Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

সীমান্ত হত্যা এবং বন্ধুরাষ্ট্রের সংজ্ঞা

প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এমএম খালেদ সাইফুল্লা : আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যানের মতে, ২০১৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এগার মাসের হিসাবে বিএসএফ ৪৫ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে ৩১ জন গুলিতে এবং বাকি ১৪ জন শারীরিক নির্যাতনে মারা গেছে। এই সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। ওদিকে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার জানিয়েছে, চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ৪১ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে বিএসএফ। তাদের গুলিতে আহত হয়েছে আরো ৬০ জন। তাছাড়া ২৭ জন বাংলাদেশীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বিএসএফ। প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ২০১০ সালে ৭৪ জনকে হত্যার পর ২০১৪ সাল পর্যন্ত নিহতদের সংখ্যা কিছুটা হলেও কমে এসেছিল। ২০১১ সালে ৩১ জন, ২০১২ সালে ৩৮ জন এবং ২০১৩ সালে মারা গিয়েছিল ২৯ জন। গত বছর বিএসএফের হাতে মৃত্যু ঘটেছে ৩৩ জন বাংলাদেশীর। কিন্তু চলতি বছরে এসে বিএসএফ আবারও অতীতের মারমুখী ভ‚মিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
কারণ ব্যাখ্যাকালে মানবাধিকার সংস্থার নেতারা বলেছেন, ভারতের সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের হত্যার পরিবর্তে গ্রেফতার ও হস্তান্তরের ব্যাপারে সমঝোতা ও চুক্তি থাকলেও বিএসএফ সেসবের কিছুই মানছে না। বিএসএফ বরং দেখামাত্র গুলি করার নীতিই অনুসরণ করে চলেছে। দ্বিতীয় কারণ হিসেবে এসেছে হত্যাকাÐের বিচার না হওয়া। বস্তুত কুড়িগ্রামের কিশোরী ফেলানীসহ কোনো একজন বাংলাদেশী হত্যার বিচার ও শাস্তি হয়নি বলেই বিএসএফ ক্রমাগত আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে পেরেছে। সেজন্যই কমার পরিবর্তে সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যাকাÐ আরো বেড়েছে। বিএসএফ শুধু হত্যাই করছে না, অনেক ক্ষেত্রে নিহতদের লাশও নিয়ে যাচ্ছে ভারতের অভ্যন্তরে। বলা দরকার, মানুষ হত্যা করে এবং তার লাশ নিয়ে গিয়েও সন্তুষ্ট হতে পারছে না বিএসএফ। আগের মতো মানুষ তো অপহরণ করছেই, বিএসএফের সৈনিকেরা বাংলাদেশের অনেক ভেতরে ঢুকে গরুও চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে প্রায় নিয়মিতভাবে।
খবর শুধু এটুকুই নয়। ভারতীয় খবরের ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত অন্য এক খবরে জানা গেছে, ভারত সম্প্রতি বাংলাদেশ সীমান্তে চালকবিহীন ড্রোন বিমান ব্যবহার করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ড্রোন তথা আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকেল বা ইউএভি সীমান্ত এলাকার ১০ থেকে ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় চলাচল করবে। আকাশ থেকে ছবি তোলার পাশাপাশি প্রয়োজন দেখা দিলে ড্রোন বিমান থেকে বোমা ফেলা হবে। গুলিও বর্ষণ করবে ভারতীয়রা। এ ব্যাপারে বিএসফকে সহায়তা করবে ভারতের বিমান বাহিনী।
আমরা উদ্বিগ্ন এজন্য যে, বিএসএফের সৈনিকরা স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের নিরীহ নাগরিকদের হত্যা করে এসেছে। চাষাবাদ করার বা গরুকে ঘাস খাওয়ানোর মতো কোনো জরুরি প্রয়োজনে সীমান্তের কাছাকাছি নিজেদের জমিতে গেলেও বাংলাদেশীরা বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে সব জেনে-শুনেও ভারতের কাছে বলিষ্ঠভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছে না আওয়ামী লীগ সরকার। এ অবস্থারই সুযোগ নিচ্ছে বিএসএফ। তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকেই না বলে পারা যায় না যে, ফেলানীসহ কোনো বাংলাদেশীই আকস্মিক দুর্ঘটনার শিকার হয়নি। তাদের রীতিমতো টার্গেট করে, ফেলানীর মতো ক্ষেত্রে পয়েন্ট বø্যাংক দূরত্ব থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সর্বব্যাপী নিন্দা ও প্রতিবাদের মধ্যেও এখনো সে কর্মকাÐই চালিয়ে যাচ্ছে বিএসএফ।
স্মরণ করা দরকার, বিডিআর যখন ছিল তখন বিএসএফ কিন্তু এত বেশি দুঃসাহস দেখাতো না। পদুয়াসহ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যে সমুচিত জবাব দেয়ায় বিডিআরকে বিএসএফ বরং বাঘের মতো ভয় করতো। একই বিএসএফ বর্তমান বিজিবিকে সামান্য পাত্তা পর্যন্ত দিচ্ছে না। এর কারণও আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রনীতি। দেশের মানুষের জীবন রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থকে নিয়ে তৎপর আমরা হচ্ছি না। এ অবস্থার সুযোগ নিয়েই বিএসএফ তথা ভারত বুঝিয়ে চলেছে, ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ আসলে কাকে বলে!
আমরা মনে করি, এমন অবস্থা চলতে পারে না। সরকারকে অবশ্যই প্রতিটি হত্যাকাÐ, অপহরণ এবং গরু চুরির মতো ঘটনার জন্য ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানাতে হবে। ভারত সাড়া না দিলে এবং বিএসএফের খুনি জওয়ানদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে সরকারকে সীমান্তের সুরক্ষার জন্য আরও তৎপর হওয়ার কোন বিকল্প নেই।
ষ লেখক : যুগ্ম মহাসচিব, কেন্দ্রীয় কমিটি ও সভাপতি, ঢাকা মহানগর, এলডিপি

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।