য থেকে লেখক ও কবি পরিচিতি ভালোভাবে পড়বে। বিশেষ করে লেখকের বিখ্যাত বইয়ের নাম, জন্ম-মৃত্যু তারিখ, গল্প-কবিতার খুঁটিনাটি প্রশ্ন থাকে। কখনও আবার বিশেষ কোনো কবি সম্বন্ধে ৮-১০ লাইন লিখতে বলা হয়, যার নম্বর ৫-৭ হতে পারে। কবিতার পরবর্তী বা পূর্ববর্তী লাইন পূরণ করতে বলা হতে পারে। চারুপাঠ যতেœর সঙ্গে ভালোভাবে পড়তে হবে। ব্যাকরণ অংশে পদান্তর, বানান শুদ্ধি বা বাক্য শুদ্ধিকরণ, সাধু-চলিত রূপান্তর, লিঙ্গান্তর, শূন্যস্থান পূরণ ইত্যাদি থাকতে পারে। ভাষাগত দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য ভাবসম্প্রসারণ, অনুচ্ছেদ, এলোমেলো শব্দ সাজানো, একই শব্দের ভিন্নার্থে প্রয়োগ, সমোচ্চারিত শব্দ, এক কথায় প্রকাশ, বাগধারা, প্রবাদ-প্রবচন, বাক্য রচনা, বঙ্গানুবাদ ইত্যাদি থাকে। হয়তো দেখা যাবে, লিঙ্গান্তর, সমাস বা উপসর্গ থেকে ১ বা ২ নম্বর থাকছে কিন্তু তোমাকে পড়তে হবে পুরো অধ্যায়। বাংলায় ভালো করতে হলে নির্ধারিত সময়ে নির্ভুল ও যথাযথ উত্তর দিতে হবে। সেই সঙ্গে খাতায় সুন্দর ও পরিপাটিভাবে উত্তর উপস্থাপনও জরুরি। উত্তর কোনোভাবেই প্রশ্ন বহির্ভূত বা অপ্রাসঙ্গিক হওয়া যাবে না। বাংলার জন্য নবম-দশম শ্রেণীতে পাঠ্য ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ’ বইটি তোমাদের বেশ সহায়তা করবে। সাধারণ জ্ঞান সাধারণ জ্ঞানে মোট ২০ নম্বরের মধ্যে সমাজ থেকে ৫, বিজ্ঞান থেকে ৫, চলতি ঘটনা থেকে ৫ ও আইকিউ থেকে ৫ থাকে। সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার জন্য ষষ্ঠ শ্রেণীতে পাঠ্য সমাজবিজ্ঞান ও সাধারণ বিজ্ঞান ভালোভাবে পড়বে। চলতি ঘটনার জন্য প্রতিদিনের সংবাদপত্র এবং টেলিভিশনের সংবাদ তোমাদের সাহায্য করবে। সাধারণ জ্ঞানে সাধারণত ২০টি প্রশ্ন থাকে এবং প্রত্যেকটির মান ১। প্রশ্নোত্তর খুব সংক্ষিপ্ত হবে। বুদ্ধিমত্তায় গাণিতিক শব্দ, বর্ণ বা চিত্র সম্বন্ধীয় ৫টি সমস্যা দেয়া থাকবে। সাধারণ জ্ঞানে ভালো করতে হলে বিখ্যাত স্থান, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, শব্দ সংক্ষেপ ও পূর্ণরূপ, আবিষ্কার ও আবিষ্কারক, প্রণালির নাম, দেশ, রাজধানী ও মুদ্রা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও স্থপতির নাম, খেলাধুলা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার এবং চলতি ঘটনা গুরুত্বসহকারে পড়তে হবে। কৌশলই এগিয়ে রাখবে তোমাকে সমস্যা সমাধানে তোমাকে কৌশলী হতে হবে। ধরা যাক একটি সমস্যা দেয়া হলো এ রকম: কত হার সুদে কোনো আসলের ৫ বছরের সুদ আসলের ৩/৮ অংশ হবে? ওই সমস্যা সমাধানের জন্য বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় কমপক্ষে নম্বর থাকত ৮ অথচ এবার এর জন্য থাকবে মাত্র ১/২। তোমাকে সমস্যাটি দু-তিনবার পড়ে বুঝতে হবে উত্তর কত হতে পারে। যে চারটি উত্তর দেয়া আছে, সেগুলোও একবার দেখে নেবে। প্রশ্নটি ভালোভাবে দেখলে বোঝা যায়, এখানে আসল, সুদ ও সময়ের একটা যোগসূত্র দেয়া আছে। বের করতে হবে সুদের হার। এখানে মনে মনে চিন্তা করে দেখ, আসল ৮ টাকা হলে সুদ হবে ৮-এর ৩/৮ টাকা বা ৩ টাকা। সময় দেয়া আছে ৫ বছর। তাহলে যা পাওয়া গেল তা হলো, ৮ টাকার ৫ বছরের সুদ ৩ টাকা। এখন ১০০ টাকার এক বছরের সুদ বের করাটা নিশ্চয়ই খুব সহজ হয়ে গেল। আসলে এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য শুধু জ্ঞান বা জানা থাকাই যথেষ্ট নয়, সৃষ্টিশীলতা এবং কল্পনাশক্তিও অত্যন্ত প্রয়োজন। অবজেকটিভ টাইপ প্রশ্নের উত্তর প্রথমে করলেই ভালো হবে। আর একটি বিষয়, প্রতিটি প্রশ্নের সমস্যার সমাধান করতে হবে খুবই দ্রুতগতিতে।



 

Show all comments
  • লোকমান ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, ৯:১২ এএম says : 0
    ভাই কিছু ফন্ট মিসিং
    Total Reply(0) Reply
  • ৫ জানুয়ারি, ২০১৮, ৮:২৬ পিএম says : 0
    আমি গরীবের ছেলে *আমি চাকরি চাই
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।