Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

চিকিৎসা গবেষণায় বিশ্বে পঞ্চম স্থানে বিএসএমএমইউ

| প্রকাশের সময় : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণায় দীর্ঘদিন থেকে সাফল্য দেখিয়ে আসছে দেশের একমাত্র মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়’। আর এই অব্যাহত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি স্পেনের সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ ও যুক্তরাষ্ট্রের স্কপাস প্রকাশিত জরিপে দেশের ১১টি নেতৃস্থানীয় বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ইউনিভার্সিটির সাথে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ে সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। এ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে অসংক্রামক রোগ- বিষয়ক গবেষণাসহ নানা কার্যক্রম পেয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।
বিএসএমএমইউ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অদ্যাবধি মোট এক হাজার ৪৪৭টি গবেষণা কর্ম সম্পন্ন হয়েছে। শুধু ২০১৬ সালে ৭০ জন শিক্ষক ও ২০০ জন শিক্ষার্থীকে গবেষণার জন্য অনুদান দেয়া হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করায় সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ ও যুক্তরাষ্ট্রের স্কপাস প্রকাশিত জরিপে বাংলাদেশের ১১টি নেতৃস্থানীয় বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পঞ্চম স্থান অধিকার করে নিয়েছে বিএসএমএমইউ। প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণা, উদ্ভাবন ও সমাজে এর প্রভাব বিবেচনায় প্রতি বছরই শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে থাকে। স্পেনের কয়েকটি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত হয় সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ এবং একাডেমিক জার্নালের ডাটাবেজ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের স্কপাস। এদিকে সম্প্রতি স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় স্বর্ণপদক লাভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের প্রফেসর ডা. এম এ শাকুর, এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড মেটাবলজিম বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. আবুল হাসনাত ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: সুব্রত কুমার বিশ্বাস।
বিএসএমএমইউর ভিসি প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, চিকিৎসাসেবার গুণগত মানোন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ধরনের গবেষণা প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও পাঁচ বছরের মধ্যে দুই বছর বাধ্যতামূলক গবেষণা করতে হয়। বিশ্বের উন্নত অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এখানেও গবেষণা, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের কোলাবরেশন রয়েছে এবং গবেষণা কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।  
জানা গেছে, উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ে চলতি বছরের ১৯ নভেম্বর বিএসএমএমইউর সঙ্গে শিকাগো ইউনিভার্সিটির দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এ চুক্তির ফলে অসংক্রামক রোগ বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হƒদরোগ, ক্যান্সার ও পরিবেশ দূষণ সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যা-বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। পাশপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নততর চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এছাড়া জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের এইমসসহ বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সাথেও অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ও সংস্থার অংশিদারী গবেষণার চুক্তি রয়েছে। তার মধ্যে নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়, এইমস ছাড়াও রয়েছে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, মাহিদোল বিশ্ববিদ্যালয়, রক ফেলার ফাউন্ডেশন, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআরবি, ইএসএইড, সেভ দি চিলড্রেন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, বিএসএমএমইউর রয়েছে নিজস্ব রিসার্চ এডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড প্রমোশন সেল। বিশ্ববিদ্যারয়ের প্রো-ভিসি (গবেষণা) প্রফেসর ডা. মো: শহীদুল্লাহ সিকদারের নেতৃত্বে ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো ‘বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা দিবস’ পালিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় সম্পাদিত গবেষণাসমূহ প্রকাশ করা হয়।
ডা. মো: শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন,  দীর্ঘদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাকে পৃথকভাবে গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে। তবে শিক্ষা এবং গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এরই ধারাবাহিতকাতয় স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অনেক বিষয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, এক হাজার ৯০৪ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন পাঁচ হাজারের বেশি রোগী সেবা নেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি অনুষদের অধীনে রয়েছে ৫৩টি বিভাগ। অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ৪২টি। এ ছাড়া ৯০টিরও বেশি উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষা-বিষয়ক কোর্স পরিচালনা করা হয়। 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর