Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫, ১৩ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

সুইডেনে উচ্চশিক্ষা

| প্রকাশের সময় : ২ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

সুইডেন। উত্তর ইউরোপের আধুনিক একটি দেশ। শান্ত পরিবেশ, বিশ্বস্বীকৃত গবেষণাকর্ম, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, প্রচুর স্কলারশিপ, গ্রুপ ওয়ার্ক, স্বাধীন চিন্তার সুযোগ- এসবের জন্য উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সুইডেন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ৮০টি দেশের শিক্ষার্থীরা পিএইচডি গবেষণারত। সুইডেনে পড়াশোনা সম্পর্কে জেনে নিন।
পড়ার বিষয়
পরিবেশ বিজ্ঞান, ভাষা শিক্ষা, কৃষি গবেষণা ও ইঞ্জিনিয়ারিং- এসব বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য সুইডেনকে আদর্শ বলা হয়। তবে এর পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় উল্লেখযোগ্য। বিষয়গুলো হলো- এমবিএ, টেলিকমিউনিকেশন, আইন, ম্যাথমেটিক্স, জনস্বাস্থ্য, আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন, মেডিক্যাল, অর্থনীতি, ভূগোল, হিউম্যান রিসোর্স, হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট, ফিল্ম ও মিডিয়া, লাইফ সাইন্স ইত্যাদি।
ভাষা ও শিক্ষাব্যবস্থা
সুইডেনের অফিসিয়াল ভাষা সুইডিশ হলেও প্রায় ৮৯% মানুষ ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারে। তাই সেখানে ইংরেজিকে সেকেন্ড ল্যাংগুয়েজ বলা হয়। এখানে সুইডিশ ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমেই পড়াশুনা করা যায়।
যোগ্যতা
ভর্তির শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ভেদে বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা যাচাই করা হয়। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একাডেমিক ফলাফল দেখে আবার কখনো বা ভাষাগত যোগ্যতা দেখে। সুতরাং ভাষা ও বিগত পরীক্ষাগুলোর ফলাফল উভয়ই ভালো হওয়া দরকার। সুইডিশ ভাষার জন্য আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট (কলাভবন, ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়) থেকে কোর্স করতে পারেন। অপরদিকে, ইংরেজি ভাষার দক্ষতাস্বরূপ ঞঙঊঋখ বা ওঊখঞঝ-এর প্রাপ্ত নাম্বার দেখা হয়। ঞঙঊঋখ পরীক্ষার মোট ১২০ নাম্বারে ন্যূনতম ৮৫ নাম্বার এবং ওঊখঞঝ পরীক্ষার ৯.০ পয়েন্টের মধ্যে ন্যূনতম ৬.৫ পেতে হবে। এ ক্ষেত্রে অনলাইনে বসেও ওঊখঞঝ ও ঞঙঊঋখ পরীক্ষায় নিজের যোগ্যতা যাচাই করতে পারেন।
সুইডেনে বছরে দুটি সেমিস্টার। একটির মেয়াদ আগস্টের শেষ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত। অপরটি মধ্য জানুয়ারি থেকে জুনের শুরু পর্যন্ত। বিদেশে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভিসা নিয়ে প্রসেসিং করতে প্রায় ৬ মাস এমনকি এক বছরও সময় লেগে যায়। তাই যে সেমিস্টারে ভর্তি হতে আগ্রহী সেই সময়ের দিকে খেয়াল রেখে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
পড়াশুনা ও থাকার খরচ
শুরুতেই অনলাইনে আবেদনপত্রের জন্য প্রায় ৯০০ ঝঊক (১০৫৫৭ টাকা) ব্যয় করতে হয়। তাছাড়া বিষয়ভেদে অনার্স, মাস্টার্সে বছরে ন্যূনতম ৮০,০০০ ঝঊক থেকে ১,৪০,০০০ ঝঊক (৯,৩৮,৪০০টাকা-১৬,৪২,২০০টাকা)-এরমধ্যে খরচ পড়ে। এছাড়া থাকা, খাওয়া ও অন্যান্য খরচবাবদ বছরে প্রায় ৭৩৯৯ ঝঊক (৮৫৬২৯ টাকা) খরচ হয়।
স্কলারশিপ
আগেই বলেছি, সুইডেনে প্রচুর স্কলারশিপ আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
১. ঞযব ঝবিফরংয ওহংঃরঃঁঃব ঝঃঁফু ঝপযড়ষধৎংযরঢ় : এই স্কলারশিপ মূলত অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে দেয়া হয়। এটি প্রায় ৭৫%-১০০% খরচ বহন করে। এর কার্যক্রম মার্চ মাস থেকে শুরু হয়। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করা যায়। যঃঃঢ়://িি.িংঃঁফুরহংবিফবহ.ংব/ঝপযড়ষধৎংযরঢ়ং/ঝও-ংপযড়ষধৎংযরঢ়ং/ঞযব-ঝবিফরংয-ওহংঃরঃঁঃব-ঝঃঁফু-ঝপযড়ষধৎংযরঢ়ং/
২. ঝবিফরংয ওহংঃরঃঁঃব এঁবংঃ ঝপযড়ষধৎংযরঢ় : এটি মূলত পিএইচডি ও পোস্ট-ডক্টোরাল শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়। এটি পিএইচডি শিক্ষার্থীর জন্য মাসে ১২০০ ঝঊক বা ১,৪০,৭৬০ টাকা এবং পোস্ট-ডক্টোরালের জন্য মাসে ১৫,০০০ ঝঊক বা ১,৭৫,৯৫০ টাকা বহন করে।
৩. ইরামাস মানডাস স্কলারশিপ প্রোগ্রাম : এটা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে থাকে। প্রায় ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রোগ্রামের সাথে যুক্ত। সুইডেনের খঁহফ টহরাবৎংরঃু, ঝবিফরংয টহরাবৎংরঃু ড়ভ অমৎরপঁষঃঁৎধষ ংপরবহপব, টঢ়ঢ়ংধষধ ঁহরাবৎংরঃু ও কধৎড়ষরহংশধ ওহংঃরঃঁঃবঃ গবফরপধষ টহরাবৎংরঃু –এই প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত। আরো জানতে ভিজিট করুন- যঃঃঢ়://িি.িংপযড়ষধৎং৪ফবা.পড়স/২৯৭৯/বৎধংসঁং-সঁহফঁং-ংপযড়ষধৎংযরঢ়ং-ভড়ৎ-ফবাবষড়ঢ়রহম-পড়ঁহঃৎরবং/ এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রোগ্রামের যোগসূত্র থাকায় সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করেও বৃত্তি পাওয়া যায়।
তাছাড়া টঘঊঝঈঙ ফেলোশিপ প্রোগ্রাম থেকেও সুইডেনে পড়ার জন্য স্কলারশিপ দেয়া হয়। মজার ব্যাপার হলো- বিভিন্ন বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতা, ডিজাইন, লেকচার দেয়া- ইত্যাদির আয়োজন করেও বিদেশি শিক্ষার্থীরা সুইডেনে পড়াশুনার জন্য স্কলারশিপ পেতে পারেন। এ বিষয়ে জানতে দেখুন-িি.িংঃঁফুরহংবিফবহ.ংব/ংপযড়ষধৎংযরঢ়ং/ংপযড়ষধৎংযরঢ়-পযধষষবহমবং/
ভর্তি ও ভিসা প্রসেসিং
অনলাইনে বা ডাকযোগে জরুরি কাগজপত্র জমা দেয়ার পর স্কলারশিপ পাওয়া সত্ত্বেও একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেশের ব্যাংকে জমা আছে কিনা সেই ব্যাপারে একটা নিশ্চিতপত্র দেখাতে হয়। কেননা, পড়াশুনার বাইরে যে কোনো আপদকালীন সময়ে টাকার প্রয়োজন পড়তে পারে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে সুইডিশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করুন। ভর্তি নিশ্চিত হলে ইন্টারভিউ নিয়ে হাইকমিশন থেকেই ভিসা প্রদান করা হয়।
যোগাযোগ- সুইডিশ হাইকমিশন- ঊসনধংংু ড়ভ ঝবিফবহ, ঐড়ঁংব ১, জড়ধফ ৫১, এঁষংযধহ ২, উযধশধ ১২১২, ইধহমষধফবংয
ষ  রবিউল কমল



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।