Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৩ চৈত্র ১৪২৫, ১৯ রজব ১৪৪০ হিজরী।

আগামী বছরে বিশেষ বাজেট : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, আগামী বছর থেকে আমরা আমাদের যে সাধারণ বাজেট সচরাচর উপস্থাপন করি তার সাথে বিশেষ একটি বাজেট দেব। সেটা হবে ট্রান্সফরমেশনের উপর। এটিতে ক্যাপিটাল প্রজেক্ট চলবে। এক্ষেত্রে ক্যাপিটাল প্রজেক্টের অন্তর্গত পদ্মা সেতু ও রূপপুর প্রকল্প ও মহেশখালী পাওয়ার সেন্টার এবং মেট্রোরেল প্রকল্প থাকবে।
বৃহস্পতিবার দশম জাতীয় সংসদে প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর থেকে আমি শুধু ইঙ্গিত দিতে চাই। আমরা যে বাজট উপস্থাপন করি সেই বাজেট উপস্থাপনটাও অনেক বদলে যাবে। এখন আমাদের বাজেট তিন লাখ কোটি টাকার বাজেট। এই তিন লাখ কোটি টাকার বাজেট থেকে এই সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যে বাজেট দিব তখন সেটি হবে ৪ লাখ ৪০ হাজার কোটি থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার। এ লক্ষ্যমাত্রা আমাদের রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের সময় আমাদের দেশের ৭০ শতাংশ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করত। এখন সেই অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।
তিনি বলেন, কিছু লোক আছে সর্বদাই রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল থাকে। এই হার ১০ থেকে ১৪ শতাংশ। এরা হলেন প্রবীণসহ অসহায় কিছু লোক। এরা সবসময়ই রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল থাকবে। আমরা আস্তে আস্তে সেই অবস্থায় চলে যাচ্ছি। এক সময় এরাই শুধু রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল থাকবে।
মুহিত বলেন, এ দেশের মানুষ এখন বিশ্বাস করে না যে, জীবন ধারণ কষ্টসাধ্য, তারা মনে করে, জীবন ধারণের মান আরও উপরে উঠবে। ২০৪১ সালের মধ্যে জীবনমান অনেক উন্নত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী, ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবো আমরা।
তিনি বলেন, লক্ষ্য ছিল মুক্তবাজার অর্থনীতি। মুক্তবাজার আজও প্রতিষ্ঠা পায়নি, হয়তো ২০৩০ সালে মুক্তবাজার প্রতিষ্ঠা পাবে। মুক্তবাজার অর্থনীতি না হওয়ার কারণ আমাদের রাজনৈতিক অবস্থা ও প্রেক্ষাপট সেভাবে ছিল না। মুক্তবাজারে কোনো ধরনের কাস্টম শুল্ক থাকবে না। হয়তো সেটা পুরোপুরি কোনো দিনই হবে না। কেননা মানুষের মধ্যে যেমন কিছু ভালো রিপু থাকে, তেমন খারাপ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় না। বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্র সংকোচন করে জেলায় জেলায় পাঠিয়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের রাজনীতিবিদদের যে ব্যর্থতা তা আশা করি কাটিয়ে উঠতে পারবো।
তিনি বলেন, ৬৮ বছর আগে আমাদের দেশ বিদেশি কলোনি থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু ৬৮ বছরে আমাদের সীমানা নির্ধারিত হয়নি, এখন আমরা একটা সীমানা পেয়েছি, যার সীমানা নির্ধারিত। দেশের মানুষ জানে তার সীমানা কতটুক। এটা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই হয়েছে।
তিনি বলেন, এই রেমিট্যান্সকে আমরা আরও অনেক বেশি বাড়াতে পারব, যখন স্কিল ইমপ্রুভমেন্ট প্রোগ্রামটি কার্যকর হবে। এই প্রোগ্রামের জন্য আমরা এক কোটি ৪৫ লাখ টাকা রাখার পরিকল্পনা করেছি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এজন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করে এই উদ্যোগটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, এটাতেই রয়েছে আমাদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন। স্কিল ইমপ্রুভমেন্ট না করলে আমরা যেসব সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখছি সেটা পূরণ হবে না। এই স্বপ্ন পূরণের জন্য আরেকটি বিশেষ দিকের দিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশের জনগণই তার শক্তি। বাংলাদেশের এক একটি জেলাতে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখের মত লোক আছে। পৃথিবীর প্রায় ৬০টি দেশের জনগণ এই সংখ্যার নিচে। ঢাকা ও চট্টগ্রামকে বাদ দিয়ে আমাদের দেশে বস্তুতপক্ষে ৬৪টি দেশ আছে।  সুতরাং আমাদের এ বিষয় নজরে রাখতে হবে এবং তা করতে হবে।
মুহিত বলেন, এই দেশের ভেতর দেশগুলো যেন উন্নয়নের পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে পারে সেজন্য তাদের ক্ষমতায়ন করতে হবে। অর্থাৎ আমাদের জেলা কাউন্সিল ও জেলা পরিষদগুলোর ক্ষমতায়ন ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে এবং আমাদের কেন্দ্রীয় যে ব্যুরোক্রেসি বা আমলাতন্ত্র আছে, তা সংকোচন করে এর একটি বড় অংশকে জেলায় জেলায় পাঠিয়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, এখানে বাধাবিপত্তি আসবে। কিন্তু সেগুলো অসম্ভব রকমের স্বার্থহানা বাধাবিপত্তি। এই বাধা বিপত্তির ঊর্ধ্বে আমাদের উঠতে হবে।




 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ