Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৬ মাঘ ১৪২৯, ১৭ রজব ১৪৪৪ হিজিরী
শিরোনাম

সেই মাশরাফিতেই থামল উড়ন্ত সাকিবরা

ইমরান মাহমুদ | প্রকাশের সময় : ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩, ১২:০০ এএম

ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম ঘুরে এসেও এবারের বিপিএলে ছুটির দিন ছাড়া ফাঁকা গ্যালারিই নিয়মিত চিত্র। তবে গতকাল যেন সেই নিয়মের পায়ে শেকল পড়িয়ে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটের গ্যালারিতে অন্তত ছিল হাজার ১৫ দর্শক। কারণটাও অনুময়ের। দেশের ক্রিকেটের দুই জনপ্রিয় তারকা মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানের দুই হাই প্রফাইল দলের লড়াই বলে কথা! ম্যাচটিও হলো দারুণ উপভোগ্য। সম্ভবত এবারের বিপিএলের সবচেয়ে রোমাঞ্চ জাগানিয়া ম্যাচ। উত্তেজনায় টইটম্বুর সেই ম্যাচে সাকিবের ফরচুন বরিশালের জয়রথ থামিয়ে ২ রানের জয় পেল মাশরাফির সিলেট স্ট্রাইকার্স।
তবে যতটা সহয়ে খেলা হলো রোমাঞ্চের পারদ কিন্তু ছিল তার চাইতেও ঢের উত্তপ্ত। খেলা সুপার ওভারে নিতে শেষ দুই বলে বরিশালের দরকার ছিল দুই ছয়ের, রেজাউর রহমান রাজার বলে এক ছয় মারার পর শেষ বলে বাউন্ডারি আনতে পারলেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। দুই টেবিল টপারের টানটান উত্তেজনার ম্যাচ শেষ পর্যন্ত জিতে নেয় সিলেট। আগে ব্যাট করে শান্তর ৬৬ বলে ৮৯ রানের ইনিংসে ১৭৩ রানের পুঁজি পায় সিলেট। শেষ বল পর্যন্ত উত্তাপ ছড়িয়ে বরিশাল থামে ১৭১ রানে। আসরের প্রথম ম্যাচে যে সিলেটের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল বরিশাল, টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর তারা আবার হারল সেই সিলেটের কাছেই। সাত ম্যাচে ছয় জয়ে সিলেট ধরে রাখল শীর্ষস্থান। সমাস ম্যাচে ৫ জয়ে দুইয়ে বরিশাল।
ম্যাচে রোমাঞ্চের বীজ বপন হয়েছিল শুরুতেই। পাওয়ার প্লের দ্বিতীয় ওভারেই দলীয় ১৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে সিলেট। ১০ রানের প্রথম ওভারের পর দ্বিতীয় ওভারে তিন উইকেট নিয়ে সিলেটকে স্তম্ভিত করে দেন ওয়াসিম। ‘গোল্ডেন ডাক’ পেয়ে বিদায় নেন জাকির হাসান ও মুশফিকুর রহিম। মাঝে একটি চার মেরে আউট হয়ে যান আঙুলের চোট কাটিয়ে ফেরা তৌহিদ হৃদয়ও। সিলেটের ব্যাটিং লাইন আপের যে বাস্তবতা, তাতে ওই তিন উইকেটের ওভারের পর শান্তর কাছে দলের চাওয়া ছিল লম্বা সময় ক্রিজে থেকে। ২৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান সেই দাবি মেটান পুরোপুরি। ঘুরে দাঁড়ানোর জুটিতে সঙ্গী হিসেবে পান তিনি টম মুরসকে।
শান্ত মনোযোগ দেন ইনিংস লম্বা করায়। ইংলিশ ব্যাটসম্যান মুরস চেষ্টা করেন রান বাড়াতে। ষষ্ঠ ওভারের পর শান্ত আরেকটি বাউন্ডারি মারেন পঞ্চদশ ওভারে। তবে এক-দুই করে রান বাড়ান তিনি। মুরস সুযোগ পেলেই সাজা দেন বাজে বলকে। ৮১ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি শেষ হয় মুরসের বিদায়ে। বিপিএল অভিষেকে ৩০ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলেন ২৬ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। শান্ত তখন ফিফটির দুয়ারে। ওয়াসিমের বলে দুর্দান্ত পুল শটে বাউন্ডারিতে তার পঞ্চাশ হয় ৪৮ বলে। এর পরই ডানা মেলেন শান্ত। ফিফটি করার পর ১৮ বলে শান্ত করেন ৩৫ রান। শেষ ৬ ওভারে সিলেট তোলে ৭৬ রান।
পঞ্চম উইকেটে থিসারা পেরারার সঙ্গে যোগ করেন ৩৪ বলে ৬৮ রান। যাতে ১৮ বলে ৩৭ রান শান্তর। পেরেরা ১৬ বলে ২১ করে ফেরার পর শেষ সময়ের দাবিও তিনি মেটান দারুণ ব্যাটিংয়ে। পুল, ড্রাইভ, স্কুপ, ফ্লিক, কাট, মাঠের চারপাশে শট খেলে বাড়াতে থাকেন রান। অষ্টাদশ ওভারে কামরুল ইসলাম রাব্বিকে চার মানে তিনি তিনটি। ইনিংসের শেষ বলেও কামরুলকে বাউন্ডারি মেরে মাঠ ছাড়েন তিনি অপরাজিত থেকে। ইনিংসের প্রথম থেকে শেষ বলটি পর্যন্ত খেলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় শান্ত রান ৬৬ বলে অপরাজিত ৮৯। এবারের বিপিএলে তার দ্বিতীয় ফিফটি এটি। তাতে সিলেট পায় লড়াকু পুঁজি।
তবে প্রতিপক্ষ উড়তে থাকা বরিশালও হার মানার পাত্র তো নয়। রান তাড়ায় বিধ্বংসী শুরু আনেন সাইফ। একের এক পর ছক্কায় উত্তাল করে তোলেন পরিস্থিতি। মোহাম্মদ আমির ও মাশরাফিকে মারেন দুটি করে ছক্কা। সাইফের খুনে ব্যাটিং থামে পঞ্চম ওভারে। ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে ৪১ চলে আসে বরিশালের। মাত্র ১৯ বলে ৩১ করে তানজিম হাসান সাকিবের বলে ফেরেন সাইফ। তিনে নেমে এনামুল হক বিজয় টাইমিং পাচ্ছিলেন না। ৮ বলে ৩ করা বিজয়কেও ফেরান তানজিম।
৪৬ রানে দুই উইকেট পড়ার পর ইব্রাহিম জাদরানের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়েন ছন্দে থাকা সাকিব। বরিশাল অধিনায়ক মাঝের ওভারে রানের চাকা করে দেন উড়ন্ত। চাপ সরিয়ে খেলার গ্রিপ নিয়ে আসেন নিজেদের দিকে। ইব্রাহিম যদিও খেলছিলেন মন্থর। তাকে আড়াল রেখে বড় শটে চাপ সরিয়ে ছুটছিলেন সাকিব। ১৪তম ওভারে এই দুজনকেই ফিরিয়ে সিলেটকে খেলায় নিয়ে আসেন রাজা। রাজার স্কিড করা বল পড়তে না পেরে বোল্ড হয়ে যান জাদরান। ৩৭ বল খেলে ৪১ রান আনেন তিনি। তৃতীয় উইকেটে সাকিব-জাদরানের ৩৯ বলে ৬১ রানের জুটি ভাঙতে নড়ে উঠে বরিশাল। স্ট্রাইক পেয়ে রাজার অফ স্টাম্পমুখী বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্টাম্প খোয়ান সাকিব। ১৮ বলে ঝড়ো ২৯ করে থামেন বরিশাল কাপ্তান।
এরপর দ্রুত খেলার ছবি বদলে যায়, সমীকরণ হয়ে উঠে কঠিন। মাশরাফির ১৬তম ওভারে তিন ছয় মেরে বরিশালকে আবার খেলায় আনেন করিম জানাত। মোহাম্মদ আমিরের পরের ওভারে আবার রান নিতে পারেননি। উল্টো শেষ বলে আউট হয়ে যান তিনি। তানজিম সাকিবের ১৮তম ওভারে দুই ছয়, এক চারে আসে ১৮ রান। শেষ দুই ওভারে ২৩ রানের সমীকরণে আমির নিজের শেষ ওভারে দেন ¯্রফে ৮ রান। ইনিংসের শেষ ওভারে ১৫ রানের সমীকরণে ১২ রান নিতে পারে বরিশাল। এবারের রানখরার বিপিএলে যে ক’টি বিগ ম্যাচ হয়েছে তার মধ্যে সবজাইতে রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২ রানে জিতে জয়ে ফেরে মাশরাফির সিলেটও।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ