Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭, ০৭ সফর ১৪৪২ হিজরী

হা-মীম গ্রুপের ৯১ শ্রমিক বরখাস্ত

আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ

| প্রকাশের সময় : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে : শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে বরখাস্ত, মামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্যে আশুলিয়ায় আরো একটি কারখানার ৯১জন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্তের নোটিস টাঙ্গিয়ে দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
রোববার নরসিংহপুর এলাকার হা-মীম গ্রুপের দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়্যার লি:, প্রিন্টিং এমব্রয়ডারি এ্যাপারেলস লি:, রিফাত গার্মেন্ট লি: ও এক্সপ্রেস ওয়াশিং এন্ড ডায়িং লি: কারখানার বরখাস্ত শ্রমিকদের রঙ্গিন ছবিসহ নোটিস মূল ফটকের দেয়ালে টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে হা-মীম, ফাউন্টেন ও উইন্ডির ৩৪৭ জন শ্রমিককে বরখাস্ত করা হলো।
কারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সংগঠনের সাথে জড়িত, জুয়ায় আসক্ত, মিথ্যাচার, মাঝে মধ্যে অনুপস্থিত, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত না মেনে শ্রমিকদের উস্কে দেয়ার অভিযোগে ৯১ জন শ্রমিককে বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০০৬ এর ২৩(৪) ধারা মোতাবেক সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
হা-মীম গ্রুপের নিরাপত্তা কর্মী জাহিদুল হক জানান, সকালে কর্তৃপক্ষ মূল ফটকের পাশে বরখাস্তকৃত শ্রমিকদের ছবি সম্বলিত নোটিস টাঙ্গিয়ে দিয়েছে।
বেতন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবিতে গত সোমবার আশুলিয়ার ২৫টি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রী, নৌমন্ত্রী ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও আন্দোলন অব্যাহত থাকে। পরদিন মঙ্গলবার কাজ বন্ধ থাকে ৫৫ কারখানায়।     
বিভিন্ন সংগঠনের শ্রমিক নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা আন্দোলনে সমর্থন না দিলেও শ্রমিকরা নিজেরাই সংগঠিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
আর এ বিষয়টি ধরেই শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কোনো একটা পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই খাতের ক্ষতি করতে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।
শ্রমিকদের এই আন্দোলনকে ‘অবৈধ’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, শ্রমিকরা কাজে না ফিরলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরপর পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মঙ্গলবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই ৫৫ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেন, শ্রমিকরা যতদিন কাজে যোগ না দেবে ততদিনের বেতন তারা পাবে না।
বিজিএমইএ-এর ওই সিদ্ধান্ত বুধবার থেকেই কার্যকর করা হয়। বুধবার সকালে কারখানায় এসে বন্ধের নোটিস দেখে ফিরে যান শ্রমিকরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয় আশুলিয়ায়। সেই সঙ্গে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাইপাইল থেকে জিরাব পর্যন্ত পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও আর্মড পুলিশের টহল চলতে থাকে।
শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষ নিয়ে এ জন্য ৭টি মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে ৫টি মামলা পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষের ও দুটি মামলা পুলিশ বাদী হয়ে করেছে। সাংবাদিক, শ্রমিক নেতা, মহিলাদলের নেত্রী, ঝুট ব্যবসায়ীসহ এপর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে ২০ জন।
সরজমিনে রোববারও শিল্পাঞ্চলে ঘুরে পুলিশের কঠোর নজরদারী দেখা যায়। তবে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে উঠেছে। কাজে ফিরতে চাচ্ছে শ্রমিকরা।
হা-মীম গ্রুপের সামনে কথা হয় হাফিজুল ইসলাম মালেক নামে এক অপারেটরের সাথে। তিনি বলেন, আমরা কাজে ফিরতে চাই। কাজ না করলে আমরা খাব কি। জানুয়ারী মাস আসছে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করাতে হবে, হাতে টাকা-পয়সা কিছুই নেই। তার মধ্যে মাস শেষ হলে বাড়ি ভাড়ার জন্য বাড়িওয়ালা চাপ দিবে তাই দ্রুত কারখানা খুলে দেয়ার দাবী জানান তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পোশাক কারখানা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ