Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

বন উজাড় করে জমি দখল করছে প্রভাবশালী মহল নীরব কর্তৃপক্ষ

| প্রকাশের সময় : ১২ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) উপজেলা সংবাদদাতা : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের বন উজাড় করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গত ২৯ ডিসেম্বর বনের উপকারভোগীরা রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসকে কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সরেজমিন গোদাগাড়ীর ফরাদপুর এলাকায় পদ্মার চরের বনটিতে গিয়ে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। উপকারভোগীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বনের গাছ কেটে ফেলে ও বনে অগ্নিসংযোগ করে ফাঁকা জমি দখল করছেন। এরপর তারা সেখানে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করছেন। এদের সঙ্গে উপকারভোগীদেরও কয়েকজন জড়িত আছেন। ‘সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন’ প্রকল্পের আওতায় বিভাগীয় সামাজিক বনবিভাগ ২০১১-১২ অর্থবছরে ৪০ হেক্টর জমিতে এক কোটি পাঁচ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয়ে বনটি গড়ে তোলে। এলাকার ২৪৯ জন ব্যক্তিকে উপকারভোগী করে সেখানে রোপণ করা হয় বিভিন্ন প্রজাতির এক লাখ ৩২ হাজার গাছ। গাছগুলো এখন বেশ বড় হয়ে এসেছে। এ অবস্থায় সেখানে নজর পড়েছে দুর্বৃত্তদের। উপকারভোগীদের অভিযোগ, গেল গ্রীষ্মকালে ফরাদপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন কেটু, আজাহার আলী ও আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বনের পশ্চিম, পূর্ব-পশ্চিম, দক্ষিণ ও উত্তর কোণে অগ্নিসংযোগ করেন। তাদের সঙ্গে আছেন উপকারভোগী আল্লাম হোসেন, জাহির হোসেন, সারোয়ার হোসেন নিপু। বর্ষা মৌসুমে বনে পানি প্রবেশ করলে উপকারভোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা নৌকায় করেও গাছ কেটে নিয়ে যান। এতে বনের ৩০০ বিঘা জমি ফাঁকা হয়ে যায়। বন্যার পানি নেমে গেলে এরমধ্যে তারা প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে কলাই, ৭৫ বিঘা জমিতে খেসারি ও ২৫ বিঘা জমিতে মসুর ডালের চাষাবাদ করেছেন। কিছু জমির ফসল এরই মধ্যে কাটতে শুরু করেছেন তারা। সরেজমিন গেলে বনের পাহারাদার আবদুল হাকিম ও উপকারভোগী রমজান আলী, জবিয়ার রহমান এবং সাবিয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে জানান, ২০০ বিঘা জমিতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ফসল হবে। এই টাকার অংশের ভাগ পেতে স্থানীয় বন কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অভিযোগ করতে গেলে উল্টো তাদেরকেই হুমকি দেয়া হচ্ছে। বন সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, গোদাগাড়ী থানায় অভিযোগ করা হলে বিষয়টি দেখভালের জন্য প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পার্থ প্রতীমকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা খুবই প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি কোনো ব্যবস্থা তো নিচ্ছেনই না; বরং বন উজাড়কারীদের সঙ্গেই তার দহরম মহরম দেখা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, উপকারভোগী না এমন লোকজন বনের জমি দখল করে চাষাবাদ করায় বিষয়টি উপজেলা বন কর্মকর্তা ময়েন উদ্দিনকেও জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনিও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এ ব্যাপারে চুপ থাকার জন্যই তিনি উপকারভোগীদের নির্দেশ দিচ্ছেন। ফলে যে উদ্দেশ্যে নিয়ে সরকার এই বন করেছে তা ভেস্তে যাচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বন কর্মকর্তা ময়েন উদ্দিন দাবি করেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। উপকারভোগী নয়, এমন ব্যক্তিদের জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগামিতে বন সম্প্রসারণ করা হবে। সেখানেও নতুন কিছু উপকারভোগীর সৃষ্টি হবে। ওই তালিকায় তাদের নাম আসতে পারে। এ জন্য তারা জমি দখল করে চাষাবাদ করছেন। তবে তারা বনে অগ্নিসংযোগ করেছেন বা গাছ কেটেছেন কী না তা আমার জানা নেই।’ বন উজাড় করে চাষাবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন কেটু বলেন, স্থানীয়রা বনের ভেতর চাষাবাদ করেন, এতে তিনি সহায়তা করেন। কিন্তু চাষাবাদের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। বন উজাড় করে চাষাবাদ নয়, বনের ফাঁকা জমিতে চাষাবাদ করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। বন উজাড়কারীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেমতলী তদন্ত কেন্দ্রে ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) পার্থ প্রতীম বলেন, বনে ভেতর দুটি পক্ষ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তিনি সবার সঙ্গেই কথা বলেছেন। এতে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠতেই পারে। তবে তার কোনো উদ্দেশ্যে নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, তিনি সেভাবেই কাজ করবেন। গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি হিফজুল আলম মুন্সী বলেন, বনবিভাগের গাছ কাটার ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেননি, ওই এলাকার ফসল সংক্রান্ত ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বনবিভাগের কোন ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষ এ বিষয়ে অবহিত করেননি।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।